গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত অনলাইন নিবন্ধন নাম্বার ৬৮

রাজউকের নথিপত্র জাল-জালিয়াতি‌ প্রতারণা চক্রের অন্যতম হোতা নাসিরের নানাবিধ অপকর্মের অন্তহীন ফিরিস্তি

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ২১ দিন ৫ ঘন্টা ৫৩ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 680
...


 

মোঃ রিপন হাওলাদার ঃ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের প্লট বরাদ্দের মূল্যবান ফাইল পত্র জাল- জালিয়াতি প্রতারণামূলক জগতের একজন নিয়ন্ত্রণহীন হোতা নাসির আহমেদ নামে এক ব্যক্তির নানা রকম বেপরোয়া কর্মযজ্ঞের নজিরবিহীন ফিরিস্তির তথ্য উপাত্ত পাওয়া গিয়েছে। তথ্য সূত্র বলছে জাল-জালিয়াতি প্রতারণার সাথে গভীরভাবে লিপ্ত একটি সংঘবদ্ধ চক্র গত কয়েক বছর আগ থেকে রাজউকের বিভিন্ন প্রকার গুরুত্বপূর্ণ কাগজ পত্র‌ অবাধে নকল করে সক্রিয় প্রতারণার মাধ্যমে প্লট আত্মসাতের কাজ করে আসছিলো।তারা ভূয়া আম-মোক্তার নামা দলিল তৈরি করে রাজউকের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য লোকজনের প্লটগুলো নিজেদের নামে ও বেনামে ভাগিয়ে প্রকৃত বরাদ্দ দাতাদের স্বর্বসান্ত করে তুলেছিলো।সে সময় নানাবিধ অসৎ উপায় অবলম্বন করে অন্যের প্লট হরণ করার লালসায় মরিয়া সিন্ডিকেটের জালিয়াতি কাজের অন্যতম সদস্য নাসির আহমেদ ছিলেন প্রভাবশালী একজন শীর্ষ প্রতারকের একান্ত সহচর। তিনি তার নিকটবর্তী বিশ্বস্ত লোক হয়ে রাজউকের সকল প্রকার নথিপত্রের গোপনীয় কাজগুলো করতো।প্রতারণা কাজের শক্তিশালী সিন্ডিকেটটি তাদের একনায়কতান্ত্রিক রাজত্ব হিসেবে রাউজক অফিসকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করতো বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়।চক্রের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের আধিপত্য সাম্রাজ্যে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে কাজ করার সূবাদে কিছু সদস্য খুব সহজে জালিয়াতি কর্মের ফাঁকফোকরে অত্যন্ত দক্ষ হয়ে উঠে।সিন্ডিকেটের দক্ষ সদস্যদের মধ্যে বেশকিছু সক্রিয় সদস্য অপকর্মের কাজে জড়িয়ে অল্প সময়ের মধ্যে অভাবনীয় পারদর্শীতা অর্জন করেছে।তাই অতি তাড়াতাড়ি তারা অসংখ্য প্লট নিজেদের নামে বেনামে সুবিধা মতো ভাগিয়ে নিতে সক্ষম হয় বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। একটি সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে রাজউকের নথিপত্র সবচেয়ে বেশি সূক্ষ্মভাবে জালিয়াতি করা হয়েছিলো বাড্ডা পুনর্বাসন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নামে বরাদ্দকৃত প্লট নিয়ে।রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্তদের অনুকূলে কিছু শর্তসাপেক্ষে ২০০৬ সালে সাময়িক প্লট বরাদ্দের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। উক্ত বছরের ০৮-০৬-২০০৬ ইং তারিখ রাজউক এক চিঠির মাধ্যমে এককালীন ও কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধা দিয়ে চুড়ান্ত ভাবে প্লটগুলো প্রাপ্যদের মাঝে বরাদ্দ দেয়। ক্ষতিগ্রস্তদের নামে বরাদ্দকৃত প্লটগুলো একটি শক্তিশালী প্রতারক গোষ্ঠীর দোষররা নিজেদের অনুকূলে নিতে জাল-জালিয়াতির কর্মযজ্ঞে সক্রিয় হয়ে পড়ে।তড়িৎ গতিতে শুরু হয় তাদের নকল কাগজ পত্র প্রস্তূতের বেপরোয়া কর্ম লীলা। খুবই অল্প সময়ের মধ্যে সকল প্রকার ভুয়া কাগজ পত্র তৈরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নেয় প্রতারণাকারী চক্রটি।তাদের সূকৌশলী জালিয়াতি কর্মযজ্ঞের তান্ডবে তখন রাউজক অফিস থেকে গায়েব হয়ে যায় অসংখ্য প্লটের বৈধ নথিপত্র। গায়েব হওয়া নথিপত্রের মধ্যে বেশকিছু ব্যক্তিদের নামে বরাদ্দ দেওয়া প্লটগুলো থেকে প্রায় ১৫-২০ টি প্লট সুযোগ সন্ধানী প্রতারক নাসির আহমেদ তার নামে ও বেনামে ভূয়া আমোক্তার নামা দলিল বানিয়ে লীজ দলিলের মাধ্যমে তা বিক্রি করে প্রচুর পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়।তাদের লাগামহীন এহেন কর্মকান্ডে ভোগ দখল থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত প্লট দাতারা। চক্রটির কর্মকাণ্ডের অন্যতম সক্রিয় সহযোগী সদস্য নাসির আহমেদ তার  জালিয়াতি প্রক্রিয়ায় শতভাগ সফল হয়ে কিছু দিনের মধ্যে অকল্পনীয় ভাবে অগনিত প্লট আর অঢেল অর্থবিত্তের মালিক হয়ে যায়। অবৈধ উপার্জনে নিমজ্জিত চক্রটির বহুদিন ধরে চলমান এমন নিয়ন্ত্রণহীন প্রতারণামূলক খপ্পরের দৌড়াত্বে প্লট হরিলুটের দপ্তরে পরিণত হয় রাউজকের নির্দিষ্ট একটি কক্ষ।তাদের একচেটিয়া লুটপাটের কারণে হঠাৎ খুঁজে পাওয়া যেতো না রাজউকের অতি মূল্যবান ফাইল পত্র। প্রতিনিয়ত তাদের স্বার্থসিদ্ধিমূলক অপপ্রক্রিয়া আরো তরান্বিত হতেই থাকে।এতে নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি হয় কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল ভাবে প্লট বরাদ্দের প্রক্রিয়াগত কাজে। ফাইল গায়েবের ঘটনা থেকে পরিত্রাণ পেতে নড়েচড়ে বসে রাউজক সংশ্লিষ্টরা।তাদের নথিপত্র গায়েব হওয়ার পিছনে মূল রহস্য উদঘাটনে নিবীর কার্যক্রম শুরু করে সংস্থাটি। দীর্ঘ কয়েক বছর পর দূষ্কৃতকারিদের মূখোশ উন্মোচনের লক্ষ্যে গত ১৫ অক্টোবর ২০১৯ সালে সকাল ১১ টায় তৎকালীন রাজউক চেয়ারম্যান ডঃ সুলতান আহমেদ এর অনুমতিতে ও তার  নেতৃত্বে গোপন এক সংবাদের ভিত্তিতে  রাজউকের একটি টিম এ্যানেক্স ভবনের ৫ম তলার এ-৫১৪ নম্বর কক্ষে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্লট বরাদ্দ সম্পর্কিত মূল ফাইল ও কোন প্রকার বরাদ্দ পত্র সেখানে রক্ষিত আছে কিনা তা যাচাই করতে কক্ষটিতে আকস্মিক অভিযান শুরু করলে বেরিয়ে আসে থলের নেপথ্যের আসল কাহিনী।অভিযানে উদ্ধার করা হয় গায়েব হওয়া ৭১টি প্লটের নথিপত্র।প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ,রাজউকের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নকল ১৫ টি সীলসহ স্ট্যাম্প প্যাড,সিটি কর্পোরেশনের ১৭০ টি বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়নপত্র,ডিমান্ড কালেকশন রেজিস্টার(ডিসিআর)বই নং-২ যার সংখ্যা একটি,লিজ ডিড এর কপি ৪টি , এছাড়াও বরাদ্দ পত্রের কপিসহ বিভিন্ন কাগজপত্র সে সময় রুমটি থেকে উদ্ধার করা হয়।আটক করা হয় কক্ষের ভিতরে অবস্থানরত জালিয়াতি কর্মকাণ্ডের  একনিষ্ঠ সক্রিয় সদস্য পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-২) রাজউক কার্যালয়ের পিয়ন মোঃ পারভেজ চৌধুরীকে।একই সময় তল্লাশিকালে জনৈক মনির হোসেনের কর্মচারী হিসেবে পরিচিত নাসির নামে অপর একজন সদস্য সকলের নজর এড়িয়ে তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যায়।আটক পারভেজ চৌধুরী তার জবান বন্দিতে প্রতারণার কাজে জড়িত সিন্ডিকেটের অন্যন্যা শীর্ষ সদস্যদের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। কিভাবে কাদের ইশারায় তারা ভূয়া কাগজ পত্র তৈরি করে প্লটগুলো নিজেরা ভাগিয়ে নিয়ে তা আবার অন্যদের কাছে বিক্রি করতো। উক্ত অভিযানের কার্যক্রম শেষে ধৃত আসামী রাজউকের অফিস সহায়ক মোঃ পারভেজ চৌধুরীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মতিঝিল থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলার এজাহার ভূক্ত আসামীরা হলো (১)আটক মোঃ পারভেজ চৌধুরী (৪০)(২)পলাতক আসামি মনির হোসেন (৩) জিন্নাহ (৪৫)(৪) নাসির (৫০)সহ মোট ৪ জনের নামে মতিঝিল থানায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন  ঢাকা দক্ষিণ (রাজউক) বিভাগ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নজরুল ইসলাম।মূলত এই নৈরাজ্যের নেপথ্যে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের দুই জন প্রভাবশালী ব্যক্তির অদৃশ্য ইশারায় তরঙ্গের গতিতে জালিয়াতি কাজগুলো করতো সিন্ডিকেটের সদস্যরা। দুইজন নির্দেশদাতার পৃষ্ঠপোষকতায় রাজউকের স্বার্থনেসী কিছু অসাধু শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গড়ে উঠে সংখ্যাবিহীন সংঘবদ্ধ একটি পরিপূর্ণ প্রতারক বাহিনী।তাদের প্রত্যেকের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য উভয়ের যোগসাজসে ফাইলগুলো রাজউকের কেন্দ্রীয় স্টোর রুমে না রেখে নিজেদের আয়ত্তে অফিসে রাখা হতো।পরে তাদের সুবিধা মতো জাল-জালিয়াতি কাজে ব্যবহার করতো অপশক্তি প্রয়োগকারী চক্রটি। সাধারণত তারা নিজেদের অফিস কক্ষে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সকল ধরনের সীল ও স্বাক্ষর জাল করার কাজগুলো চালিয়ে যেতো। ক্ষতিগ্রস্তদের প্লটগুলো জালিয়াতির কাগজ বানিয়ে দখল করা যেন তাদের কাছে নেশায় পরিনত হয়েছিলো।তবে সূত্র জানায় এই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত যে সমস্ত প্লটের নথিপত্র গায়েব হয়েছে তার পেছনে অফিস সহায়ক পারভেজ চৌধুরীর সম্পৃক্ততা ছিলো সবচেয়ে বেশি।তার চাকুরী করার উদ্দেশ্য যেনো অপরের সম্পদ ভোগের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।অর্থলোভী পারভেজ চৌধুরী অপশক্তি বিস্তারকারী মনির হোসেনের নির্দেশে রেকর্ড রুম ও সংশ্লিষ্ট শাখা হতে তাদের কাজে ব্যবহৃত ফাইলগুলো সংগ্রহ করে কার্যক্রম পরিচালনা করতো বলে জানা যায়। সকল প্রকার ভূয়া কাগজ পত্র দেখতে অবিকল আসলের মতো তৈরি করার কাজে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলো অফিস সহায়ক পারভেজ চৌধুরী।তারই দূরদর্শি নেতৃত্বে অফিসে বসে জিন্নাহ নাসির সহ আরো কয়েকজন সদস্য একত্রিত হয়ে ফাইলগুলো মূল ভবন থেকে এনেক্স ভবনে নিয়ে সকল ধরনের নকল কাগজ পত্র সূনিপুন ভাবে তৈরির কাজে সহায়তা করতো। নাসির আহমেদ বেশির ভাগ সময় তার স্ব-নিয়োগভূক্ত  অফিস ডিউটি শেষ করে বাহিরে তাদের বানানো নকল কাগজ পত্রের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া প্লটগুলোর কেনাবেচা দখল নাটকের মূল দায়িত্ব পালন করতো বলে সূত্র জানায়। সেই অভিযানে জালিয়াতি প্রক্রিয়ার সঙ্গে এজাহারনামীয় ব্যক্তিরা ছাড়াও অন্য কারা জড়িত রয়েছে সেটা খুঁজে বের করার জন্য তৎকালীন রাউজক চেয়ারম্যান একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ছিলেন।তারই ফলসূতিতে আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতায় গত ০৪-০১-২০২২ইং তারিখ আরো একটি সফল অভিযানে মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্টের বাসা থেকে আটক করা হয় প্লট কারচুপি জগতের প্রধান নির্দেশদাতা মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনির নামে এ চক্রের অন্যতম নিয়ন্ত্রক সেকেন্ড ইন কমান্ডকে।তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অফিস সহায়ক পারভেজ চৌধুরীকে আবারো প্রধান আসামী করে রাউজকের জড়িত কিছু কর্মরত কর্মচারী সহ অন্যান্য ৮ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশেষ একটি মামলা করে দুদক। দুদকের করা মামলার আসামীরা হলেন (১) মোঃ পারভেজ চৌধুরী (৪১) রাউজকের অফিস সহায়ক (সাময়িক বরখাস্তকৃত)(২) মোঃ মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনির (৫৩)(৩) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (৪৯)(৪) মোঃ নাসির উদ্দিন খান (৪৯)(৫) অবসর প্রাপ্ত সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১)রাউজক মোঃ নাসির উদ্দিন শরীফ(৬২) (৬) মোঃ দিদারুল আলম (৩৫) উপ-পরিচালক রাউজক(৭) মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪৬) অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এস্টেট ও ভূমি-১ রাজউক (৮)এস এম তৌহিদুল ইসলাম (৪১) উর্ধ্বতন হিসাব সহকারী নিরীক্ষা ও বাজেট শাখা রাউজক (৯) মোঃ আলাউদ্দিন সরকার (৪৩)কার্য তদারককারী মান-২ এস্টেট ও ভূমি-১ রাউজক ঢাকা। অভিযুক্ত আসামীর দন্ড বিধির ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪০৯/৫১১/১০৯ এবং দূর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৮৪৭ এর ৫(২) ধারায় অপরাধ করে। দুদকের করা মামলায় অপরাধ বিবরণীতে বলা হয়েছে চক্রটি পারস্পারিক যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ লাভ ও লোভের বশবর্তী হয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ১/১২/১৭ ইং তারিখ হতে ১৫/১০/১৯ ইং তারিখ সকাল ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অফিস হতে নিয়ম অনুযায়ী নথি সমূহ মুভমেন্ট রেজিস্টারে এন্টি না করে এবং কাজ শেষে রেকর্ডরুমে প্রেরণ না করে সরকারি নথিপত্র কৌশলে সরিয়ে ও বিভিন্ন কর্মকর্তার সিল অবৈধভাবে তৈরি করে জাল জালিয়াতের মাধ্যমে বেআইনী ভাবে ভূয়া নথি সৃজন ও লীজ দলিল সম্পাদন করে সরকারী সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করে উল্লেখিত ধারার অপরাধ সংঘটিত করেছে। অপকর্মের সাথে জড়িত চক্রটির নামে সংশ্লিষ্টদের করা দুটি মামলাই এখনো পর্যন্ত বিচারাধীন রয়েছে ।নথিপত্র জালিয়াতি চক্রের একমাত্র নির্দেশ দাতা মনির হোসেন আটক হলেও তার বিশ্বস্ত সহচর হয়ে কাজ করা মতিঝিল থানার মামলায় ৪ নং এজাহার নামীয় আসামী পলাতক নাসির এখনো হয়তো অধরা রয়ে গেছে সনাক্ত হয়নি তার আসল পৈত্রিক পরিচয়সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী।দুদক জিআর নং ৩/২২ ও মেট্রো বিশেষ মামলা নং ৪/২২ এ যে ৯ জন ব্যক্তির নামে মামলা করা হয়েছে তাতে নাসির নামীয় দুই জন ব্যক্তির নাম ও তাদের পরিপূর্ণ ঠিকানা রয়েছে।তবে রাজউকের অভিযানের সময় যে নাসির পলায়ন করেছে হয়তো সে একেবারেই ধরাছোঁয়ার আড়ালে চলে গেছে। আটক ব্যক্তিরা যে তথ্য দিয়েছে হয়তো সেখানে তার সম্পর্কে অনেক গড়মিল ছিলো বিধায় পরিপূর্ণ নাম পরিচয় সনাক্তকরণের মধ্যে অনেক তারতম্য সৃষ্টি হয়েছে ।যে কারণে তার আসল পরিচয় এখনো পর্যন্ত সকলের কাছে অজানাই রয়ে গেছে।আর সেই‌ সুযোগে এই দূরন্দর  কুখ্যাত জালিয়াতিকারী ব্যক্তির কূকর্ম ধামাচাপা পড়ে যায়।আজ পর্যন্ত তিনি তার কৃতকর্মের কোন সাজা ভোগ না করে অনেকটা নিরাপদে আরাম আয়েশী ভোগ বিলাসী জীবন যাপন করে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য রাজউকের অভিযানে উদ্ধার হওয়া মূল্যবান ৭০টি ফাইল পত্রের মধ্যে ৬১টি ফাইল জালিয়াতির কার্যক্রম সংশ্লিষ্টদের পর্যালোচনায় ধরা পড়েছে কিন্তু বাকি ৯ টি নথিপত্র জালিয়াতির জন্য ২০১৬ সালে রেকর্ড রুম থেকে সংগ্রহ করার পর আর রেকর্ড রুমে ফেরৎ দেওয়া হয়েছে মর্মে কোন ধরনের চিহ্ন খুঁজে পায়নি সংশ্লিষ্টরা।তাহলে ৯ টি নথি ফেরত দেওয়ার যেমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি তেমনি অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া নাসির নামীয় সেই ব্যক্তির  আদো পরিপূর্ণ কোন ঠিকানা সংশ্লিষ্টরা খুঁজে পেয়েছে কিনা তাও সন্দিহান রয়েছে।কিন্তু প্রতিবেদনের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে হুদিস না পাওয়া ৯ টি ফাইলের মধ্যে বেশকিছু ফাইলের মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।উদঘাটিত তথ্যে আড়ালে থাকা পলাতক নাসির নামীয় প্রতারকের আসল পরিচয় খুঁজে পাওয়া গিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।নথিপত্র গায়েব কাণ্ডের হুদিস না পাওয়া ৯ টি ফাইলের মধ্যে ১৭ নং সড়কের ২০ এবং ১৮ নং প্লটগুলো প্রকৃত ভাবে যাদের নামে মূল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ভৌতিক কারণে তাদের নামে আজো পর্যন্ত কোন লীজ দলিল হয়নি। কিন্তূ গোলক ধাঁধার মতো নাসির আহমেদ নামে কুড়িলের একজন বাসিন্দার নামে এদুটি প্লট ব্যতিত আরো‌ বেশ কিছু প্লটের লীজ দলিলের সন্ধ্যান পাওয়া যায় যেগুলোর আম-মোক্তারনামা দলিল করা হয়েছে ২০০৬ সালের বিভিন্ন সময়ে। বিশেষ সূত্র বলছে নাসির আহমেদ নামে যে ব্যক্তির নামে এতো গুলো প্লটের লীজ দলিল পাওয়া গিয়েছে তিনি ছলচাতুরি করে ব্যাপক ক্ষমতা সম্পন্ন ভূয়া আম-মোক্তার নামা দলিলের মাধ্যমে প্লটগুলো আত্নাসাৎ করে নিয়েছিলো।তার আত্মসাতমূলক কাজের প্রমাণ বের করতে হলে নিম্নে: বর্ণনা করা প্লটগুলোর সঠিক কাগজপত্র যাচাই বাছাই করা অতিব আবশ্যক বলে মনে হচ্ছে।তাহলেই হয়তো‌ দিবালোকের মতো আসল ঘটনা সামনে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।রোড নং ১৭ প্লট নং ১৮ রোড নং ১৭ প্লট নং ২০ রোড নং ১৭ প্লট নং ৩০ রোড নং ১৮/এ প্লট নং ১৫ রোড নং ১৫ প্লট নং ২/জি রোড নং ১৫ প্লট নং ১/এইচ রোড নং ১৫ প্লট নং ১/জে রোড নং ১৫ প্লট নং ১/কে রোড নং ৩ প্লট নং ৩৪ প্লটগুলোসহ আরো অসংখ্য প্লট এই ব্যক্তি কি ভাবে তার নামে বেনামে মালিক হয়েছেন তা খোঁজ করার জন্য উপরে উল্লেখিত প্লটগুলো হতে দুটি প্লটের কাগজ পত্র যাচাই বাছাই করার জন্য প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া বিগত ২৬-৬-২০০৬ সালের গুলশান সাব-রেজিষ্টার অফিসে রেজিষ্ট্রিকৃত দলিল নং ৩৩৮১০ ও ২৪-৬-২০০৬ সালের ৭২৭৩ নং আমোক্তারনামা ও
লীজ দলিলগুলোর গ্রহিতা নাসির আহমেদ এর মালিকানা নিয়ে সত্যতা নিশ্চিত হতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদক দল ভূমি রেজিষ্ট্রি অফিসের দারস্ত হয়ে বিষয়টি সঠিক ভাবে খোঁজার চেষ্টা করে ।নিয়ম অনুযায়ী দলিল তল্লাশির সরকার নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে গত ২৭ -১-২২ ইং তারিখ তল্লাশি রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়‌ যাহার সরকারী রশিদ নং ১০৫৯৮। উক্ত তল্লাশি রিপোর্টে তল্লাশি কারক মোঃ ওয়াদুদ মিয়া উল্লেখ করেন  দলিল গ্রহিতা নাসির আহমেদ পিতা- আব্দুল মজিদ উক্ত দলিল খানার মৌজা বাড্ডা স্তিত প্লট নং -১৮ রোড নং ১৭ উক্ত দাতা গ্রহিতার মৌজা তল্লাশি করে দেখা যায় যে,৩৩৮১০ নং দলিল খানা উক্ত ২৬-৬-২০০৬ সন তারিখে গুলশান সাব-রেজিষ্টি অফিসে রেজিষ্ট্রি হয় নাই। এতেই প্রতিয়মান হয় যে ভূয়া আম- মোক্তার নামা দিয়ে লীজ দলিলগুলোর তৈরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিলো।আর এসমস্ত কাজ কর্ম জালিয়াতি চক্রের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ব্যক্তিরা ব্যতিত কোন ভাবেই সম্ভব নয়।একমাত্র রাজউকের ফাইল চক্রের সঙ্গে জড়িত সক্রিয় সদস্যরাই অত্যন্ত অভিনব কায়দায় নিখুঁত জালিয়াতি করে এমন কাজগুলো করতে পারে বলে একজন দলিল বিশারদ তার মন্তব্যে বলেন।সকল কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে অনেকটা ধারণা করা হচ্ছে এই নাসির আহমেদই রাজউকের সেই জাল-জালিয়াতি চক্রের পলাতক সক্রিয় সদস্য যিনি ৯ ফাইল উধাও ঘটনার মূল হোতা।চক্রের প্রভাবশালী সেকেন্ড ইন কমান্ড মনির হোসেনসহ রাজউকের কিছু সক্রিয় ব্যক্তিরা আটক হলেও তাদের তৈরি করা সদস্যরা লোকচক্ষুর অন্তরালে গাঁ ঢাকা দিয়ে বিস্তৃণ নগরী জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চক্রের অনুচররা অদ্যবধি তাদের কাজ কর্ম দেদাড়ছে  চালিয়ে যাচ্ছে। পূর্বের মতো চক্রদের প্রতারণা কাজের ফাঁদে পড়ে নাজেহাল হচ্ছে অসংখ্য লোকজন আর প্রতারকরা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।গড়ে তুলেছে দৃষ্টিনন্দন বহুতল অট্রালিকা আর আরাম আয়েশের সীমাহীন আভিজাত্যময় বিলাসী জীবন। একসময়ের ঝাঁজাবড় গরীবী জীবন দশা থেকে নাসির আহমেদ কিভাবে অবিশ্বাস্য গতিতে এতো অর্থ বিত্ত আর অঢেল সম্পদের পাহাড় বানিয়েছে তার অন্তরালের আসল রহস্য জানতে চোখ রাখুন আগামী অনুসন্ধানী পর্বে।

...
Md Ripon Howlader
01988625536

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ