গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত অনলাইন নিবন্ধন নাম্বার ৬৮

লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া মোবাইল ব্যাংকিং হ্যাকার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ১ দিন ১ ঘন্টা ১২ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 615
...

লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া মোবাইল ব্যাংকিং হ্যাকার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার 

দেলোয়ার হোসেন 

গত ( ২৫ জানুয়ারি ) র‌্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানা এবং মুন্সিগঞ্জ জেলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারনার কাজে ব্যবহৃত ১৩ টি মোবাইল সেট ও বিভিন্ন  ম্পানীর ২৪টি সিমকার্ডসহ প্রতারক চক্রের  ০৩ জন সক্রিয় সদস্য’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়৷

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন

(১) মোঃ নুরুজ্জামান মাতুব্বর (৩৫), জেলা- ফরিদপুর।

(২) মোঃ সজিব মাতুব্বর (২১), জেলা- ফরিদপুর।

(৩) মোঃ সুমন শিকদার (৪৫), জেলা-মুন্সিগঞ্জ।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে  জানা যায় তারা মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারনার মাধ্যমে এজেন্টসহ জনসাধারনের নিকট হতে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এই প্রতারক চক্রটি সাধারণত মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টদের টার্গেট করতঃ 

 

 

কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা সাধারণ গ্রাহকদেরও প্রতারিত করেছে বলে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে। প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন অসাধু মোবাইল সীম বিক্রেতার সাথে পরস্পর যোগসাজসে অন্যের এনআইডি (রিক্সা চালক, ভ্যান চালক, খেটে খাওয়া মানুষ ও সহজ সরল মানুষদের এনআইডি) দিয়ে সীমকার্ড রেজিস্ট্রেশন করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সহজ সরল সাধারণ জনগনের নিকট এ্যাপস ব্যবহার করে নাম্বার ক্লোনিং করে নিজেকে মোবাইল ব্যাংকিং হেড অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করে কৌশলে এজেন্টদের পিন কোড জেনে নিয়ে এজেন্টের এ্যাকাউন্টটি নিজের দখলে নেয়। তার পর নাম্বার ক্লোনিং করে সেই এলাকার এসআর এর কাছে উক্ত দোকানের পরিচয় দিয়ে চাওয়া হত মোটা অংকের টাকা যে টাকা এ্যাকাউন্টে আসা মাত্রই নিজের দখলে থাকা এ্যাকাউন্ট থেকে কৌশল হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাম্বারে স্থানান্তর করে দিত। তাদেরকে যাতে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী সনাক্ত করতে না পারে তার কৌশল হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে টাকা পাঠিয়ে তার অধীনে থাকা এজেন্ট থেকে টাকা সংগ্রহ করতো। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ গ্রুপের ২০-২৫ জন সদস্য রয়েছে বলে জানা যায়। 

 

মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারকদের সাংগঠনিক কাঠামোঃ  গ্রেফতারকৃত আসামীরা সাধারণত নিম্নোক্ত ০৩ টি ধাপে এই প্রতারনার কার্যক্রম চালিয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেঃ

 

(ক) ১ম গ্রুপঃ এ চক্রের ১ম গ্রুপের সদস্যরা মোবাইল ব্যাংকিং হেড অফিসের অসাধু কর্মকর্তার/কর্মচারীর থেকে এসআর এর নাম্বার সংগ্রহ করে থাকে। অতঃপর এসআরকে মোবাইলে কল করে বিভিন্নভাবে মোটা অংকের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের দলে যোগ দিতে উদ্ধুদ্ধ করে। কিছু কিছু অসাধু এসআর প্রতারক চক্রের সদস্যদের সাথে যুক্ত হয়। সময় সুযোগ বুঝে এসআর প্রতারক চক্রের সদস্যকে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দিয়ে ফোন দিয়ে বলতো এখন কাজ হবে ফোন দেন। সাধরণত যখন মূল এজেন্ট দোকানে উপস্থিত থাকেনা, তার অন্য কোন প্রতিনিধি বা যে এজেন্ট একটু সহজ সরল তাদেরকেই মূল টার্গেট হিসেবে চিহিৃত করে এসআর প্রতারক চক্রের সদস্যকে তথ্য সরবরাহ করে। এরপরই শুরু হয় টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া। 

(খ) ২য় গ্রুপঃ প্রাপ্ত তথ্যের পরপরই দ্বিতীয় গ্রুপের সদস্যরা এসআর এর নাম্বার স্পুফিং/ক্লোনিং করে এজেন্টের নম্বরে কল করে উন্নত সেবার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং এ্যাকাউন্ট হালনাগাদ করার অনুরোধ করে এবং বলে যে কল সেন্টার থেকে আপনাকে কল দেওয়া হবে। প্রতারক গ্রুপের অপর সদস্য কল সেন্টার নাম্বার স্পুফিং/ক্লোনিং করে এজেন্টকে ফোন দিয়ে উন্নত সেবা পেতে সার্ভিস পরিবর্তনের জন্য অফার করা হয়। প্রতারক মোবাইল ফোনের কিবোর্ড বা বাটনে বিভিন্ন অক্ষর বা সংখ্যা চাপতে বলে। ধাপে ধাপে বিভিন্ন তথ্য দিতে বলা হয়। কয়েকটি সংখ্যা দেওয়ার এক পর্যায়ে ভেরিফিকেশনের নামে একটি মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে তা ডায়াল বা মেসেজ অপশনে গিয়ে 'ওকে' বাটন চাপতে বলে। এভাবে এজেন্টের কাছ থেকে পিন নম্বর নিয়ে এজেন্টের একাউন্ট নিজেদের দখলে নিয়ে এজেন্টের একাউন্টে থাকা সমুদয় অর্থ প্রতারক সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের অন্যান্য সহযোগীদের কাছে ট্রান্সফার করে দেয়।  

 

(গ) ৩য় গ্রুপঃ তৃতীয় গ্রুপের সদস্যরা অসাধু সীম বিক্রেতাদের প্রতি সীম কার্ড ১০০০/- টাকা দিয়ে অন্যের নাম-ঠিকানা দ্বারা নিবন্ধিত সিমকার্ড ব্যবহার করে ভূয়া মোবাইল ব্যাংকিং এ্যাকাউন্ট খোলে। উক্ত একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে পরবর্তীতে অন্য এজেন্ট হতে ক্যাশ আউট, বিভিন্ন কেনা-কাটায় পেমেন্ট, মোবাইল রিচার্জ সহ বিভিন্নভাবে টাকা উত্তোলন করে গ্রæপের সকল সদস্য মিলে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে প্রতারক সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে টাকা ট্রান্সফার করে। টাকা ভাগ বাটোয়ারর ক্ষেত্রে প্রতি এক লক্ষ টাকায় এসআর পায় ২০-২৫ হাজার টাকা, যে এজেন্টদের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা হয় সে পায় প্রতি এক লক্ষ টাকায় ১০-১২ হাজার টাকা এবং বাকি ৬৫-৭০ হাজার টাকা প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যরা ভাগ করে নেয়। 

 

প্রতারণার কৌশলঃ গ্রেফতারকৃত আসামীরা নিম্নোক্ত কৌশলের প্রয়োগ করে মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যমে প্রতারণার কার্যক্রম চালিয়েছে বলে স্বীকার করে৷

...
Md. Delolwaor Hossain
01818974688

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি


খুলনা বিভাগের সাংবাদিক, মুক্ত হাতে যারা লিখতে ভালোবাসেন তাদের জন্য সুখবর। বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত, মিডিয়া অন্তুর্ভুক্ত জাতীয় দৈনিক সরেজমিনবার্তা পত্রিকায় খুলনা বিভাগীয় প্রধান , জেলা প্রতিনিধি , বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি পদে নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীগণ ০১৭১৫ ৯৫ ৯৩ ৪৪ এই নম্বর এ যোগাযোগ করুন।

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ