প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:২৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডিবির অপারেশন থিয়েটারে ভরাডুবি ডাকাত চক্র: দুই পিকআপ, অস্ত্রভাণ্ডার ও গরু উদ্ধার

আলাউদ্দিন, সিনিয়র রিপোর্টারঃ

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), চান্দিনা থানা, সদর দক্ষিণ থানা, লালমাই থানা ও লাকসাম থানা পুলিশের সমন্বিত টিম এক দুঃসাহসিক অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য নয়নসহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। এসময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত নীল ও হলুদ রংয়ের দুইটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন পিকআপ ভ্যান এবং বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ধরা

২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, চান্দিনা থানার বরকড়ই নাথের বাড়ী এলাকায় ১৫–১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল বড় ধরনের ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এর নেতৃত্বে একাধিক অপারেশনাল টিম ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে ডাকাত দলের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।

ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটে পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে নীল রংয়ের পিকআপে থাকা কয়েকজন ডাকাত পালানোর চেষ্টা করে। তবে দ্রুত অভিযান চালিয়ে পিকআপের ভেতর থাকা তিনজন এবং পিছনে থাকা সদস্যদের মধ্যে একজনকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। হলুদ রংয়ের আরেকটি পিকআপ গাড়ি পালিয়ে গেলে সেটিকে আটকাতে ডিবি পুলিশের দুইটি টিম ধাওয়া শুরু করে।

দেড় ঘণ্টার ধাওয়া ও পুকুরে লাফ দিয়ে গ্রেফতার

হলুদ পিকআপটি লাকসাম, লালমাই ও সদর দক্ষিণ থানা এলাকার বিভিন্ন ফিডার রোড দিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে ধাওয়া করা হয়। এসময় ডাকাত দলের নেতা নয়ন পিকআপ দিয়ে ডিবি পুলিশের দুই সদস্যকে চাপা দেওয়ারও চেষ্টা করে। পরে সদর দক্ষিণ থানার ফিরিঙ্গির হাট এলাকায় পিকআপটি আটকালে নয়ন ও তার সহযোগী দৌড়ে পালিয়ে যায়। প্রায় ৩০ মিনিট ধাওয়া করার পর নয়ন একটি পুকুরে লাফ দিলে, পেছন থেকে ডিবির পাঁচ সদস্যও পানিতে নেমে তাকে আটক করেন। তবে তার আরেক সহযোগী পালিয়ে যায়।

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়

১. মোঃ নয়ন (৩৪) – ১১টি মামলার আসামি, তিতাস, কুমিল্লা
২. মোঃ রায়হান (২০) – ৫টি মামলা রয়েছে, চান্দিনা, কুমিল্লা
৩. মোঃ সজীব রানা (28) – ১টি মামলা, চান্দিনা, কুমিল্লা
৪. মোঃ শাহাদাত হোসেন (২৪) – চান্দিনা, কুমিল্লা
৫. মোঃ নাছির (২৫) – চান্দিনা, কুমিল্লা

গ্রেফতারকৃতরা চলতি মাসে লাকসাম ও চান্দিনা এলাকায় সংঘটিত গরু ডাকাতির ঘটনা স্বীকার করেছে।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও আলামত

রেজিস্ট্রেশনবিহীন দুইটি পিকআপ

টোটো রিভাল বার, বোল্ট কাটার

কাঠের বাটযুক্ত দুইটি ছুরি

লোহার তিনটি চাপাতি

হেঞ্জো ব্লেড কাটার


উদ্ধারকৃত গরু

গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে লাকসাম থানা এলাকায় ১ নভেম্বর সংঘটিত ডাকাতির ৩টি গরু ও ২টি বাছুর উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপারের বক্তব্য

কুমিল্লা পুলিশ সুপার নাজির আহম্মদ খান বলেন,
“আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের ওপর নজরদারি করে আসছিলাম। তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিত ডাকাতির সঙ্গে তারা জড়িত।"

অভিযান-পরবর্তী সময়ে চান্দিনা, দেবিদ্বার ও দাউদকান্দি এলাকায় আরও কয়েকটি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়