মো. সোহেল গাজী
ঢাকা: বহুল আলোচিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা পৃথক তিনটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, তার ছেলে তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন তিনটি মামলায় পৃথকভাবে অভিযোগ গঠন করেন। একইসঙ্গে আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের আওতায় রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অসাধু উপায়ে জাল দলিল, ভুয়া আবেদন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৩০ কাঠা জমির প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দুদক গত বছর পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে। মামলাগুলোতে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা একে অপরের যোগসাজশে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করে প্লট বরাদ্দ আদায় করেন।
তিনটি মামলাই দুদকের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী পরিচালক রুমানা আফরোজের নেতৃত্বে তদন্ত করা হয়। তদন্তে দেখা যায়,
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকার সুবাদে নিজের প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্পের অভ্যন্তরে একটি ‘প্রাইম লোকেশন’ এ ১০ কাঠা জমি বরাদ্দ নেন, যা নীতিমালার পরিপন্থী।
তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় প্রবাসী নাগরিক হলেও একই প্রকল্পে অনৈতিকভাবে ১০ কাঠা প্লট গ্রহণ করেন।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নথি জালিয়াতি ও নিয়ম লঙ্ঘনের মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার তথ্য উঠে আসে।
দুদক বলছে, প্রকৃতপক্ষে এই প্লটগুলো বরাদ্দ পাওয়ার জন্য কোনো যোগ্যতা বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছিল না। তবুও রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তারা জমি বরাদ্দ আদায় করেন।
আদালতের কার্যক্রম:
বৃহস্পতিবার বিচারক মামলাগুলোর চার্জশিট যাচাই করে অভিযোগ গঠন করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর ঘোষণা দেন। আদালত বলেন, “প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো যথেষ্ট উপাদান পাওয়া গেছে।”
এ সময় আসামিরা কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে বিচারক তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর অনুমতি দেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাহবুবুল হক জানান, “এটি একটি উচ্চ প্রোফাইল দুর্নীতি মামলা। দেশের প্রভাবশালী সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।”
তিনি আরও বলেন, “এখন সাক্ষীদের জবানবন্দি ও প্রমাণ উপস্থাপন শুরু হবে। আশা করছি, আইনি প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে।”
মামলার সংখ্যা: ৩টি
আসামি: শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
অভিযোগ: পূর্বাচল প্রকল্পে ৩০ কাঠা জমি বরাদ্দে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার
অভিযোগ গঠন: ৩১ জুলাই ২০২৫
আদালত: ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: জারি করা হয়েছে
এই মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আইনবিভাগের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।