প্রকাশিত : ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:৪০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে গলাচিপার নৌযান চলাচল

হুজ্জাতুল ইসলাম 

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

উপকূলীয় গলাচিপায় ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে গলাচিপার নৌযান চলাচল। এ উপজেলাটি উপকূলীয় হওয়ায় জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য খাল, নদ-নদী। সঠিক  নজরদারি ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নাব্যতার সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে প্রতিনিয়ত নৌযানগুলো দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়েত করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে। শুকনা মৌসুমে এসব এলাকা চিহ্নিত করে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাচ্ছেন নৌযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কর্মরতরা।

গলাচিপা-রাঙ্গাবালীর মৌডুৃবি রুটে চলাচলকারী মেসার্স অমি শিপিং এর এমভি নবনীতা লঞ্চের মাস্টার মো. সাহেদ সরদার বলেন, গলাচিপার আগুনমুখার মোহনায় অসংখ্য ডুবোচর জেগে উছেছে। একই সাথে চরপাঙ্গাসিয়া, মাঝের চর, রাঙ্গাবালীর চরনজির, গাইয়াপাড়ায় নাব্যতা সঙ্কট বেশি। ডুবো চরের কারণে মৌডুবি থেকে শুকনা মৌসুমে প্রায় প্রতিদিনই রাত ১০টার দিকে লঞ্চ আগেই পল্টুন থেকে ছেড়ে অন্তত এক দেড় কিলোমিটার দূরে রাখতে হয়। তা না হলে সকাল ৭টায় ডুবোচরে মৌডুবি লঞ্চঘাট থেকে যথাসময়ে লঞ্চ ছেড়ে আসা যায় না। ডুবো চরের কারণে জোয়ার ভাটা দেখে অনেক পথ ঘুরে যেতে হয়। 

গলাচিপার আলম মিয়া বলেন, গলাচিপার বিভিন্ন নদ-নদীতে নাব্যতা সঙ্কট এখন তীব্র আকার নিয়েছে। নদ-নদীগুলোতে অসংখ্য ডুবোচর জন্ম নেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে গলাচিপা পৌর এরাকার একমাত্র নৌরুট রামনাবাদ চ্যানেলটি। এছাড়াও আগুনমুখা নদীর মোহনা নাব্যতার কারণে সঙ্কীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এতে গলাচিপা-চরমোন্তাজ ও উলানিয়া-চরমোন্তাজ রুটে নৌ চলাচল পুরোপুরি অচল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া চর কাজল এলাকার জিনতলা চ্যানেলটি পলিমাটি জমে ইতিমধ্যেই সিলড হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, এ এলাকায় ছোট-বড় লঞ্চ, ট্রলার ডুবো চরে আটকিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। অন্যান্য রুটেও কমবেশি নাব্যতা বিরাজ করলেও পানি মেপে মেপে নদী অতিক্রম করছে ট্রলার বা লঞ্চ চালকরা। এর ফলে মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে নৌ চলাচল। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। 
গলাচিপা-রাঙ্গাবালী রুটের এমএল তায়হাম ২ লঞ্চের স্টাফ মোহাম্মাদ ইমাম বলেন, ‘নদীর স্রোতের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা হলে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেত অনেক মানুষ। ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা যেত সহায়-সম্পদ। পাশাপাশি নদীগুলো সঠিক ড্রেজিং করা হলে এ সমস্যা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যেত।’ 

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী নৌ বন্দরের সহকারী পরিচালক ও সহকারী বন্দর এবং পরিবহণ কর্মকর্তা মো. জাকি শাহরিয়ার বলেন, প্রতিবছর শুকনো মৌসুমেই আমাদের ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়ে থাকে। সে হিসেবে আমাদের ড্রেজিং কার্যক্রম চালু করেছি। গলাচিপার লঞ্চঘাটসহ অন্যান্য জায়গায় যে সমস্যা আছে সেগুলোর বিষয়ে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো। এছাড়া বড় ড্রেজিংয়ের জন্য উর্ধ্বতন কর্তর্র্ৃপক্ষকে অবহিত করেছি, তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়