তৌহিদ হাসান জেলা প্রতিনিধি
জামালপুর জেলার সীমান্ত ঘেঁষা বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দিতে সামান্য মরিচের চারা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আপন চাচার পরিবারের সদস্যদের হামলায় দেলসাদ আলী নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।দেলসাদ আলীর বয়স আনুমানিক ৬০, এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফুলেরা বেগম বাদী হয়ে সারিয়াকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মরিচের চারা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দেলসাদ আলীর ওপর তার আপন চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা হামলা চালায়। আসামিরা রামদা, চাইনিজ কুড়াল এবং বাঁশের লাঠি নিয়ে হামলার ঘটনা চালায় । হামলার সময় দেলসাদ আলীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার চাচাতো ভাই রঞ্জু খানকে কুপিয়ে জখম করা হয় এবং আরেক চাচাতো ভাই দেলোয়ারকেও আহত করেন হামলাকারীরা।
ঘটনার দিন গুরুতর আহত অবস্থায় দেলসাদ আলীকে প্রথমে মাদারগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত ঢাকার সুপার ম্যাক্স হেলথ কেয়ার লিমিটেডের ক্লিনিকের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন, ১৩ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১০টায় দেলসাদ আলী মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যুর পর তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সযোগে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নিহতের স্ত্রী ফুলেরা বেগম বাদী হয়ে সারিয়াকান্দি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন:
১। মোঃ মিজানুর রহমান (৪০)
২। মোঃ সোহেল ওরফে মুকুল খান (২৫)
৩। মোঃ জালাল খান (৫০)
৪। মোঃ টোকন খান (৩৫)
(উক্ত চারজনের পিতা: মোঃ চাঁন মিয়া খান)
৫। মোঃ আসাদুল খান (২২) (পিতা: মোঃ জালাল খান)
৬। মোছাঃ রাশেদা বেগম (৪৫) (স্বামী: মোঃ জালাল খান)
৭। মোছাঃ ছবিরন বেগম (৬০) (স্বামী: মোঃ চাঁন মিয়া খান)
৮। মোঃ চাঁন মিয়া খান (৬৮) (পিতা: মৃত পরবত আলী খান)
সকলের গ্রাম উত্তর শংকরপুর, থানা- সারিয়াকান্দি, জেলা- বগুড়া।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য সাংবাদিকরা তাদের বাড়িতে গেলে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা পলাতক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, "মামলার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। আসামি গ্রেফতারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে"।