১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:৩৪

হাটহাজারীতে ঘাতকের ফাঁসির দাবীতে ৩য় দিনেও বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভ

মো.আলাউদ্দীন,হাটহাজারী::
চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীতে স্বঘোষিত খুনি বখাটে যুবক শাহনেওয়াজ মুন্নার ফাঁসির দাবীতে তৃতীয় দিনও বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(১৯ সেপ্টেম্বর)সকাল সাড়ে দশটার দিকে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ হাটহাজারী শাখা,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক,ছাত্র-ছাত্রী,বিভিন্ন সংগঠন এবং সর্বস্থরের জনগন হাটহাজারী উপজেলার সামনে এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তরা তুহিনের হত্যাকারী খুনি মুন্নার দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করার জোর দাবী জানান। বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন চলাকালে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে প্রায় ঘন্টার অধিক সময় পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ ছিল। এসময় আটকে পড়া জনসাধারণকে তীব্র গরমে চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে দেখা গেছে। মানববন্ধন শেষে খুনি বখাটে শাহনেওয়াজ মুন্নার কুশপুত্তলিকাও দাহ করে জনতা। তবে হাটহাজারী সরকারী কলেজের শির্ক্ষাথীদের অংশগ্রহনে বিশাল একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চাইলেও মডেল থানা পুলিশ তাদের রাস্তায় নামতে দেয়নি বলে জানান থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর।

লাশ উদ্ধারের সোমবার এবং মঙ্গলবারও এ নির্মম হত্যার বিচার ও খুনি মুন্নার ফাঁসির দাবীতে তুহিনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক,ছাত্র-ছাত্রী,পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বিভিন্ন সংগঠন এবং সর্বস্থরের জনতা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছিল। খুনি শাহনেওয়াজ মুন্না(২৩)পৌরসভার চন্দ্রপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহাজান ও নিগার সুলতানার পুত্র। এদিকে হত্যাকান্ডের সুষ্ট বিচার দাবী করে দেশের বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও প্রবাসী বাংলাদেশীরা মানববন্ধন করেছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত,উল্লেখ্য,শুক্রবার(১৪ মেপ্টেম্বর)সন্ধ্যায় তুহিন ভবনের নিচ তলার নানার বাসা থেকে নিজ বাসা ২য় তলায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার জন্য বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে আশেপাশে অনেক খোঁজাখুজি করেও তাকে পাওয়া না গেলে ওই দিন সন্ধ্যায় নিখোঁজের ঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানায় একটি ডায়েরি করা হয়। এদিকে তুহিন নিখোঁজের ২ দিন পর রবিবার সন্ধ্যার দিকে পুলিশকে দেয়া ঘাতকের তথ্যের ভিক্তিতে হাটহাজারী সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম, হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাংগীর, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শামিম শেখ,এসআই জসিম উদ্দীন সহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বখাটে যুবক শাহানেওয়াজ মুন্নার বাসার ড্রয়িং রুমের সোপার নিচ থেকে নিখোঁজ তুহিনের প্রায় পঁচন ধরা লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বখাটে শাহানেওয়াজ মুন্নার পরিবার একই ভবনের চতুর্থ তলার ঐ ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিল। লাশ উদ্ধারের পর নিহতের ভাই আকিব জাবেদ বাদী হয়ে তিন জনের নাম উল্লেখ করে মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ আটক খুনি মুন্নাকে আদালতে প্রেরন করলে সেখানে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দেয় সে।


লাশ উদ্ধারের আগে মামলার প্রধান আসামি শাহনেওয়াজ মুন্না স্কুলছাত্রী তাছনিম সুলতানা তুহিনকে (১৩) ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে রবিবার সন্ধ্যায় থানায় এবং গত সোমবার বিকালে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ১৬৪ ধারায় মুন্না জবানবন্দি দিলে আদালত তা রেকর্ড করেন। জবানবন্দিতে মুন্না বলে, তার সাথে প্রায় এক বছর আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তুহিনের। ঘটনার দিন সন্ধায় উভয়ের বাসায় কেউ না থাকায় তুহিনকে নিজের বাসায় ডেকে নেয় মুন্না। সেখানে উভয়ের সম্মতিতে শারিরীক সম্পর্ক হয় বলে সে জবানবন্দিতে দাবি করে। পরে দুজনের মধ্যে কাটাকাটির এক পর্যায়ে তুহিন চিৎকার করতে চাইলে তুহিনের মুখ ও গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে খুনি মুন্না। এরপর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে একটি প্লাাষ্টিকের বস্তায় ভরে নিজের বাসার সোফার নিচে লুকিয়ে রাখে।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নে গ্রামের বাড়ীতে বাদে আছর জানাযার নামায শেষে পারিবারিক করবস্থানে নিহত তুহিনকে দাফন করা হয়েছে।

হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাংগীর জানান, মাললার পলাতক আসামীদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রকাশ :  সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮ ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ