প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০৫:৪০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কবিরহাটে থানার সামনে, তরুণ  হত্যার ঘটনায়  হাতাহাতি,আটক ২

মোঃ রফিকুল ইসলাম 
নোয়াখালী 
জেলা প্রতিনিধি 


নোয়াখালী কবিরহাট উপজেলায় আনোয়ার হোসেন সাব্বির (২২) নামে এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যার ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক ভাবে দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
আজ সকালে এ ঘটনায় থানার সামনে বাদী ও বিবাদী দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় হাতাহাতি হয়েছে। উক্ত  ঘটনাকে কেন্দ্র করে  তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।   
বৃহস্পতিবার (২৭) নভেম্বর সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহীন মিয়া। এর আগে গতকাল বুধবার (২৬) নভেম্বর সন্ধ্যা  ৭টা ৩০ এর দিকে উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের চর গুল্যাখালী গ্রামের পান বেপারী বাড়িতে এ হত্যার  ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী সাব্বির কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে বুধবার দিবাগত রাতে বৃহস্পতিবার  (২)টার দিকে তার মৃত্যু হয়।   

সাব্বির উপজেলার চাপরাশিরহাট ইউনিয়নের (৮) নং ওয়ার্ডের রামেশ্বপুর গ্রামের তাজু ড্রাইভার বাড়ির মোঃ লিটনের সন্তান। 
অপরদিকে আটকরা হলেন কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের পান বেপারী বাড়ির মোঃ সিরাজের ছেলে আব্দুর সোবহান। শামীম (৩০) ও তার স্ত্রী ফারহানা আক্তার (২৩)।    
নিহতে  উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সাব্বিরের বন্ধু আনোয়ার হোসেন শাকিল জানান  পারিবারিক কলহের জেরে ৪-৫ দিন পূর্বে  উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের চর গুল্যাখালী গ্রামের পান বেপারী বাড়ির, আমার খালা মানোয়ারা বেগমের খেতের লাউ গাছ গোপনে কেটে ফেলে তার দেবর শামীম। তিনি বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা হাতেনাতে দুর্বৃত্তকে ধরতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে গতকাল বুধবার বিকেলে আমার খালার  মরিচ গাছের চারা কেটে ফেলার সময় তিনি তার দেবর শামীমকে দেখে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে জিজ্ঞাসা করলে উল্টো তার দেবর আমার খালাকে মারধর শুরু করেন। খবর পেয়ে সন্ধ্যার দিকে আমি আমার বন্ধু সাব্বির সহ আমার খালার বাড়িতে গিয়ে তাকে হাসপাতালে পাঠাই। এরপর আমরা আমার খালার বসতঘরে তালা দিয়ে চলে আসার পথে শামীম আমাদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন নারীদের গন্ডগোল হয়েছে, তিনি কিছু করেননি। এরপর আমরা কেন এসেছি বলেই ক্ষিপ্ত হয়ে শামীম তার হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সাব্বিরকে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে (২৫০) শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়,সাব্বিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক  দেখে  সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে বুধবার দিবাগত রাত (২)টার দিকে সাব্বির মারা যায়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সরে জমিন বার্তা প্রতিনিধিকে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি  মোঃ শাহীন মিয়া বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে মাথায় কুপিয়ে ওই তরুণকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে সে মারা যায়। পুলিশ উক্ত হত্যার বিষয়ে অভিযানে রয়েছে। থানায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি, পরবর্তীতে  এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়