কে,এম সুজন
অপব্যবহার ও অনিয়ম ঠেকাতে তৈরি হচ্ছে নতুন এসওপি, মাঠ পর্যায়ে আর হবে না বয়স সংশোধন
জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়ে বয়স সংশোধনের সুযোগ বন্ধ করে এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্রীয়ভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনিয়ম ও অপব্যবহার রোধে তৈরি করা হচ্ছে নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি)।
সোমবার (১০ নভেম্বর) ইসি’র জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব এ এস এম হুমায়ুন কবীর জানান, এনআইডি সংশোধনের বর্তমান প্রক্রিয়ায় অসৎ উদ্দেশ্যে তথ্য পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা দেওয়ায় কমিশন বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়।
তিনি বলেন, “বয়স সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলো এখন থেকে মাঠ পর্যায়ের অফিসে না রেখে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে নিষ্পত্তি করা হবে। এতে ডাটাবেজের সুরক্ষা বাড়বে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে।”
হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এনআইডি সংশোধনের আবেদন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া তথ্য দিয়ে জন্মতারিখ পরিবর্তনের ঘটনাও ধরা পড়েছে। এসব অনিয়ম প্রতিরোধেই নতুন এসওপি প্রণয়নের কাজ চলছে।
তার ভাষায়, “আমরা দেখেছি, কিছু মানুষ প্রকৃত প্রয়োজনে নয় বরং অসৎ উদ্দেশ্যে তথ্য বদলাতে চায়। এতে ডাটাবেজের সঠিকতা নষ্ট হচ্ছে। তাই সংশোধন প্রক্রিয়াকে আরো নিয়ন্ত্রিত ও সময়সীমাবদ্ধ করতে হবে।”
ইসি সূত্রে জানা যায়, নতুন এসওপিতে শুধু বয়স নয়, অন্যান্য তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা যুক্ত করা হচ্ছে। আবেদন ফেলে রাখা, অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান বা দালিলিক প্রমাণ দাখিলে বিলম্বের মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
রবিবার (৯ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সংক্রান্ত কমিটির সভায় এসব প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশনার ও কমিটির সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
সভায় এনআইডি সংশোধন, প্রবাসী নাগরিকদের ভোটার নিবন্ধন এবং ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রস্তাবগুলো কমিশনের অনুমোদন পেলে দ্রুত কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে।