প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ০৪:৫৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পেটিসে তেলাপোকা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে শাহী বেকারিকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা

এনামুল হক আরিফ 

ব্যুরো চিফ ব্রাহ্মণবাড়িয়া 

তারিখ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫
স্থান: সদর উপজেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সময়: দুপুর ১২.০০টা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একটি চৌকস দল সদর উপজেলার টিএ রোড বাজার এলাকায় অবস্থিত মেসার্স শাহী বেকারিতে আজ একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।ঘটনার সূচনা: শিশু শিক্ষার্থীদের খাবারে মিললো তেলাপোকা,সিরাজুল উলুম তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য উক্ত বেকারি থেকে পেটিস কেনা হলে পেটিসের ভেতর থেকে জীবন্ত তেলাপোকা পাওয়া যায়। ঘটনাটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।পরবর্তীতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় এবং ভোক্তা সুরক্ষার প্রশ্নে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযান পরিচালনা ও তদন্তে যে ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে,অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই আজ দুপুর ১২টায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ টিম প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা জনাব মো. বশির আহমেদ।অভিযানের সময় দেখা যায়:বেকারির ভেতরে চরম অস্বাস্থ্যকর, দুর্গন্ধযুক্ত ও নোংরা পরিবেশ খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ,রান্নাঘর ও প্রস্তুতকরণ জায়গায় যত্রতত্র তেলাপোকার বিচরণ,প্রস্তুত খাবার ও কাঁচামালের সংরক্ষণে নিরাপত্তার ঘাটতি,কর্মচারীদের সঠিক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করার প্রবণতা,খাবারের মান যাচাই বা প্যাকেটজাত প্রোডাক্টে কোনো গুণগত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকা,পেটিসে তেলাপোকা থাকার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়।জরিমানা, ক্ষতিপূরণ ও আইনগত ব্যবস্থা,তদন্তে প্রতিষ্ঠানের দায় প্রমাণিত হওয়ায় মেসার্স শাহী বেকারি (প্রো: মো. মোছলেহ উদ্দিন)-কে সর্বমোট ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ টাকা) জরিমানা করা হয়।জরিমানার বিস্তারিত,ভোক্তা অভিযোগের ভিত্তিতে: ৪০,০০০/- টাক, এর মধ্যে ২৫% অর্থাৎ ১০,০০০/- টাকা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান—সিরাজুল উলুম তালিমুল কুরআন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে হস্তান্তর করা হয়।অপরিষ্কার, অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ার জন্য: ৬০,০০০/- টাকা,মোট জরিমানা আদায়: ১,০০,০০০/- টাকা,এই আর্থিক দণ্ড শুধু অর্থদণ্ডই নয়—এটি জনগণের স্বাস্থ্য অধিকার রক্ষার একটি দৃঢ় বার্তা।বেকারিকে কড়া সতর্কবার্তা,ভিযানে বেকারির মালিককে সতর্ক করে জানানো হয়—খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্য আইন মেনে চলতে হবে।প্রস্তুত প্রক্রিয়া ও পরিবেশ অবিলম্বে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়ম ঘটলে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে ভোক্তার স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কোনো ছাড় নেই।ভোক্তা অধিকার রক্ষায় নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে,জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয় জানিয়েছে “জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। খাদ্যে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ভোক্তার স্বাস্থ্য ঝুঁকি—কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”এ অভিযান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাবাসীর জন্য একটি আশ্বাস—খাদ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সদা তৎপরধন্যবাদ,ইফতেখারুল আলম রিজভী,সহকারী পরিচালক,জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়