প্রকাশিত : ০৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৩:১৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আইনের রক্ষকই অভিযুক্ত: ২০ হাজার টাকায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত  আসামি মুক্তির অভিযোগে কুমিল্লায় তোলপাড়

আলাউদ্দিন, সিনিয়র রিপোর্টার:


কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ রোজ বুধবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি শরীফকে সদর দক্ষিণ থানার এসআই জনি কান্তি দে গ্রেফতার করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, মথুরাপুর এলাকা থেকে শরীফকে আটক করা হয়। পরে অভিযোগ পাওয়া যায়, আটক ব্যক্তির পরিচিত এমদাদের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা গ্রহণের পর শরীফকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য,

> “আইনের দায়িত্বে থাকা কেউ যদি অনিয়ম করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার কোথায় যাবে?”

 

অভিযুক্ত আসামি সম্পর্কে তথ্য

অভিযোগে উল্লেখ আছে, আসামি শরীফ কুরিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি সাবেক ইউপি সদস্য শেখ ফরিদের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, শরীফের বিরুদ্ধে বরিশালের একটি মাদক মামলারও ওয়ারেন্ট রয়েছে এবং সেই মামলার তথ্যসহ কাগজপত্র সদর দক্ষিণ থানায় পাঠানো হয়েছিল তাকে গ্রেফতারের জন্য।

অভিযোগ অনুযায়ী, এসআই জনি কান্তি দে তাকে গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রতিবেদকের দাবি, এ ঘটনায় তিনি আসামি শরীফের এক শুভাকাঙ্ক্ষীর সাথে কথোপকথন করেছেন এবং সেই কথোপকথনের প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত আছে।


এসআই জনি কান্তি দে–র প্রতিক্রিয়া

ঘটনার বিষয়ে জানতে প্রতিবেদক ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। প্রথমে কল কেটে দেওয়া হলেও পরে তিনি কল রিসিভ করেন। গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই জনি কান্তি দে বলেন,

> “আমি জানি না।”

 

অর্থ গ্রহণের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্নের মাঝপথে তিনি ফোনটি কেটে দেন।


সিনিয়র সাংবাদিকদের মতামত

কুমিল্লার কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক বলেন,

> “যদি কোনো অনিয়ম না হয়ে থাকে এবং আইন অনুযায়ী সবকিছু হয়, তাহলে ব্যাখ্যা দিতে ভয় থাকার কথা নয়। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। প্রয়োজনে রিপোর্টটি পুলিশ সুপার এবং সদর দক্ষিণ সার্কেল অফিসে পাঠাতে পারেন।”

 


তদন্তের দাবি

এ বিষয়ে স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ থানা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়