প্রকাশিত : ২৭ জুলাই, ২০২৫, ০৩:৫১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৫২ মন বিস্ফোরক উদ্ধার! অপরাধ দমনে অনন্য দৃষ্টান্ত কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়ি

মাসুম বিল্লাহ

কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়ি যেন এখন এক সাহসী অভিযানের প্রতিচ্ছবি। সম্প্রতি ফাঁড়ির চৌকস ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ নিরু মিয়ার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৫২ মন বিস্ফোরক! এমন বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার কেবল একটি অভিযানের সাফল্য নয়— এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের অটল অঙ্গীকারের এক বাস্তব উদাহরণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় পরিমাণে বিস্ফোরক সাধারণ অপরাধ নয়— এটি সন্ত্রাস, পাহাড় কাটা, নদী খনন কিংবা অসাধু ঠিকাদার চক্রের কাজেও ব্যবহৃত হতে পারত। এর আগেই এমন বিস্ফোরক দিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তাই কলাতিয়া ফাঁড়ির এই সফল অভিযান যেন শতাধিক প্রাণ বাঁচানোর সমান।

শুধু বিস্ফোরক নয়, বিদেশি মদ, নেশাজাত দ্রব্য, ভাটি উচ্ছেদ, ইয়াবা ও গাঁজা— কোনো কিছুতেই ছাড় নেই। কলাতিয়ার পুলিশ সদস্যরা যেন একে একে সব অপরাধের শেকড় খুঁড়ে তুলে আনছে।

জানা গেছে, ফাঁড়ির সদস্যরা রাতের আঁধারে অভিযান চালিয়ে গোপন গুদাম ও চোরাচালানের আস্তানাও শনাক্ত করছে। এলাকার মানুষের ভাষায়, “আমরা এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারি।”

কখনো সাধারণ পোশাকে, কখনোবা পিকেটিং করে— কলাতিয়া ফাঁড়ির টিম আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য গ্রেফতার, চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার ও ছিনতাই প্রতিরোধে দারুণ সফল। বিশেষ করে ইনচার্জ নিরু মিয়া নিজেই প্রতিদিন রাতে রাস্তায় টহলে থাকেন, যা আজকের দিনে খুব কমই দেখা যায়।

কলাতিয়া ফাঁড়ির এই ধারাবাহিক সফলতা যেন সমাজকে মনে করিয়ে দেয়:

১. অপরাধের তথ্য পুলিশকে দিন — পরিচয় গোপন থাকবে।

২. এলাকায় অপরিচিত কেউ সন্দেহজনক আচরণ করলে, ৯৯৯ বা স্থানীয় ফাঁড়িতে ফোন করুন।
৩. কেউ যদি মাদকের ব্যবসা বা চোরাইপথে চলাচলের চেষ্টা করে, তা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানান।

মাদকের ভয়াল থাবা যেন আমাদের সন্তানদের গ্রাস না করে— এজন্য ঘরে সন্তানদের উপর নজরদারি জরুরি।
তারা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে— এই বিষয়গুলো পরিবারের সদস্যদের জানা দরকার।

যখন দেশের কিছু থানায় নানা অনিয়ম ও উদাসীনতার অভিযোগ ওঠে, তখন কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়ির মতো কিছু জায়গা নতুন আশার আলো দেখায়।
তাদের কাজ বলছে— সৎ নেতৃত্ব, টিমওয়ার্ক এবং সাহসী পদক্ষেপ
এই তিনটি থাকলেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বদলে যায়।

সবশেষে বলা যায়, কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়ি এখন শুধু একটা ফাঁড়ি নয়— এটি একটি আদর্শ পুলিশিং মডেল।

দেশের অন্য থানাগুলো চাইলে এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে গড়ে তুলতে পারে অপরাধমুক্ত একটি সমাজ।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়