প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:০২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিডার নিকোটিন কারখানার অনুমোদন আদালতের নির্দেশনার স্পষ্ট লঙ্ঘন: বিটিসিএ-বাটা

মোঃ রিপন হাওলাদার:

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কর্তৃক ফিলিপ মরিস বাংলাদেশ লিমিটেডকে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া মহামান্য আপিল বিভাগের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যাডভোকেটস (বিটিসিএ) ও বাংলাদেশ অ্যান্টি টোব্যাকো অ্যালায়েন্স (বাটা)। সংগঠন দুটি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, বিডার এই অনুমোদন সংবিধানবিরোধী, জনস্বাস্থ্যবিরোধী এবং সরকারের নিজস্ব স্বাস্থ্যনীতি ও আদালতের রায়ের পরিপন্থী।

সংগঠন দুটি জানায়, সম্প্রতি এক গণমাধ্যমে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান দাবি করেছেন—তিনি আইন মেনেই ফিলিপ মরিস বাংলাদেশকে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের অনুমোদন দিয়েছেন। এই বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর ও জনস্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বিটিসিএ ও বাটা জানায়, এই মন্তব্যের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়ানো হচ্ছে এবং সরকারের জনস্বাস্থ্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি নিকোটিন পাউচ পণ্যের প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে অবগত নন। তাঁর বক্তব্য—“আমি এই প্রযুক্তিগত বা জ্ঞানগত বিতর্কে যাচ্ছি না—একটি পাউচ কি বিড়ির চেয়ে খারাপ বা পাউচ আসলে কী”—প্রমাণ করে যে পর্যাপ্ত মূল্যায়ন ছাড়া শুধুমাত্র বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিটিসিএ ও বাটার মতে, নিকোটিন পাউচের ক্ষতিকর দিক নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে। সংস্থাটির মতে, এটি অত্যন্ত আসক্তিকর, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। অথচ অনুমোদন প্রদানের সময় বিডা ও বেজা দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থা—স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও বিএসটিআই—কে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সরকারি প্রশাসনিক নীতিমালার পরিপন্থী।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সব ভেষজ ও দ্রব্য নিষিদ্ধ করা। অথচ বিডা নতুন নেশাজাত পণ্য উৎপাদনের অনুমোদন দিয়ে সেই সাংবিধানিক দায়িত্ব লঙ্ঘন করেছে।

সংগঠন দুটি ২০১৬ সালের মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় (সিভিল আপিল নং ২০৪–২০৫/২০০১)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, “দেশে নতুন কোনো তামাক বা তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিকে অনুমোদন বা লাইসেন্স প্রদান করা যাবে না।” অথচ বিডা ও বেজা আদালতের এই রায় অমান্য করে ফিলিপ মরিসের কারখানা অনুমোদন দিয়েছে, যা আদালতের নির্দেশনা ও সংবিধানের সরাসরি লঙ্ঘন।

বিটিসিএ ও বাটা জানায়, সম্প্রতি দেশের ৩৫টি মন্ত্রণালয় অসংক্রামক রোগ (NCDs) নিয়ন্ত্রণে যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছে, যেখানে তামাক নিয়ন্ত্রণকে অন্যতম অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিডা সরকারের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান হয়েও সেই ঘোষণার পরিপন্থী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংগঠন দুটি সতর্ক করে বলেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে এবং চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই জনগণকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিকোটিন পাউচের মতো ক্ষতিকর পণ্যের অনুমোদন জনগণের স্বাস্থ্য, যুবসমাজ ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ হুমকি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিডার দায়িত্ব শুধু বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা নয়—বরং জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে বিনিয়োগ অনুমোদন দেওয়া। তাই সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা ও সংবিধান অনুযায়ী বিডার দেওয়া এই অনুমোদন অবিলম্বে বাতিল করা হোক।

 বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যাডভোকেটস (বিটিসিএ)-এর সৈয়দা অনন্যা রহমান এবং বাংলাদেশ অ্যান্টি টোব্যাকো অ্যালায়েন্স (বাটা)-এর নেতৃবৃন্দরা 

 প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “দেশকে তামাকমুক্ত করার অঙ্গীকার রক্ষায় বিডার বেআইনি অনুমোদন বাতিল এখন সময়ের দাবি।”


সরে/আর/এইচ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়