প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মাগুরায় শালিস চলাকালে হাতুড়ি পেটায় বৃদ্ধ নিহত...!

মোঃ শাহারুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার, মাগুরা:

বলুকগ্রাম ও বাহারবাগ গ্রামের দুই গ্রামের মাঝখানে একটা জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বলুগ্রামের বাদশা মোল্লা মারা গেছে।

মাগুরায় গ্রাম্য সামাজিক দলে দাঙ্গা-সংঘর্ষ মাতব্বরদের প্রভাব বিস্তারের দ্বন্দ্বে অশান্ত জনজীবন

মাগুরা জেলায় গ্রাম্য সামাজিক দলমত নিয়ে দাঙ্গা-সংঘর্ষ এ যেন নিত্যদিনের খেলা হয়ে পড়ছে। গ্রামীণ সমাজের ঐক্য ও সম্প্রীতি আজ মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে পড়েছে। একসময় শান্ত গ্রামগুলোতে এখন দলে দলে বিভক্ত মানুষ। সামাজিক অনুষ্ঠান, স্থানীয় সমস্যা সমাধান কিংবা সরকারি প্রকল্প সবকিছুতেই চলছে প্রভাব বিস্তারের লড়াই। এর ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে মারামারি, দাঙ্গা, লুটপাটসহ নানা অশান্তি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ গ্রামে এখন দু'একটি সামাজিক দল সক্রিয়। যারা নিজেদের মাতব্বরদের প্রভাব বিস্তারের জন্য তরুণদের ব্যবহার করছে। কারো সঙ্গে জমির বিরোধ, কারো সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এসবের জেরে প্রতিনিয়তই সৃষ্টি হচ্ছে সংঘর্ষ। ছোটখাটো বিষয় যেমন: খেলার মাঠ ব্যবহার, রাস্তা মেরামত কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়েও এক পক্ষ অপর পক্ষের ওপর হামলা চালাচ্ছে। একজন স্থানীয় শিক্ষক বলেন, এখন গ্রামের অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গেলেই দুই পক্ষের লড়াই শুরু হয়। স্কুল-কলেজের ছাত্ররাও এসব দলে জড়িয়ে পড়ছে। এতে সমাজে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। গ্রামের প্রবীণরা মনে করেন, এসব অশান্তির মূল কারণ হলো গ্রাম্য মাতব্বরদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও প্রভাবের লড়াই। আগে যারা সমাজের নেতৃত্ব দিতেন এখন তাদের অনেকে রাজনীতির ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতার লোভে সমাজকে বিভক্ত করছেন। তরুণদের উস্কে দিয়ে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখছেন। মাগুরা সদর উপজেলার এক জনপ্রতিনিধি বলেন, গ্রামে এখন ছোট একটা বিষয় নিয়েও মারামারি হয়। প্রশাসন গিয়ে সমাধান করে এলেও কিছুদিন পর আবার নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। মূলত মাতব্বরদের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা চলছে, সেটাই এই অস্থিরতার মূল কারণ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিগত ছয় মাসে মাগুরা জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ছোট-বড় মিলিয়ে ২০টিরও বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জনেরও বেশি। বেশ কয়েকটি ঘটনায় মামলা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে বিচারপ্রক্রিয়া থেমে যায়। জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, এই সমস্যা শুধু আইন দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। স্থানীয় নেতৃত্বের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং সমাজের শিক্ষিত শ্রেণিকে এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গ্রামের সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে হলে গ্রাম্য মাতব্বরদের মানসিকতা বদলাতে হবে।

সমাজের শান্তি ও সাধারণ মানুষের কল্যাণকে প্রাধান্য না দিলে এই অস্থিরতা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। গ্রামবাসীর এক প্রবীণ ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন, আগে আমাদের গ্রামে সবাই মিলেমিশে চলত। এখন শুধু দলাদলি আর রেষারেষি। যদি এখনই এসব অপকর্ম বন্ধ না হয় তাহলে আমাদের গ্রামের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

মাগুরা সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের বলুকগ্রামে সালিসি বৈঠককে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় বাদশা মোল্যা (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ২৪ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার জমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে বর্গাচাষি আনোয়ার হোসেন ও শিউলি খাতুনের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার জেরে শুক্রবার দুপুরে মীমাংসার জন্য সালিসি বৈঠক বসানো হয়। সালিস চলাকালে আনোয়ারের ছেলে আবির (২২) উত্তেজিত হয়ে শিউলি খাতুনের আপন মামা বাদশা মোল্যাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। স্থানীয়রা আহত বাদশাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়