+

৪৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব অনাদায়ী

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ২৫ দিন ১৬ ঘন্টা ৫৪ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 455
...

 উচ্চ আদালত ও রাজস্বসংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালগুলোয় ঝুলে আছে ৩২ হাজারের বেশি রাজস্বসংক্রান্ত মামলা। কাস্টমস, এক্সাইজ, ভ্যাট, আয়কর, মূসক ও বন্ড সংক্রান্ত এসব মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ৪৯ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করতে পারছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এরমধ্যে সুপ্রীমকোর্টে ৮ হাজার ৮২৬ আপীল ও রিটের বিপরীতে ২৩ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকার রাজস্ব আটকে আছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিচার বিভাগের চলমান দীর্ঘসূত্রতা কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আটকে রেখেছে স্বার্থানে¦ষী মহল। তারা মামলাকে রাজস্ব আটকানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

তারা বলেন, বর্তমানে রাজস্বসংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে একাধিক বেঞ্চ নির্ধারিত থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। বেঞ্চ বৃদ্ধির পাশাপাশি এসব মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে বলেও তাদের মত। এনবিআর ও আদালত সূত্রে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী সারাদেশে রাজস্বসংক্রান্ত ৩২ হাজার ২৫৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার বিপরীতে সরকারের রাজস্বজড়িত ৪৯ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। আপীল বিভাগে ৬৯১ আপীলে রাজস্বজড়িত রয়েছে ৪ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা; হাইকোর্টে ৫ হাজার ৩৪৭টি রিটের বিপরীতে জড়িত ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং হাইকোর্টে ট্যাক্স ও ভ্যাট আপীল ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ২ হাজার ৭৮৮ আপীলের বিপরীতে জড়িত ৩ হাজার ২৩২ কোটি টাকা আটকে রয়েছে।

আপীল কমিশন ও ট্রাইব্যুনালের ২৩ হাজার ৭২৮ মামলার বিপরীতে আটক ২৫ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা; কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীল কমিশনে ১২ হাজার ৬১৩ মামলার বিপরীতে ১০ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা; কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীল ট্রাইব্যুনাল মামলা ১০ হাজার ৩০৫ মামলায় ৮ হাজার ৬১২ কোটি টাকার রাজস্বজড়িত রয়েছে। এছাড়াও আয়কর সংক্রান্ত ৫১০ মামলার আটকে রয়েছে ৬ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা। বেসরকারী গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার একটি সাধারণ উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে মামলা।

বছরের পর বছর এসব মামলা ঝুলছে, কিন্তু নিষ্পত্তির কোন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে এনবিআর অলটারনেটিভ ডিসপিউট রেজুলেশনের (এডিআর) মাধ্যমে রাজস্বসংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলেও তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এখন এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতের ওপর সরকারের চাপ প্রয়োগ ছাড়া কোন পথ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। এসব মামলা নিষ্পত্তিতে এনবিআরের গাফিলতি রয়েছে, আর রাজস্ব ফাঁকি দেয়া ব্যবসায়ীরা এসব মামলা দীর্ঘমেয়াদী করতে নানাভাবে তৎপর। এই তৎপরতা ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান তিনি।

জানা গেছে, রাজস্ব নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে করদাতা কিংবা ব্যবসায়ীরা চাইলে আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। বিভিন্ন সময় এমন বিরোধে করদাতারা আদালতে গেছেন। তবে সম্প্রতি এ প্রবণতা বেড়েছে। যে হারে রাজস্বসংক্রান্ত মামলা হচ্ছে নিষ্পত্তির হার সে তুলনায় ধীরগতি হওয়ায় দিন দিন মামলার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ভ্যাট-ট্যাক্স সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে যেমন ব্যবসায়ীরা আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন, একইভাবে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারকারীরাও আদালতে মামলা করে আটকে রাখছেন হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব। জানতে চাইলে উচ্চ আদালতে রাজস্বসংক্রান্ত মামলা পরিচালনাকারী ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, ‘অনেক সময়ই আবেদনকারী পক্ষ মামলাগুলো দীর্ঘসূত্রতায় ফেলার চেষ্টা করেন। তবে আমরা তৎপর থাকায় এখন সে সুযোগ তারা খুব একটা পান না।’

এনবিআর সূত্র জানান, এনবিআর কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে ভ্যাট বা ট্যাক্স দাবি করলে তার বিরোধিতায় আইনী প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে এ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন বা উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা যায়। রিট দায়েরের পর উচ্চ আদালত আবেদন খারিজ করে এনবিআরে পাঠাতে পারে। সে ক্ষেত্রে এনবিআরের এ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হয়। এজন্য দাবিকৃত অর্থের ১০ শতাংশ পরিশোধ করতে হয়।

এ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনীয় শুনানি শেষে রায় দেয়। এরপর বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান ফের উচ্চ আদালতে আপীল করে। এভাবে গড়িয়ে যায় বছরের পর বছর। কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার তানজীব-উল আলম বলেন, হাইকোর্টে দুইটি মাত্র বেঞ্চকে রাজস্ব সংক্রান্ত মামলা শুনানির এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। ওই বেঞ্চ দুইটিতে অন্য দেওয়ানি মামলাও রয়েছে কয়েক হাজার। ফলে দেখা যায়, অন্য মামলার শুনানিতে বেঞ্চগুলো বেশি মনোনিবেশ করছে। তিনি বলেন, হাইকোর্টে একবারেই একটি বা দুইটি নির্দিষ্ট বেঞ্চ থাকা উচিত, যেখানে শুধুই রাজস্বসংক্রান্ত মামলাগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে।

এনবিআরের সদস্য (গ্রেড-১) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘রাজস্ব ফাঁকির মামলাগুলো দেখার জন্য আমাদের লিগ্যাল এ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট নামে একটি বিভাগ রয়েছে। এ বিভাগ পুরনো মামলাগুলো নিয়মিত নজরদারি করে। রাজস্ব বোর্ডের সদস্যের নেতৃত্বে কর কমিশনারগণ এ বিভাগে কাজ করেন। আয়কর বিভাগের মতো ভ্যাট এবং শুল্ক খাতেও এমনটি রয়েছে।’ তিনি বলেন, মামলা দ্রুত নিস্পত্তির জন্য এনবিআরের একটি এডিআর বিভাগ রয়েছে। এর মাধ্যমে আদালতের বাইরে উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে মামলা নিষ্পত্তি হয়। আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্যও এ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে আমাদের উইংগুলো।

দীর্ঘসূত্রতার চার কারণ ॥ উচ্চ আদালতে রাজস্বসংক্রান্ত মামলা পরিচালনার জন্য এনবিআরের নিজস্ব কোন আইনজীবী প্যানেল নেই। এ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ই এসব মামলা পরিচালনা করে। এ ক্ষেত্রে এনবিআর ও এ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য একজন সমন্বয়ক কর্মকর্তা পদায়ন করে এনবিআর। তবে এ পদে পদায়ন করা হয় এক থেকে দুই মাসের জন্য। ঘন ঘন সমন্বয়ক কর্মকর্তা পরিবর্তনের কারণে বেগ পেতে হয় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের। দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে মামলাগুলো।

সূত্র জানায়, বর্তমানে রাজস্বসংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে তিনটি বেঞ্চ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ভার্চুয়াল ও একটি সশরীরে উপস্থিতিতে চলা বেঞ্চ। এ তিন বেঞ্চে প্রতিদিন গড়ে ১৪ থেকে ১৫টি মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে। তবে মামলার সংখ্যা অনুযায়ী এ তিনটি বেঞ্চ পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া এনবিআরের এ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের আওতায় আয়কর খাতের জন্য সাতটি বেঞ্চ এবং মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ও শুল্ক খাতের জন্য তিনটি বেঞ্চ রয়েছে। এসব বেঞ্চে এ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের দুটি শাখায় মামলাসংক্রান্ত সব কার্যক্রম শুনানি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া হয়।

জানা গেছে, এনবিআরের এ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের দুটি আদালতে এক মাসে সর্বোচ্চ পাঁচটি থেকে সাতটি মামলার শুনানি সম্ভব। তবে কোন কোন মাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সাক্ষীর অনুপস্থিতিসহ বিভিন্ন সমস্যায় এর চেয়ে কমসংখ্যক মামলার শুনানি হয়। অথচ প্রতি মাসে গড়ে একশ’ থেকে দেড়শ’ নতুন মামলা যুক্ত হয় এসব বিভাগে। নিষ্পন্ন মামলার তুলনায় অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।

এ ছাড়া মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হওয়ার অন্যতম কারণ বারবার সময় আবেদন।

...
News Admin(SJB:E118)
Mobile : 01731808079

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , hr@sorejominbarta.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ