+

"আমি দাবি পূরণের প্রত্যাশায় লেখালেখি নির্বাচন করেছি"

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ৯ দিন ১৩ ঘন্টা ৩ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 1990
...

 

 

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম তরুণ কথাসাহিত্যিক তকিব তৌফিক। সামাজিক, ত্রয়ী, কথোপকথন কিংবা কবিতা সবকিছুতেই তার সমান বিচরণ। ঘরবন্দী সময়েও তার লেখা উপন্যাস 'রিঙ্গণপুর' সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। বর্তমান বাংলা সাহিত্য ও লেখালেখির বিষয় সম্পর্কে জানতে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক তকিব তৌফিকের মুখোমুখি হয়েছেন জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তার স্টাফ রিপোর্টার শিপন নাথ।

 

শিপন:- জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তার পক্ষ থেকে জানায় আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। করোনার এই দুঃসময়ে কেমন আছেন?

 

তকিব:- সংকটের এই দিনে ভালো থাকা কঠিন। প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনো ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, হয় অর্থনৈতিক না হয় মানসিক ভাবে। সেই দৃষ্টিকোণে ভালো আছি বলা কঠিন। তবে ভালো থাকার প্রচেষ্টায় আছি।

 

শিপন:- লেখালেখির জগৎে আপনার প্রবেশ কিভাবে?

 

তকিব:- লেখক হব কিংবা লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নেব এমন মনোনিবেশ ছিল না। কিন্তু পড়তে ভালো লাগতো। পড়া অভ্যাস লেখার চর্চায় নিয়ে এসেছে। জানি না এখনো লেখক হতে পেরেছি কি না! তবে জাতির দাবি পূরণে লেখালেখির চর্চা করছি।

 

শিপন:- মহান একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০ কেমন গেল আপনার?

 

তকিব:- প্রতি বছরই নতুন ভাবে উপভোগ করি। গ্রন্থমেলা'২০ ও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রতিবার আনন্দটা অতীতের থেকে বেড়ে যায়। এইবারও তাই। উচ্ছ্বাসে ভরা।

 

শিপন:- আপনার উপন্যাস রিঙ্গণপুর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক প্রচার প্রচারণা হচ্ছে। পাঠকদের উদ্দেশ্যে রিঙ্গণপুর নিয়ে কিছু বলতে চান?

 

তকিব:- 'রিঙ্গণপুর' আমার এক ব্যতিক্রম চিন্তাকে লিপিতে রূপ দেয়া। যে লিপি সার্বজনীন হবে। যেহেতু এখনো প্রকাশিতব্য সেহেতু বিস্তারিত বলছি না। তবে এটুকুই বলব এই বইটি তরুণদের জন্য একটা বড় ভূমিকা রাখবে।

 

শিপন:- ২০২১ গ্রন্থমেলা যদি অনুষ্ঠিত হয় তবে  রিঙ্গণপুরের পরে কি আর কোনো বই উপহার দেবার সম্ভাবনা আছে?

 

তকিব:- আমি তিনটি উপন্যাস নিয়ে কাজ করছি। যার মধ্যে রিঙ্গণপুর একটি এবং পাঠক মহলে সকলেই জানে যে 'নিদাস্তিয়া' আমার ত্রয়ী উপন্যাস যার প্রথম খণ্ড গ্রন্থমেলা'১৯ এ নালন্দা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসের ২য় খণ্ডও আমার লিখে শেষ করতে হবে। এর বাইরে আরো একটি উপন্যাসের কাজ করছি, যার নাম আরও দেরিতে জানিয়ে দেব।

 

শিপন:- সামাজিক, বাস্তবধর্মী, ত্রয়ী ধরণের উপন্যাসে আপনি বেশ তুখর। তবে আপনার লিখা কবিতাগুলো খুবই পাঠক সমাদৃত। কবিতার বই বা গান প্রকাশের ইচ্ছে আছে? 

 

তকিব:- আমি সামাজিক লেখা লিখতে ভালোবাসি।  দায়িত্ব হিসেবে তা গ্রহণ করি। আর সেটা পালনের চেষ্টা করি।

এছাড়া কবিতা এবং গান নিয়ে যদি বলি, আসলে দুটোই প্রচণ্ড রকম সাধনার কাজ। উপন্যাস গল্পও তাই। কিন্তু কবিতার ব্যাপারে চর্চা আর অভিজ্ঞতা হতে হয় বই প্রকাশ না করেই। আমিও তাই করছি। বই হিসেবে কবিতা ছাপবে কিনা সেটা সময় নির্ভর আর আমার যোগ্যতা নির্ভর। আর গানের বিষয় নিয়ে এখন-ই তৎপর নই।

 

শিপন:- আপনি একজন সোশ্যাল ওয়ার্কার। সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে কি কখনও গল্পের প্লট খুঁজে পেয়েছেন?

 

তকিব:- আমি বা আমরা যারা লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ত সকলেই কিন্তু গল্পের মানুষ, গল্পদের মানুষ। তাই আমরা গল্পটা ভাবনাতে সর্বক্ষণ আটকে রাখি। বাদামের খোসা কিংবা দুর্বল কাক অসহায় হয়ে বসে থাকতে দেখলেও আমরা দারুণ গল্প খুঁজে পাই। সেই জায়গা থেকে সামাজিক কাজগুলোর ক্ষেত্রে গল্পের প্লটের সংখ্যা অসংখ্য। কিন্তু লেখবার জন্য নির্বাচনটা কঠিন সিদ্ধান্ত।

 

শিপন:- আপনার লেখা উপন্যাস এপলেপটিক হায়দার, অধ্যায়, নিদাস্তিয়া কিংবা কথোপকথন বই কাঙালের সংলাপ, কোনটিকে এগিয়ে রাখবেন?

 

তকিব:- চারটি বই-ই আমার সৃষ্টিকর্ম। 

চার ভাবনা থেকে এদের সৃষ্টি। কী করে এদের মধ্যে তফাৎ দেখাই বলুন তো! 

তবুও পাঠকপ্রিয়তার দিকে ভেবে বললে বলব 'অধ্যায়' এগিয়ে। আর নিদাস্তিয়া'র উপর প্রভাব পরেছে করোনা পরিস্থিতি।  কারণ বই মেলার পর বিশাল একটা সময় প্রকাশনাগুলো বই পাঠকের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। অনেক জায়গায় বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে ইদানীং আবার নতুনভাবে 'নিদাস্তিয়া' সাড়া পাচ্ছে।

 

শিপন:- লেখালেখির অনুপ্রেরণা নিয়েছেন কিভাবে?

 

তকিব:- দায়বদ্ধতা থেকে। সমাজ আর জাতি আমাদের তরুণ সমাজ থেকে অনেক দাবি রাখে। আমি দাবি পূরণের প্রত্যাশায় লেখালেখি নির্বাচন করেছি। অনুপ্রেরণাটা আসলে সেভাবেই।

 

শিপন:- প্রিয় লেখক? 

 

তকিব:- আসলে ওভাবে তো নির্দিষ্ট ভাব্র বলা মুশকিল! অনেক লেখকের লেখা-ই তো পড়ি, ভালো লাগে। সেইক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলাম, আহমদ ছফা,  আখতারুজ্জামান ইলিয়াস,  হরিশংকর জলদাস, শওকত আলী সহ প্রমূখ প্রবীন লেখক। নতুনদের মধ্যে ওবায়েদ হক, সাদাত হোসাইন, কিঙ্কর আহসানসহ অনেকই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

 

শিপন:- যদি লেখক হবার সৌভাগ্য না হতো তাহলে আপনি কি হতেন?

 

তকিব:- জীবিকার কারণে যা করা হয় তা নিয়েই হয়তো ব্যস্ত থাকতাম। তবে সফল ব্যবসায়ী হবার প্রত্যাশা ছিল।

 

শিপন:- আপনি খুব অল্প সময়ে সাহিত্য পাড়ায় নিজের অবস্থান গড়ে নিয়েছেন। স্বল্প সময়ের এই জনপ্রিয়তা আপনাকে ঠিক কিভাবে প্রভাবিত করেছে?

 

তকিব:- আমি জানি না কতটা জনপ্রিয় হতে পেরেছি! তবে আমার লেখা পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠছে এটাই আমার কাছে অনুপ্রেরণার বিষয়। আর এ থেকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হয়ে ওঠার প্রত্যয় নিয়েই লেখালেখি করে যাচ্ছি৷ কারণ পাঠকদের আমি সেই গল্প জানাতে চাই যে গল্প পাঠকের জীবনে প্রভাবিত করবে। এমন নয় যে, আমি লেখার মধ্যে বিনোদন রাখি না। অবশ্যই রাখি। আর সেটাকে আমি বলি লাবণ্য। শুধুই বিনোদনের জন্য গল্প- উপন্যাস লিখে অনেক জনপ্রিয় হওয়া যায় কিন্তু মানুষের জীবন বদলানো যায় না, কিংবা মানুষের মধ্যে বোধ সৃষ্টি করা যায় না।

 

শিপন:- এইসময়ের বেশিরভাগ লেখকই গ্রন্থমেলায় বই প্রকাশের জন্য ঝুঁকছে। এই ক্ষেত্রে আপনার মত কি? বইমেলার পরেও বই প্রকাশিত হওয়াকে আপনি সমর্থন করেন?

 

তকিব:- এই উত্তর বিশদ। তবুও সংক্ষেপে বলবার চেষ্টা করছি। লেখকের কাজ লেখা। সেটা যখনই প্রকাশ হোক। একটি বই একজন লেখকের কাছে তার সৃষ্টিকর্ম কিন্তু একজন প্রকাশকের কাছে সেটা দিনশেষে পন্য। শুনতে খারাপ লাগলে এটাই সত্য। প্রকাশনার ব্যবসা একটি সেবামূলক কার্যক্রম। কিন্তু এর জন্য উদ্যোক্তার পুঁজি থাকে। সেটার তো সমতার প্রয়োজন। বইমেলার সময় যেভাবে বই বিক্রি হয়, সাধারণত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সেটা হয় না।

এতে প্রকাশনার উপর প্রভাব পরে। তাই বইমেলা ছাড়া বই প্রকাশ তাদের কাছে ঝুঁকি হয়ে উঠে। তবে আমি বইমেলা ব্যতীত বই প্রকাশ করেছি, 'কাঙালের সংলাপ'।

 

শিপন:- তরুণ লেখকদের উদ্দেশ্যে আপনার দিকনির্দেশনা কি?

 

তকিব:- তরুণ লেখকদের প্রতি দিকনির্দেশনা দেয়ার যোগ্য আমি এখনো হয়ে উঠিনি। আমি লেখালেখির জন্য যা করি তা-ই বলব। জীবনে মননশীল চিন্তা ধারার মানুষ হতে হলে পাঠ্যবই পরে সনদ অর্জন আবশ্যক নয়। এই সনদ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়। আপনাকে শিক্ষিত করবে যুগে যুগে আমাদের সাহিত্য মহলে স্থান নেয়া ভালো গ্রন্থগুলো। যা আপনাকে বোধগম্য করে তুলবে। তা পড়ুন। বোধের জায়গা, মননশীলতা এবং উপলব্ধি ক্ষমতার বিকাশ ঘটান। দেখবেন আপনার লেখাগুলো অন্যের জীবনকে প্রভাবিত করবে। আপনি জনপ্রিয় হন কিংবা না হন, শক্তিশালী লেখক হতে পারবেন।

 

শিপন:- আপনি আরও এগিয়ে যান। জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তার পক্ষ থেকে আপনার জন্য রইল অফুরান শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা।

 

তকিব:- অশেষ ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানাই।

 

...
MD. Shajalal Rana(SJB:E078)
Mobile : 01881715240

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ