মোঃ গিয়াস উদ্দিন লিটন, চট্টগ্রাম ব্যুরো
শিক্ষার মানেন্নয়ন ও সার্বিক শৃঙ্খলা বিধান বিষয়ক করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে
ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরাইপাড়া সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের সাথে শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার (২৮ মে) সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে
এই মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আফছার উদ্দিন কুতুবীর সভাপতিত্বে ও বিদ্যালয়টি সহ প্রধান শিক্ষিকা বিলকিছ জাহানের এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন স্কুলের সহকারী শিক্ষক মোঃ নাজিম উদ্দীন,
স্বাগত বক্তব্য স্কুলের সিনিয়র শিক্ষিকা উম্মে আম্মারা বলেন আমি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছি, ইদানিং এমন কিছু বিষয় লক্ষ্য করছি, যা অভিভাবকদের সাথে শেয়ার করাটা খুব জরুরী, আগে ছেলেরা সিগারেট খেতো এখন আমাদের
মেয়েরাও ই সিগারেট খাচ্ছে,পড়াশোনায় সম্পূর্ণ অমনোযোগী, শিখার কোন আগ্রহ নেই, মেয়েরা একজন আরেকজনের সাথে গল্প করে পড়াশোনা করে কি লাভ কিছুদিন পরে বিয়ে দিয়ে দিবে।
মায়েদের প্রতি অনুরোধ করে বলেন আপনারা এই ধরনের আলোচনা মেয়েদের সামনে করবেন না। এতে করে সন্তানেরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে, সন্তান যদি কোন কিছু আবদার করে, সামর্থ্য থাকলেও সাথে সাথে পূরণ করবেন না। ওরা পড়া লেখার মাধ্যমে আপনাদেরকে খুশি করলে আপনারও তাদের আবদার রক্ষা করার চেষ্টা করবেন। তিনি বিনয়ের সাথে বলেন সন্তানদের মোবাইল ব্যবহারের প্রতি খেয়াল রাখবেন।
মায়েরা হচ্ছেন জাতি গড়ার কারিগর, আপনাদের সচেতনতাই আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ।
শিক্ষকদের ব্যাপারে আপনাদের যদি কোন অভিযোগ থাকে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে কিছু না বলে আলাদাভাবে আলোচনা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।
অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সদস্য বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও শিক্ষানুরাগী নূর আহমেদ গুড্ডু তিনি বক্তব্যের শুরুতে অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,করোনা মহামারি চলাকালী অনলাইনে ক্লাস হওয়ায় মোবাইল প্রয়োজন ছিল, এখন থেকে আমাদের শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল দেয়া যাবে না, আপনার সন্তানের প্রতি আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। স্কুলে ঠিকভাবে আসছে কিনা, ক্লাস করছে কিনা এই বিষয়গুলা তদারকি করতে হবে। স্কুলের সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো তুলে ধরে বলেন, আপনারা জেনে অবাক হবেন, আমাদের ছাত্রীরা ই- সিগারেট খাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস রুমের ফ্যানের পাতা বাঁকা করে দিচ্ছে, ওয়াশরুমে পানি না থাকলে ফিটিংস এর মালামাল ভেঙে ফেলা সহ বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। কোন কোন শিক্ষার্থীরা এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে তার তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। আমরা অভিভাবকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করছি এবং পরিচালনা পর্ষদের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো আপনাদের অবগত করছি। (১) শিক্ষার্থীদের প্রথম এবং দ্বিতীয়বার সতর্ক করা হবে, তৃতীয়বার বহিষ্কার করা হবে।
(২) ছাত্র-ছাত্রীদের আলাদা ক্লাস করার ব্যবস্থা করা হবে।
(৩) এখন থেকে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ক্লাস এবং ক্লাসের বাইরে শাসন করবে, কারণ স্কুলের আশেপাশের গলিগুলোতে শিক্ষার্থীদের আড্ডা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনারা মাঝে মাঝে স্কুলে আসবেন এবং শিক্ষকদের সাথে সবসময় যোগাযোগ রাখবেন। টাকা না দিয়ে টিপিন বাসা থেকে বানিয়ে দিবেন।
এই উদ্যোগগুলো শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ মঙ্গলের জন্যই নেয়া হয়েছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই শিক্ষার্থীরা সু-সন্তান হিসেবে গড়ে উঠবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আবু মুসা অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় খারাপ করার পর কিছু অভিভাবক শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের কাছে সুপারিশ নিয়ে আসেন, আমি আপনাদেরকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি এখন থেকে ফেল হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কোন সুপারিশ চলবে না। আপত্তিকর আলোচনা সন্তানদের সামনে করবেন না।
ইদানিং মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে। এখন থেকে আমাদের সবাইকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।
অভিভাবক গণ তাদের বক্তব্যে কিছু বিষয় তুলে ধরেন, যেমন সঠিকভাবে ডাইরি মেইনটেইন করা, শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্ন নেয়া,নির্ভুল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা, একজনের অপরাধের জন্য অন্যজনের সাথে রাগারাগি না করা,দুর্বল শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আরো বেশি সহযোগিতা করা, শিক্ষার্থীরা স্কুলে প্রতিদিন উপস্থিত হচ্ছে কিনা অভিভাবকদের অবগত করা। এবং ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকের মধ্য থেকে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচিত করা। সন্তানদের সত্যিকার মানুষ হিসেবে তৈরির প্রয়োজনে অভিভাবকরা শিক্ষকগণের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা।
সভাপতির বক্তব্যে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল ফোন দেয়া যাবেনা।
শিক্ষার্থীরা পড়াশুনার পাশাপাশি বাকি সময়টুকু কোথায় যাচ্ছে, কি করছে সে দিকেও অভিভাবকগণ যেন খেয়াল রাখে। এছাড়াও পড়াশুনার পাশাপাশি কিভাবে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ঘটবে সেই দিকে নজর রাখতে হবে শিক্ষক ও অভিভাবকদের।
বিদ্যালয়ের সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকের যোগাযোগ থাকতে হবে। অভিভাবকেরা আমাদের পরামর্শ দিতে পারেন শিক্ষার মানোন্নয়নে। আপনাদের চোখে ধরা পড়া অসংগতিগুলো আমাদের জানাবেন। আপনাদের সাথে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যোগাযোগ থাকতে হবে।
শিক্ষার মানোন্নয়ন
ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আপনাদের পরামর্শ ও এই ধরনের মতবিনিময় সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মতামত ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা ও অভিভাবকবৃন্দ।