চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি॥মনির হোসেন বিল্লাহ
বাংলার প্রবাদ— ‘জোড় যার, মুল্লুক তার’— যেন বাস্তব চিত্র হয়ে উঠেছে ভোলার চরফ্যাশনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সিকদার চরে। এখানকার অসহায় কৃষকদের ঘামে-ভেজা পরিশ্রমে ফলানো পাকা ধান কেটে নিচ্ছে কথিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ রমিজ বাহিনী। কৃষকরা ধান কাটতে বাধা দিলে, দেড় শতাধিক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
অসহায় কৃষক ইউসুফ সিকদার, সুমন সরদার, সোলাইমান, শাহিন, সজিব ও মিজান হাওলাদারসহ শতাধিক কৃষক জানান— প্রশাসনের লোকজনও কখনো কখনো রমিজ বাহিনীর ভয়ে ওই চরে যেতে ভয় পান। গত বুধবার চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় রমিজ বাহিনী রাতের আঁধারে ধান কাটার মেশিন নিয়ে প্রায় ২০-২৫ একর জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে যায়।
পরদিন ঘটনাস্থলে সংবাদকর্মীরা গেলে তাদের উপস্থিতিতেই কৃষকদের উপর ফের হামলা চালায় রমিজ বাহিনী। এতে আতঙ্কিত হয়ে কৃষকরা আশ্রয় নেন ভোলা-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুবদল সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের কাছে। নয়ন সাংবাদিকদের বলেন, “সন্ত্রাসী কিংবা দলখোরদের কোনো স্থান বিএনপিতে হবে না। কৃষকের পাশে থাকব, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, নজরুল নগর ইউনিয়নের রমিজ তালুকদার নিয়মিতভাবে তার বাহিনী নিয়ে সিকদার চরে গিয়ে চাঁদা দাবি করে। ফসল পাকার আগে মুখ বন্ধ রাখলেও, ধান বা তরমুজ পাকার সময়ই হাজির হয় চাঁদাবাজ বাহিনী। চাঁদা না দিলে ফসল কেটে নিয়ে যায়।
৯নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন জুয়েল বলেন, “ধানের মাথা লাল হলেই রমিজ তালুকদার গরম হয়ে ওঠে। কৃষকের ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য সে বাহিনী পাঠায়।” কৃষক সুমন সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ধান চাষের সময় কিছু বলে না, কিন্তু পাকে গেলেই ধান কাটতে পায়তারা চালায়।”
অভিযুক্ত রমিজ তালুকদার অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওই চরে আমারও জমি আছে, নিজের জমির ধানই আমি কেটেছি।”
দুলারহাট থানার ওসি আরিফ ইফতেখার বলেন, “সিকদার চরের ধান লুটপাটের খবর পেয়েছি। উভয় পক্ষকে জমির কাগজপত্রসহ থানায় আসতে বলা হয়েছে।”
অসহায় কৃষকরা এখন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তা দাবি করছেন। তাদের প্রশ্ন— “চাষ করব আমরা, আর ধান কেটে নিয়ে যাবে রমিজ বাহিনী? তাহলে আমরা বাঁচব কীভাবে?”