মাসুম বিল্লাহঃ
দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দুর্নীতি দমন এবং ন্যায়ের নিশ্চয়তা ছাড়া দেশের কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।
শনিবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫: অর্থনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ছোট একটি ভূখণ্ডে ১৮ কোটি মানুষের বসবাস—এ ধরনের ঘনবসতি পৃথিবীতে বিরল। এই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা জরুরি।”
তিনি উল্লেখ করেন, প্রান্তিক পরিবারের প্রায় ২৫ শতাংশ শিশু প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধা না থাকা বা জীবিকার তাগিদে অল্প বয়সেই পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ে। তাঁর মতে, এই ড্রপআউট হওয়া শিশুদের অনেকেই ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত, যদি তারা সঠিক সুযোগ পেত।
উদ্যোক্তাদের সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন শিল্প স্থাপন করতে গেলে জমি থেকে শুরু করে অনুমোদন—সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতার মুখে পড়তে হয়। “এক মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অনেকসময় এক বছর লেগে যায়। কোথাও দুর্বৃত্ত, কোথাও রাষ্ট্রীয় জটিলতা—ফলে উদ্যোক্তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পিছিয়ে যায়,” বলেন তিনি।
ব্যাংক ঋণ অপব্যবহারের বিষয়েও তিনি সতর্ক করে বলেন, সঠিকভাবে ব্যবহার না হলে ঋণ নন-পারফর্মিং হয়ে পড়ে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।
ব্যবসায়ীদের ‘সুবিধাবাদী’ ভাবার প্রবণতা নিয়ে তিনি বলেন, অনেকেই সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন বাধ্য হয়ে—কারণ কাঙ্ক্ষিত ব্যবসায়িক পরিবেশ এখনো গড়ে ওঠেনি।
রাজনীতি ও অর্থনীতির সম্পর্ক তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, “রাজনীতি সঠিক পথে না থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি স্বাভাবিকভাবে এগোতে পারে না।” তিনি শিক্ষা, দুর্নীতি দমন ও ন্যায়বিচার—এই তিনটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
দেশের মেধাবী প্রজন্ম বিদেশে সফল হলেও দেশে ফিরে না আসার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরি করতে না পারায় অনেকেই দেশে ফেরার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
তিনি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।