+

সীমান্তে কঠোর লকডাউনের দাবি বিশেষজ্ঞদের

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ২১ দিন ৭ ঘন্টা ৩৯ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 330
...

দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় করোনাভাইরাসের প্রকোপ আগে থেকেই বাড়ছিল। এবার তার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে একের পর এক জেলা। ঢাকা বিভাগে শনাক্তের হার কিছুটা কমলেও ইতিমধ্যে বেড়েছে, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে। চট্টগ্রাম বিভাগের শুধু নোয়াখালীতে চট্টগ্রাম জেলা থেকেও শনাক্তের হার বেশি। তাছাড়া বরিশালের পিরোজপুরে শনাক্তের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো কঠোর লকডাউনে না রাখতে পারলে সারাদেশে ব্যাপক হারে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশংকা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, সীমান্তবর্তী ১৭টি জেলায় করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এরমধ্যে ৮টি জেলায় সংক্রমণ বাড়ছে অধিক মাত্রায়, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও দেশের অন্যান্য জেলার মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতেও ঢিলেঢালাভাবে লকডাউন চলছে। এভাবে চললে সামনে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কঠোর লকডাউন দিতে হবে। ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলার মানুষদের ঘর থেকে বের হতে দেওয়া যাবে না-এমন লকডাউন প্রয়োজন। একই সঙ্গে অবৈধপথে ভারত থেকে মানুষ আসা বন্ধ করতে হবে। এগুলো করতে না পারলে সংক্রমণ সারাদেশে বেড়ে যাবে, তখন স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না।

করোনা মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ বলেন, ভারতীয় সীমান্তবর্তী ১৬ থেকে ১৭টি জেলা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সেখান থেকে একের পর এক জেলায় সংক্রমণ বাড়ছে। তবে ঢাকায় সংক্রমণ হার কমছে। শনাক্তের হার ২০ থেকে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এটা লকডাউনের সফলতা। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জেলার মানুষকে ঘরে রাখতেই হবে। এক্ষেত্রে যা যা করার তাই করতে হবে। কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সীমান্তবর্তী এলাকা সিল করে রাখতে পারলে সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় করোনা পরীক্ষা বাড়ানো হয়েছে। এটা ভালো উদ্যোগ।

সিলেট জেলা এবং খুলনা বিভাগের যশোর ও সাতক্ষীরা জেলায় শনাক্তের হার বেশি। খুলনার বাগেরহাট, নড়াইল এবং কুষ্টিয়ায় শনাক্তের হার বাড়তে দেখা গেছে। এছাড়া কঠোর বিধিনিষেধ ও লকডাউনের আওতায় থাকা রাজশাহীতে সংক্রমণ বাড়ছেই। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুটি পিসিআর ল্যাবে মঙ্গলবার রাজশাহীর ৪৯০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৯৯ পজেটিভ পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা আগেই জানিয়েছিলেন, দেশে বর্তমানে সংক্রমণের নিম্নমুখিতা থাকলেও ঈদের পর তা বেড়ে যাবে। আর এখন তার সঙ্গে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট যুক্ত হয়ে দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আবারও শঙ্কার মুখে ফেলেছে। আর এবারের সংক্রমণ বৃদ্ধি শুরু হয়েছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে। তবে ধীরে ধীরে সেই সংক্রমণ পুরো দেশেই ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে খোদ স্বাস্থ্য অধিদফতর। এছাড়া সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে দেশে প্রাপ্ত নমুনার ৮০ শতাংশ ভারতের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। তাদের ধারণা দেশে ভারতীয় এই ভ্যারিয়েন্টের সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে।

দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে করোনার সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধ আরোপের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ব্যক্তিপর্যায়ে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নে শিথিলতার পরিচয় দিলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গতকাল করোনা বিষয়ক ভার্চুয়াল বুলেটিনে এ আশঙ্কার কথা বলেন অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম। চার জুন থেকে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে এবং সেটা ৮ জুন পর্যন্ত বেড়ে ১২ শতাংশের বেশি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী কিছু জেলায় স্বাস্থ্য প্রশাসনের পরামর্শে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করছে। এটা সবার মঙ্গলের জন্য করা হচ্ছে। আর এই বিধিনিষেধে জনগণের সহায়তার জন্যই করা মন্তব্য করে তিনি বলেন, কোনও জায়গায় শিথিলতার পরিচয় দিলে সেটি আমাদের জন্য ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না। নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘জয়পুরহাটে শতকরা হিসাবে শনাক্তের হার ২৫ শতাংশের বেশি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৯ শতাংশের বেশি, রাজশাহীতে ২৩ শতাংশের বেশি। এই জায়গাগুলোতে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। এসব জায়গায় লকডাউন বা বিধিনিষেধ আরোপ করায় স্থিতাবস্থা আছে। এটি যদি অব্যাহত রাখা যায়, তাহলে ঊর্ধ্বগতি থেকে আমরা রেহাই পেতে পারি।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় চলতি জুন মাস গত মাসের মতো স্বস্তিকর যাবে না বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। আর এর অন্যতম কারণ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণের হার। খুলনা, রাজশাহী, যশোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে জানিয়ে তারা বলেন, কেন্দ্র থেকে একটি মেডিক্যাল টিম চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইতিমধ্যে বলা হয়েছে, জরুরি রোগী ছাড়া যেন কাউকে ভর্তি নেওয়া না হয়। প্রয়োজনে পুরো হাসপাতাল করোনা সেবায় ব্যবহার করা হবে। প্রান্তিক অন্য এলাকাগুলোতেও তা-ই বলা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে দেশে সংক্রমণের ‘পজিটিভ রেট বেড়ে গেছে, মৃত্যু বাড়ছে ধীরে ধীরে’ মন্তব্য করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে আমাদের পজিটিভ রেট বেড়ে গেছে। যদিও দেশে সংক্রমণের হার প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশে নেমে এসেছিল। কিন্তু সেটা ক্রমাগত বাড়তে শুরু করেছে।’

শনাক্তের হার বাড়তে থাকা জেলাগুলোর সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের সময় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মানুষের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে বেড়েছে সংক্রমণ। পিরোজপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই দুই একজন করে রোগী বাড়ছে। টেস্ট কম হচ্ছে কিন্তু সন্দেহজনকভাবে যারা আসছেন তাদের মধ্যে করোনা পজেটিভ হওয়ার প্রবণতা বেশি। নড়াইলে গত সপ্তাহে সংক্রমণের হার ছিল ১৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ, কিন্তু গত মাসে সেটা ৯ শতাংশে ছিল।

এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় সংক্রম বাড়লেও সীমান্ত দিয়ে অবৈধপথে প্রতিদিনই আসছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। তাদের অনেকেই আটক হন বিজিবির হাতে। দেশের আটটি বিভাগের অন্যান্য জেলার তুলনায় সীমান্তবর্তী খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বেশকিছু জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে মৃত্যুও। স্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে বর্তমানে অধিকাংশ রোগী ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে ভারতে পাসপোর্ট ছাড়া অবৈধভাবে যাতায়াতকারীদের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের করোনা নমুনা পরীক্ষা, আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইনে আনতে না পারলে সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা ও রাজশাহীতে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নাটোরে গত ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় দুই জন মারা গেছেন। মোংলায় বুধবার নতুন করে ২৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর জানান, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় গত ৮ দিনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত ৪৮ ঘন্টায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৪৭২ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডাঃ আহাদ আলী। তিনি জানান, রংপুর মহানগরীতে করোনা রোগীদের জন্য ১শ বেডের একটি স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মান করা হয়েছে সেখানে পর্যাপ্ত পরিমানে অক্মিজেন ও আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর আছে। রংপুর ও দিনাজপুরে ১৮টি সিসিইউ বেড রয়েছে।

যশোর অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় নতুন করে ১৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। বুধবার শনাক্তের হার ৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত এপ্রিল মাসের পর এটাই সর্বোচ্চ। মঙ্গলবার ছিল ৪২ শতাংশ।

...
News Admin(SJB:E118)
Mobile : 01731808079

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , hr@sorejominbarta.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital