মোঃ রফিকুল ইসলাম,
নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশা পাড়া বাজারে সুদের টাকা না দেওয়ায়,বেকারি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মোঃ ইসমাইল হোসেন ওরফে দিদার (৪০) উপজেলার নারায়ণভট্র গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির মৃত মোখলেছুর রহমানের সন্তান।
রবিবার (৩০) নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ১৫ এর দিকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুন্ডু ।
এর আগে, একই দিন দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের নয়াহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত আব্দুর রহিম (৫৭) লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের মতলবপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ উল্যার ছেলে। তিনি সোনাইমুড়ি উপজেলার আমিশাপাড়া বাজারে মিথিলা বেকারির মালিক ছিলেন।
সরে জমিন বার্তা এ প্রতিবেদককে র্যাব-১১ জানায়, গত ১০/১২ বছর ধরে উপজেলার আমিশাপাড়া বাজারে মিতালী বেকারি নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে আব্দুর রহিম। ভিকটিমের সাথে অভিযুক্ত ১নং আসামির সাথে টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল। গত বুধবার সকাল ১০টার দিকে ১নং আসামিসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা আমিশাপাড়া বাজারে ভিকটিমের বেকারি থেকে তাকে বের করে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। পরবর্তীতে আসামিরা বেলা ১১টা ৩০ পর্যন্ত তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধাপে ধাপে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে ভিকটিমকে নুর মোহাম্মাদ বেডিং স্টোর নামে একটি তুলা দোকানের ভিতরে আটকে রেখে সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়।
র্যাব-১১ আরও জানায়, ভিকটিম গুরুতর জখম নিয়ে দীঘিরজান মসজিদে এসে অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে মসজিদের বারান্দায় রাখেন। পরে তাকে চাটখিল সেন্ট্রাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় মৃতের স্ত্রী ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ১০/১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে সোনাইমুড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন,জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি উক্ত হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।তিনি আরো জানান ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামি গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।