এইচ এম এরশাদ
প্রবাসীদের জীবন স্বপ্ন দিয়ে শুরু হলেও বাস্তবতার কঠিন চাপে তা প্রায়ই দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রবাসী অধ্যুষিত দেশে প্রবাসীদের অকাল মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে হৃদরোগ, স্ট্রোক, হতাশা এবং মানসিক চাপে আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বেতনের বকেয়া ও চরম আর্থিক চাপঃ-
প্রবাসীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো কর্মক্ষেত্রে আর্থিক অনিশ্চয়তা। অনেক কোম্পানিই দুই থেকে তিন মাস বেতন বকেয়া রেখে দেয়, যার ফলে প্রবাসীরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েন। প্রায়ই দেখা যায়, পরিবার দেশে টাকা না পাঠাতে পারায় শুরু হয় পারিবারিক অশান্তি, যা মানসিক চাপকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া ভিসার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে বিদেশে আসা প্রবাসীদের কাঁধে থাকে বিশাল ঋণের বোঝা। সেই ঋণ শোধ করার চিন্তায় তারা সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় ভোগেন।
কোম্পানির চাপ ও কাজের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশঃ-
অতিরিক্ত সময় কাজ, বিশ্রামের সুযোগ না পাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেও কাজ করতে হয় অনেক প্রবাসীকে। কাজের চাপে ক্লান্ত শরীর ও মনের ওপর জমে থাকা উদ্বেগ একসময় প্রাণঘাতী রূপ নেয়।
পারিবারিক প্রত্যাশার বোঝাঃ-
দেশে থাকা পরিবারের অযৌক্তিক প্রত্যাশা এবং নিয়মিত চাপ প্রবাসীদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। বেতন কম হলেও দেশে টাকা পাঠানোর বাধ্যবাধকতা তাদের জীবনকে অসহনীয় করে তোলে।
সরকারি উদ্যোগের দাবিঃ-
প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। তবুও তাদের সমস্যার সমাধানে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ দেখা যায় না।
আমি সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—
প্রবাসীদের জন্য সরকারিভাবে একটি বিশেষ ভাতা চালু করতে হবে, যাতে সংকটের সময় তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পান।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তদারকি বাড়িয়ে কোম্পানির বেতন বকেয়ার মতো সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য দূতাবাস পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
উপসংহারঃ-
প্রবাসীরা শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য বিদেশে আসেন না, তারা স্বপ্ন দেখেন নিজের পরিবার ও দেশের জন্য কিছু করার। কিন্তু যখন সেই স্বপ্নগুলো অর্থহীন হয়ে পড়ে, তখন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় কঠিন বাস্তবতা। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।