এনামুল হক আরিফ
ব্যুরো চিফ ব্রাহ্মণবাড়িয়া
পুরনো লাইসেন্স ব্যবস্থা বাতিল করে দ্রুত নতুন লাইসেন্স প্রদান করার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারি চালিত রিক্সা ও ভ্যান শ্রমিকরা। সোমবার সকাল থেকেই শত শত রিক্সা–ভ্যানচালক প্রেসক্লাব চত্বরে জড়ো হয়ে লাইসেন্স জটিলতা নিরসনের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
অবরোধের কারণে শহরের পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত যানচলাচল প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প রুট ব্যবস্থাও কার্যত ভেঙে পড়ে। ফলে অফিসযাত্রী, স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।শ্রমিকদের অভিযোগ,বিক্ষোভকারীদের দাবি—বহু বছর ধরে তারা পুরনো লাইসেন্সে চলাচল করলেও হঠাৎ করে নতুন করে লাইসেন্স প্রদানের কথা বলা হচ্ছে।
পুরনো লাইসেন্স বাতিল করা হলে তাদের জীবিকা বিপন্ন হবে।
নতুন লাইসেন্স প্রদানে দালালচক্র সক্রিয় হয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করছে।আয় কমে যাওয়ায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।এক রিক্সাচালক আব্দুল করিম বলেন—“আমরা দিনের পর দিন কিস্তি তুলে রিক্সা চালাই। এখন আবার নতুন লাইসেন্সের জন্য টাকা দিতে হবে—এটা কিভাবে সম্ভব? আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে।”আরেকজন ভ্যান শ্রমিক হেলাল উদ্দিন বলেন“পুরনো লাইসেন্স বাতিল করলে হাজার হাজার পরিবার রাস্তায় বসে যাবে। সরকার চাইলে একদিনেই সমস্যার সমাধান করতে পারে।” অবরোধস্থলে উত্তেজনা
সকাল ১০টার দিকে প্রেসক্লাবের সামনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকরা সড়কের মাঝখানে রিক্সা সারিবদ্ধ করে বসে পড়েন। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ব্যানার–ফেস্টুন নিয়ে তারা ‘লাইসেন্স চাই—জীবন বাঁচাই’ স্লোগানে মুখর ছিলেন।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য,বিক্ষোভে উপস্থিত শ্রমিক সমিতির নেতারা বলেন—“নতুন লাইসেন্স প্রদানের নামে অনিয়ম চলছে। প্রশাসন যদি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কাজ না করে তবে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”তারা আরও জানান, লাইসেন্স বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে জেলা প্রশাসন কার্যালয় ঘেরাও, অনির্দিষ্টকালের পরিবহন অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া,জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়—নতুন করে লাইসেন্স প্রদানের একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।পুরনো লাইসেন্সধারীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে বিবেচনা করা হবে।শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।তবে শ্রমিকরা দাবি করেছেন, লিখিত আশ্বাস ছাড়া তারা ঘরে ফিরবেন না।শহরে জনদুর্ভোগ,অবরোধের কারণে—শহরের প্রধান সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।অ্যাম্বুলেন্স চলাচলেও বাধা তৈরি হয়।স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীরা দেরিতে পৌঁছায় বাজারে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়।অনেক যাত্রীকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়।