প্রকাশিত : ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:১৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নৃশংস খুন

এনামুল হক আরিফ 

ব্যুরো চিফ ব্রাহ্মণবাড়িয়া 

সাদ্দাম হত্যায় ৭ জনকে আসামি করে মামলা, এলাকায় শোক–আতঙ্ক,ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন (৩২)। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। পরে গলা কেটে সাদ্দামকে হত্যা করা হয়—যা স্থানীয়দের মতে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।মরদেহ ঘিরে স্বজনদের আহাজারি, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি,ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে পরিবার ও এলাকাবাসী ছুটে আসে ঘটনাস্থলে। রক্তাক্ত দেহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে আহাজারিতে ভেঙে পড়ে পরিবার। সাদ্দামের মা বারবার ছেলের নিথর দেহ জড়িয়ে শোক প্রকাশ করতে করতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।কান্দিপাড়া এলাকা এক সময়ের জনাকীর্ণ মুহূর্তেই পরিণত হয় ভয়ার্ত জনপদে—দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে যায়, আর চারদিকে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।নিহতের বাবার করা মামলায় ৭ জনের নাম, প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন দিলীপ,শুক্রবার রাতে নিহতের বাবা মো. মস্তু মিয়া বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।এছাড়াও ৫–৭ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীকেও মামলার আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের পরিচয় তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।ওসির বক্তব্য: “দ্রুত গ্রেফতার নিশ্চিত করা হবে”সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন—“রাত সোয়া ৮টার দিকে নিহতের বাবার দেওয়া এজহার আমরা পেয়েছি। মামলা এফআইআর করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগসহ বিভিন্ন বাহিনী কাজ করছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই মূল আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও জানান, সারা শহরে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে পুলিশ উচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।ঘটনার পর লাশ বাড়িতে নেওয়া হয় রাত ১০টার দিকে,মামলা দায়েরের পর রাত ১০টার দিকে সাদ্দামের লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গ থেকে এনে কান্দিপাড়ার নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। লাশ পৌঁছানোর সাথে সাথে এলাকাবাসীর কান্না আর ক্ষোভে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।স্বজনদের দাবি, সাদ্দাম কোনো রাজনৈতিক বিরোধে জড়িত ছিলেন না; বরং এলাকায় কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বজায় রাখতে, পরিকল্পিতভাবে সাদ্দামকে টার্গেট করে আসছিল।স্থানীয়দের ক্ষোভ: “এমন হত্যার বিচার না হলে কেউ নিরাপদ নয়”এলাকাবাসী জানান, কান্দিপাড়ায় কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছিল। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও পরিস্থিতি কখনোই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।স্থানীয়রা বলেন—“এভাবে একজন যুবককে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা—এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয় পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার না করলে আমরা নিরাপদ নই।”
পুলিশের ধারণা: পুরোনো বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ড,তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সাদ্দাম হত্যার পেছনে এলাকায় দুই পক্ষের পুরোনো দ্বন্দ্ব, ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিরোধ এবং স্থানীয় প্রভাব বিস্তার ইস্যু মূল ভূমিকা রেখেছে।তবে ঘটনাটি আরও ব্যাপকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও আসামি বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।পরিবারের দাবি—দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই,নিহতের বাবা মো. মস্তু মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন “আমার ছেলেকে যেভাবে মেরেছে, একজন বাবার জন্য এর চেয়ে বড় কষ্ট নেই। আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই।”

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়