মোঃ রাকিবুল ইসলাম
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধিঃ
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের জোর দাবি তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রোববার দুপুর ২টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জুলাই সনদের ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনরত আট দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। সমাবেশমঞ্চে উঠে তিনি পরিষ্কার ভাষায় অভিযোগ করেন—নির্বাচনের আগে দেশে প্রশাসনকে ইচ্ছেমতো বদলিতে সুবিধা দিচ্ছে একটি শক্তিশালী দল, আর তাতেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তাঁর অভিযোগ—অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির পরামর্শেই একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সরকারের গেজেট কোনো ওহির বাণী নয়”—প্রয়োজনে তা সংশোধন করে আগে গণভোট, পরে নির্বাচন করতে হবে।
জুলাই সনদের সাংবিধানিক সংস্কারের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ না করাকে জনগণের জানার অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনের আগ মুহূর্তেও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গড়ে না ওঠায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন স্থানে জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলীয় জোটের সভা-সমাবেশে হামলার ঘটনা প্রমাণ করে—এ অবস্থায় নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
সাম্প্রতিক আদালতপাড়ায় প্রকাশ্যে খুনের ঘটনাকে দেশের আইনশৃঙ্খলার ভয়াবহ দুরবস্থার প্রতিচ্ছবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যে দেশে আদালতের সামনে মানুষ হত্যা হয়, সে দেশে নির্বাচনের দিন ভোট ডাকাতি বা হামলা হবে না—এর নিশ্চয়তা কোথায়?”
প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন—ক্ষমতার খেলায় জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তার ফল শুভ হবে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা বহু ডিসি-এসপি ও আইজিপি পরে পালিয়ে বেড়িয়েছেন, আদালতে দাঁড়িয়ে কাঁদতে হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন—এটিই দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং ভিন্নমতের দমনচর্চার শেষ করার একমাত্র পথ। তাঁর ভাষায়, গণভোট হবে পরিবর্তনের দুয়ার খুলে দেওয়ার প্রথম সোপান।