+

ছাতকে কৈতক হাসপাতালের ডা. মোজাহারুল ইসলামের দাপট

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ৬ দিন ৯ ঘন্টা ৯ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 370
...

ছাতকে কৈতক হাসপাতালের ডা. মোজাহারুল ইসলামের দাপট দিন দিন বেড়েই চলছে। তার দাপটের কারনে ওই হাসপাতালের ডাক্তার থেকে শুরু করে নার্স, ঝাড়–দার কেউই রক্ষা পাচ্ছেন না। তিনি এতই প্রভাবশালী তার বিরুদ্ধে কেউই মুখ খুলতে নারাজ। জানা গেছে, ডা. মোজাহারুল ইসলামের কারনে ডা. জসিম উদ্দিন, ডা. জুনেদ হোসেন, ডা. আবু ছালেহীন খাঁন সবাই তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে কৈতক হাসপাতাল থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে চলে যান। ডা. জুনেদ হোসেন একপর্যায়ে হাসপাতালের ভিতরেই ডা. মোজাহারুল কর্তৃক শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হন। আর ডা. আবু ছালেহীন খাঁন ডা. মোজাহারুলের দাপটের কারনে ওই সময় ভুক্তভোগী হয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের দারস্থ হয়েছিলেন। এ নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান নিজ উদ্যেগে চেয়ারম্যানের অফিসে ছাতক উপজেলা আওয়ামীলেগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ন আহবায়ক সৈয়দ আহমদ, প্রস্তুতি কমিটির সদস্য আফজাল হোসেন, পৌর আওয়ামীলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ন আহবায়ক চান মিয়া চৌধুরী এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে ডা. মোজাহারুলকে তার আচরণ সংশোধনের জন্য বলা হয়। কিন্তু তার পরও তিনি হাসপাতালে দাপটের সাথে চলতে থাকেন। শেষমেশ মনে কষ্ট নিয়ে ডা. আবু ছালেহ খাঁন কৈতক হাসপাতাল থেকে বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যান। এভাবে একের পর এক অভিজ্ঞ ডাক্তার, মোজাহারুলের কারনে হাসপাতাল থেকে বিদায় নেন। অভিযোগ উঠেছে, ডা. মোজাহারুল ইসলাম ডিউটি চলাকালীন সময়ে হাসপাতালে তার আবাসিক কোয়াটারে বসে সকাল ১২টার পর থেকে প্রাইভেট রোগী দেখা শুরু করেন। এজন্য প্রত্যেক রোগীদের কাছ থেকে প্রাইভেট ফি হিসেবে তিনি ৩০০ টাকা করে নেন। নি¤œমানের ওষুধ কোম্পানী থেকে তিনি উপটৌকন হিসেবে মোটা অংকের টাকা নিয়ে থাকেন। তাইতো তিনি হাসপাতালে যোগদানের পর থেকে রোগীদের প্রেসক্রিপশনে এসব নি¤œমানের ওষুধ লিখে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে রোগী ভর্তি হওয়ার পর ছাড়পত্র নিয়ে চলে যাওয়ার সময় রোগীর নামবিহীন ছাড়পত্র পূর্ব থেকেই ডা. মোজাহারুল ইসলাম তার ব্যবহৃত সীল স্বাক্ষর দিয়ে ছাড়পত্রের পিছনে সরকারি ওষুধ না লিখে তার নির্ধারিত নি¤œ মানের ওষুধ লিখে নার্সদের হাতে ধরিয়ে দিতেন। এমনই একটি নামবিহীন সীল স্বাক্ষর সম্বলিত ছাড়পত্র পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো। হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবাদানের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থের রাজনীতি নিয়ে তিনি ব্যস্ত থাকেন বেশীরভাগ সময়। এমনটিই এখন শোনা যাচ্ছে এলাকাবাসীর লোকমুখে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি একজন কর্মকর্তা হয়ে ডা. মোজাহারুল ইসলাম ২০১১ সাল থেকে কিভাবে একই যায়গায় চাকুরী করছেন। কৈতক হাসপাতালে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চাকুরী করা সরকারি আইনের পরিপন্থি বলে তারা জানান। সম্প্রতি, হাসপাতালের স্বাস্থ্য সহকারী, সিনিয়র স্টাফ নার্স, এমএলএসএস, ওয়ার্ড বয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী কেউই বাদ পড়েননি তার রোষানল থেকে। ওই কারনে তারা ডা. মোজাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানববন্ধনও করেন। মানববন্ধন চলাকালে তারা অভিযোগ করেন, ডা. মোজাহারুল ইসলাম চাকুরিবিধি ভঙ্গ করে হাসপাতালে ক্ষমতার অপব্যাবহার করে চলছেন। তিনি দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির পাশাপাশি হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সঙ্গে নিয়মিত খারাপ আচরণ করে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে তার এসব স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। মানববন্ধনের পর থেকে ডা. মোজাহারুল ইসলাম তাদের উপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন বলে জানা গেছে। এলাকার বাসিন্দারা জানান, ডা. মোজাহারুল ইসলাম একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার। কৈতক হাসপাতালের সামনেই রয়েছে আবাসিক ডাক্তারদের পরিবার নিয়ে থাকার জন্য কোয়াটার। কিন্তু তিনি আবাসিক কোয়াটারে পরিবার নিয়ে না থেকে অন্যত্র থাকেন। আবার তার বরাদ্ধকৃত বাসার সামনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে হাসপাতালের আবাসিক ঘরকে প্রাইভেট চেম্বার বানিয়ে সরকারি ডিউটির সময়ে তিনি প্রাইভেট রোগী দেখেন। এটা সম্পূন্নভাবে বে-আইনি বলে এলাকাবাসী জানান। রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে ডা. মোজাহারুল ইসলাম একজন ডাক্তার হয়ে উিউটিরত অবস্থায় তার ব্যবহৃত মোবাইল দিয়ে রোগীদের ছবি তুলে প্রতিনিয়ত তার ফেইসবুক আইডিতে আপলোড দিয়ে থাকেন। এসময় তার এহেন কর্মকান্ডে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ধর্মপ্রান মহিলা রোগীদের বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে ডা. মোজাহারুল ইসলাম প্রতিবেদকের উদ্দেশ্যে বলেন, এখন হঠাৎ করে গর্ত থেকে কেন বের হয়েছেন তা তিনি ভাল করে জানেন। সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ সামছুদ্দিন বলেন, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

...
Nazrul Islam(SJB:E615)
Mobile : 01792301830

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন
01868974512

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ