+

মহিপুর নিয়মের তোয়াক্কা না করেই চলছে ভবন নির্মান ও খাল দখলঃ নেই কর্তৃপক্ষের তৎপারতা।।

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ০ দিন ১৫ ঘন্টা ৩ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 1505
...

মহিপুর থানা প্রতিনিধি।। 

চলমান বছরে দক্ষিনাঞ্চলের বেশ কিছু  দুর্নিতি, অনিয়ম, অবৈধ পন্থায় ভূমি দখলের চিত্র তুলে একের পর এক বিরতিহীন সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন গনমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই অভিযোগের অধিকাংশই পটুয়াখালীর মহিপুর থানা সদর ও তার পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন ঘিরে। উল্লেখিত, প্রকাশিত সংবাদের বেশীভাগ ছিলো রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টিপাত আলোকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই অনিয়ম ও দুর্নিতি রুখতে চলমান সময়ের মধ্যে পাওয়া যায়নি কর্তৃপক্ষের  বিন্দু মাত্র সদিচ্ছা।

মনে হাচ্ছে কোন আদৃশ্য রক্ষাকবচ অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরহীন নিরব চুক্তিনামায় ভূমি বন্দোবস্তের নামে চলছে দখল সন্ত্রাস। কিন্তু এসব সঠিক তথ্য ও সু-নিদৃষ্ট প্রমানের আলোকে সংবাদ প্রকাশিত হবার পরও  কর্তৃপক্ষের উদাসীন হস্তক্ষেপ দেখে হতাশ রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গনমাধ্যম ও সাধারন মানুষ। দৃশ্যমান, মহিপুর সদরেই প্রকাশ্যে চলছে এমন অনিয়ম ও দুর্নিতি। এক বছরের  (চান্দিনা) বন্দোবস্তকৃত ভিটায় তোলা হচ্ছে বহুতল ভবন, কোথাও কোথাও ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ কেটে হচ্ছে শিববাড়িয়া খালের চর দখল, কারো তোয়াক্কা না করে সরকারী খাসজমি ও পাউবোর জমি ভরাট করে হচ্ছে বহুতল ভবন নির্মান, প্রবাহমান নদীতে অবাধে প্রাচীর তুলে জমি বিক্রি।

দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম ও দুর্নিতির কার্যক্রম অব্যহত থাকলেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ রয়েছে উদাসীনতার ভূমিকায়। আইনের মোড়কে বেআইনী দখলবাজ সন্ত্রাসীদের মহোৎসব। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মহিপুর সদর ইউপির নজীবপুর ৫ নং ওয়ার্ডে জমি বন্দবস্তের নামে, বঙ্গবসাগর মোহনা সংলগ্ন বিশাল এলাকা জুড়ে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ভরাট করা হচ্ছে শিববাড়িয়া খাল,  ভরাট করে তৈরি হয়েছে একাধিক স্থাপনা এবং পাশা পাশি বিশালাকৃতির শত শত ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে সবুজ বনাঞ্চল।কিন্তু  এখনও  অব্যহত রয়েছে এই খাল দখল। এসব দখলদার ভূমিখেকোদের দাবী সরকারী বন্দোবস্ত পেয়েই তারা ঘরবাড়ি নির্মান করছেন। তবে কোনো ধরণের সীমানা নির্ধারণ না করেই কেনো দখল করা হচ্ছে জানতে চাইলে কোনো সদোত্তোর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, পানিউন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ঐতিহ্যবাহী পুকুর দখল করে নির্মান করা হচ্ছে পাকা স্থাপনা।

দখলদার ব্যক্তিদের দাবী সংশ্লিষ্ট অফিসে বন্দোবস্ত পাওয়ার আবেদন করেই পাকা বসত ঘর নির্মান করছেন তারা। কিছু প্রভাবশালী মহল বন্দবস্ত নামে পাউবো অধীনস্ত পুকুর বালুভরাট করে ভিটা বানিজ্যের পায়তারা চলাচ্ছে। তবে বর্তমানে সকল বন্দবস্ত দেওয়া হয় না বলে জানিয়েছেন পাউবো কর্তৃপক্ষ। এ বিষয় কলাপাড়া পানিউন্নয়ন বোর্ড’র (পাউবো) মহিপুর শাখা কর্মকর্তা মোঃ তারিকুর রহমান (তুহিন) জানান,যারাই পুকুর দখল করছে অথবা চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তালিকা করে পাঠানো হয়েছে। অন্য দিকে মহিপুর সদরের পূর্বপাশে সুইজ গেট এলাকায় শিববাড়িয়া নদীর মধ্যেই প্রাচীর তুলে দখল করছে কলাপাড়ার এক প্রভাবশালী বি,এন,পি নেতা।

অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট দেয়াল তুলে নদী দখল করে বিক্রি করে দিয়েছে। জানতে চাইলে ওই প্রভাবশালী ব্যাক্তি জানান, দেয়াল আমি নির্মান করিনি, নদীর মধ্যে ওই দেয়াল মানুষের চোখে দৃষ্টিকটু হলে আমি ভেঙ্গে ফেলবো। তবে দেয়াল তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাধা প্রদান করেছিলো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জানা নেই। এছাড়াও মহিপুর বাজারের বিভিন্ন স্থানে তোলা হচ্ছে বহুতল ভবনসহ একাধিক পাকা স্থাপনা। তাদের অনেকেরই চান্দিনা ভিটির বন্দবস্ত থাকলেও সরকারী নিয়ম উপেক্ষা করে মহিপুর তসিল অফিস ম্যানেজ করেই দীর্ঘদিন যাবৎ চলছে নির্মাণ কার্যক্রম। এমন অভিযোগ নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসীন্দাদের।

দখল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না কেনো এবং দায়িত্ব কার, জানতে চাইলে মহিপুর ইউনিয় ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান জানান, আমি নজীবপুরের ব্যাপারে আমার উপোরস্থ কর্মকর্তাদের জানিয়েছি, তারা পদক্ষেপ না নিলে আমি কি করবো। এছাড়া বাজারের মধ্যে যেসকল ভিটিতে স্থাপনা নির্মান করা হচ্ছে তারা ডিসিআর নিয়ে নির্মান করছেন। তিনি কোনো ম্যানেজের মধ্যে নেই। কেউ অভিযোগ করলে তা ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন তিনি। হতবে পাকা ভবন নির্মানের ব্যাপারে তিনি কোনো সদোত্তোর দিতে পারেননি। এবিষয় কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) জগৎবন্ধু মন্ডল জানান, সব বিষয়গুলো দেখা হবে।

অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষবৃন্দ শুরু থেকে একই চেনা উত্তর দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ একাধিক গনমাধ্যম কর্মীদের। কিন্তু নেওয়া হচ্ছেনা কোন ব্যবস্থ্য বরং পকাশ্যে চলছে অবৈধ অনুমদিত দখল ও স্থাপনা নির্মান। কোনো ধরনের নিয়মের তোয়াক্কা না করেই দৃষ্টিকটু এমন দখলদারীত্বে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে আইন, তেমনি ভাবিয়ে তুলেছে স্থানীয় সহ আগামী প্রজন্মকে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট এক অসাধু কর্তাব্যক্তিদের সম্মতি ও নিরব ভুমিকার জন্য বন্ধ হচ্ছে না সরকারী সম্পত্তি ও নদী দখলের মহোৎসব। এ বিষয় গুনী গনমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের ধারনা যে, সঠিক তথ্য ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের পরও কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক  ভুমিকা না থাকলে এক পর্যায় রাষ্ট্রীয় সংবাদ প্রকাশে গনমাধ্যমকর্মী বিমুখ হতে পারে। এতে রাষ্ট্রের সুরক্ষা ও উন্নায়নের বৃহত্তর অংশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা।

...
Arif Mahmud Sumon(SJB:E518)
Mobile : 01711583703

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন
01868974512

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ