১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৭:০১

‌গাজীপুরে‌‌ বন বিভাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বনের ভেতর দিয়ে চলছে এইচ পাওয়ার নামক হোন্ডা ও অটোরিক্সার কারখানা।

স্টাফ রিপোর্টারঃ

‌ গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন‌‌ শিমলা‌ পাড়া এলাকায় বন বিভাগের শিমলাপাড়া ‌‌‌‌ বিটের ‌‌‌‌১০ গজ‌ দূরত্বে বনের ভেতরে গড়ে উঠেছে এইচ পাওয়ার লিমিটেড নামে জারা হোন্ডা ও অটোরিকশা তৈরির কারখানা।

‌ এই কারখানার পেছনদিকে বাউন্ডারি দিয়ে দখল করেছে বনের জমি এবং বনের ভেতর দিয়ে ১২ ফুট চওড়া রাস্তা তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করছেন ভারী যানবাহন।
‌ ২০১৩ সালের বন বিভাগ মামুন স্বত্বাধিকারী এইচ পাওয়ার লিমিটেডের বিরুদ্ধে সি এস. ৪৩৪, আর এস. ১৫১৩৩ দাগে আংশিক সীমানা প্রাচীর দিয়ে জমি দখল ও বনের গাছ কাটার মামলা করেন।(মামলা নং-৪২/শিমলা ২০১৩-২০১৪)।

‌ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান যে, শিমলা পাড়া এলাকার ‌‌‌‌‌মৃত জিল্লুল মোড়লের‌‌ ছেলে‌ এলাকার প্রভাবশালী হারুন মোড়ল হোন্ডা ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ কারখানাটির তদারকি করেন।
‌ আমাদের এলাকাবাসীর চলাচলের দীর্ঘদিনের রাস্তা দিয়ে কারখানার ভারী যানবাহন চলার কারণে বর্ষাকালে মানুষের পায়ে হাঁটার অনুপযোগী হয়ে যায় রাস্তাটি।
‌ একাধিকবার আমরা এলাকাবাসী ভারী যানবাহন চলাচলে বাধা দিলে কারখানার পক্ষ থেকে হারুন মোড়ল‌‌ আমাদের পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখায় এবং এলাকা কিভাবে থাকি দেখে নিবে বলে হুমকি দেয়। এই এলাকায় সব হারুনের কথাতেই চলে। ‌ ‌

‌ সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে দেখা যায় এইচ পাওয়ার নামক জারা হোন্ডা ও অটোরিকশা কারখানাটি মাওনা- ফুলবাড়িয়া‌ সড়কের পাশে ‌ বন বিভাগের শিমলা বিট কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ‌ ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌১০ গজ দূরত্বে বনের ভেতর দিয়ে ইটের খোয়া ফেলে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে রাস্তা বানিয়ে নিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

‌‌ এ ব্যাপারে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে কর কর্মকর্তা ‌ মায়েনুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান যে, বনের ভেতর দিয়ে এই রাস্তাটি অনেক পুরনো এবং কারখানাটি হওয়ার আগেই ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তাটি করেছিলেন।‌ আমাদের কাছে ইউনিয়ন পরিষদের কাগজপত্র আছে, চাইলে আপনারা দেখতে পারেন।
‌ এই অবৈধ বনের জমি দখল ও রাস্তার‌‌ ‌ বিষয়ে জানার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার রেঞ্জ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

‌ শিমলাপাড়া বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান এর কাছে মুঠোফোনে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, এইচ পাওয়ার ‌‌‌‌‌লিঃ কে
‌ একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে বনের ভেতর দিয়ে ভারী যানবাহন না চালানোর জন্য। কিন্তু তারা বন আইনের কোন নিয়ম তোয়াক্কা না করেই অবাধে বনের ভেতর দিয়ে ভারী যানবাহন নিজেদের কারখানার
কাজে ব্যবহার করেছেন। শীঘ্রই আমরা এই বিষয়ে ব‍্যবস্থা নিবো।
‌ কারখানার বিরুদ্ধে বন বিভাগের বন বিভাগের করা মামলাটির সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন মামলাটি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন আছে। ‌
‌ বনের জমি অবৈধভাবে দখল ও বনের ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করে ভারী যানবাহন চালিয়ে বন ও পরিবেশ এর যে, ক্ষতিসাধন হচ্ছে তার পেছনে কি শুধু বিভিন্ন কল কারখানার মালিকরাই দায়ী ? নাকি নিজেদের স্বার্থ আদায়ের লক্ষ্যে আছে কোনো অসাধু চক্র ? বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আগামী সংখ্যায় আসছি।

প্রকাশ :  সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮ ৬:৩৩ অপরাহ্ণ