প্রবীর কুমার তালুকদার সুজিৎ, বিশেষ প্রতিবেদকঃ
ফরিদপুরের পদ্মার কোলঘেঁষা শান্ত একটি গ্রাম—চর-ভদ্রাসন, নদীর পানি যেমন আসে, আবার দূরে সরে যায়, তেমনি এই জন-পদের জীবনও বদলে যায় ঋতুর সাথে-সাথে কিন্তু বদলায় না মানুষের মায়া, না বদলায় গ্রামের নিসর্গের সৌন্দর্য, গ্রামের উত্তর পাশে ছিল, মেঠো-পথের ধারে একটি পুরোনো শিমুল গাছ, সেই গাছের নিচেই বসে বই পড়তে ভালোবাসত আরিয়ান, শহরের স্কুলে পড়ে কিন্তু, ছুটির দিনগুলোতে সে দৌড়ে চলে আসে নানার বাড়ি চর-ভদ্রাসনে, এখানে তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু—নদীর ঢেউ আর গ্রামের মানুষের সরল হাসি, একদিন বিকেলে শিমুল গাছের নিচে বসে, নদীর ওপারে তাকিয়ে আরিয়ান দেখল এক অদ্ভুত দৃশ্য—নরম মেঘের ফাঁক দিয়ে রঙধনু নেমে এসেছে, যেন ঠিক চর-ভদ্রাসনের বুকেই, সেই রঙ-ধনুর, দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো, এই রঙ-ধনুর শেষে নিশ্চয়ই কিছু আশ্চর্য গল্প লুকিয়ে আছে, হঠাৎ পাশ থেকে ডাক দিলো ছোট্ট রিমি—
“আরিয়ান ভাই, নদীতে পানি বাড়ছে, চলো দেখি বাঁধের দিকে, দু’জনে দৌড়ে গেলো নদীর ধারে, দেখা গেল, নদীর পানি বেড়ে গেছে, কিন্তু গ্রামের মানুষ ভয় না পেয়ে, ব্যস্ত হয়ে গেছে বাঁধ শক্ত করতে, চর-ভদ্রাসনের মানুষ এমনই—নদী যত-বারই পরীক্ষা নিক, তারা দাঁড়িয়ে যায় একসাথে, আরিয়ানও বাদ রইল না, সে ছোট হাত দিয়ে বালুভর্তি বস্তা টেনে নিলো, রিমি বান্ডিলে গিঁট দিলো, আর পাশের চাচারা হাসতে হাসতে বললেন,
“এই ছেলেটা তো মনের দিক দিয়ে পুরো চর-ভদ্রাসনেরই মানুষ, বৃষ্টি থেমে গেলে রঙধনু আরও স্পষ্ট হলো, বাঁধের কাজ শেষ করে সবাই যখন শ্বাস নিলো, তখন আকাশের রঙধনুটা যেন গ্রামের মানুষের ঐক্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়াল, নানা এসে আরিয়ানের মাথায় হাত রেখে বললেন, বুঝলে বাপু, চর-ভদ্রাসন শুধুই একটা উপজেলা নয়, এটা মানুষের সাহস, ভালোবাসা আর একসাথে দাঁড়ানোর নাম, আরিয়ান নদীর দিকে তাকিয়ে অনুভব করল—এই মাটির গন্ধ, মানুষের সরল মন আর রঙ-ধনুর গল্প তার হৃদয়ে চিরকালের জন্য রয়ে গেলো।