জুনায়েদ কামাল - ব্যুরো চীফ
র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সমাজের অসংগতি, অপরাধের মূল উৎস চিহ্নিতকরণ এবং অপরাধ দমনে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গি, মাদক কারবারি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে ধর্ষণকারী ও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী—সকলকে আইনের আওতায় আনতে র্যাব-১১ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
এই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর একটি চৌকস আভিযানিক দল ১ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে নোয়াখালীর সুধারাম থানাধীন মাইজদী এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভপাত ঘটানোর মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামী মোঃ রাকিব (২৪)-কে গ্রেফতার করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ রয়েছে—ভিকটিমের সঙ্গে আসামীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমের সম্পর্ককে পুঁজি করে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ রাত ১১টা ৩০ মিনিটে আসামী রাকিব কৌশলে ভিকটিমকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেয়। সেখানে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করলে ভিকটিম বাধা দেন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রাকিব শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। ঘটনার পর ভিকটিম অন্তঃসত্ত্বা হলে আসামীকে বিষয়টি জানায় এবং বিয়ের দাবি তোলে। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে রাকিব কালক্ষেপণ করতে থাকে এবং একপর্যায়ে অন্যত্র বিয়ে করে।
গর্ভের সন্তান বড় হলে ২৮ নভেম্বর ২০২৫ সকাল ১০টার দিকে রাকিব ও সহযোগীরা ভিকটিমকে হাউজিং এলাকার একটি অজ্ঞাত বাড়িতে নিয়ে যায়। ‘সুচিকিৎসার’ কথা বলে নানা ওষুধ প্রয়োগ করলে ভিকটিমের তীব্র ব্যথা দেখা দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করলেও উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। রাত ১১টার দিকে ভিকটিম সেখানে একটি মৃত পুত্র সন্তান প্রসব করেন। পরদিন সকাল ৬টায় ভিকটিমকে মৃত সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশকে জানালে থানা পুলিশ মৃত শিশুর ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেয়। ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে সুধারাম থানায় ধর্ষণ ও গর্ভপাতের মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজুর পর থেকেই আসামী পলাতক ছিল। তাকে গ্রেফতারের লক্ষ্যেই র্যাব-১১ গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করে। অবশেষে র্যাব-১১, সিপিসি-৩ এর আভিযানিক দল মাইজদী পৌরবাজার এলাকা থেকে রাকিবকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রাকিব তার পরিচয় ও মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে। পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য তাকে সুধারাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।