প্রকাশিত : ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৮:৩৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বরিশালে আট দলের সমাবেশে চরমোনাই পীরের হুঁশিয়ারি

‘৫৩ বছর সাম্য-ন্যায়বিচার পাইনি, একবার ইসলামকে সুযোগ দিন’

মাসুম বিল্লাহ;

বরিশালের বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত আট দলের বৃহত্তর সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম দেশের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও ন্যায়বিচারের সংকট তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার পর ৫৩ বছরে মানুষ সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের স্বপ্ন দেখলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির শাসন দেখলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামকে তার যথাযথ জায়গা দিতে কেউ আগ্রহী হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি বলেন, “একবার ইসলামকে সুযোগ দিন—ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলে দেশে আর মায়ের কোল খালি হবে না, চাঁদাবাজি ও অবিচার থাকবে না।”

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাই পীর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, বরিশালের মাটি সবসময় ইসলামের পক্ষে ছিল এবং জনতার এই উপস্থিতি তা আবারও প্রমাণ করেছে। তিনি দাবি করেন, জনগণ বছরের পর বছর ধরে যে ন্যায় ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছে, সমাবেশের মাধ্যমে সেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা আবারও জাগ্রত হয়েছে।

বিগত সরকারের দুর্নীতি, অর্থপাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকার মুখরোচক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তার অভিযোগ, রাজনীতির নামে দেশে খুন-গুম, টাকা পাচার এবং বিদেশি প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার দায় জনগণকে বহন করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলার জমিনে খুনি, চাঁদাবাজ ও টাকা পাচারকারীদের আর জায়গা হবে না।”

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে চরমোনাই পীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল পরিবর্তনের আশায়; কিন্তু সেই আশার জায়গায় আবারও অশান্তি, খুন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ মানুষকে হতাশ করেছে। তিনি দাবি করেন, দেশজুড়ে মানুষের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে—এ অবস্থায় যারা এখনো জনতার প্রত্যাশা বুঝতে পারছে না, ইতিহাস তাদেরও ছাড়বে না।

সমাবেশ শেষে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জামায়াত নেতা ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরসহ অসুস্থ নেতাদের জন্য দোয়া করেন। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নেতারা বক্তব্য দেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়