১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৪০

হুমকির মুখে রাজশাহী শহর!

উজানের পানির কারণে হুহু করে বেড়ে চলেছে পদ্মার পানি। পদ্মার রাজশাহী পয়েন্টে পানি এখন বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে পদ্মাপাড়ের নিম্ন এলাকাগুলো। চরাঞ্চলেরও নিচু এলাকার মানুষ চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে। দু’দিন পানি বাড়ার পরিমাণ কিছুটা কম থাকলে গত ২৪ ঘন্টাও আবারও পানি বৃদ্ধির গতি বেড়েছে।

হঠাৎ করেই ফুঁসে উঠেছে সর্বনাশা পদ্মা। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রাজশাহীতে এখন বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে পদ্মা। দখিনা স্রোতের ছোবলে এখনই হুমকির মুখে পড়েছে শহর রক্ষা বাঁধ। সময় যত গড়াচ্ছে পরিস্থিতি ততই যেন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন রাজশাহীর বিভিন্ন চরাঞ্চলের মানুষ। ভাঙ্গছে চর এলাকার মানুষের হাজারো স্বপ্ন।

গোটা বর্ষাকাল কেটে গেছে প্রায় বৃষ্টিহীন অবস্থায়। ফলে এবার তেমন পানি দেখা যায়নি বর্ষাকালে। পদ্মা নদীর পানিও তেমন একটা বাড়েনি। তবে, গেল কয়েকদিনে পদ্মা যেন নতুন জীবন পেয়েছে। এখন ফুঁসে আছে পদ্মা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে গত প্রায় ১৫ দিন ধরে অব্যাহতভাবে যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে রীতিমতো বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রতিদিন ৪-৫ সেন্টিমিটার হারে পানি বাড়ছে। এতে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন পদ্মা তীর বর্তী ও বিভিন্ন চরাঞ্চলের মানুষ। এরই মধ্যে রাজশাহীর পদ্মাতীরবর্তি নিচু এলাকাগুলো ডুবে গেছে।

নগরীর শ্রীরামপুর থেকে পঞ্চবটির বিভিন্ন এলাকা ডুবে গেছে। এছাড়াও পদ্মার ওপারে সীমান্তবর্তী চরগুলোতেও দেখা দিয়েছে বন্যা। যদিও নদীর পানি এখনও বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

রাজশাহী পবা উপজেলা হরিয়ান মধ্যচরে বসবাস করে ১০০টির মত পরিবার। চরখিদিরপুর ও খানপুরে রয়েছে প্রায় ৪০০টি পরিবার। প্রতিবারই মধ্যচর ডুবে আর চরখিদিরপুরে ভাঙ্গে পাড়। এতে পদ্মার নদী গর্ভে বিলিন হয় ক্ষেত, গাছপালা ও বাড়িঘর। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বৃষ্টিপাত না হলেও উজানের পাহাড়ি ঢলে ভাঙ্গতে শুরু করেছে পদ্মা নদীর পাড়া।

বিশেষ করে পদ্মার নদীর ওপারে চরখিদিরপুর, খানপুর ও চরমাঝারদিয়াড়ে পাড় ভাঙ্গায় এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে অজানা আতঙ্ক। এরই মধ্যে নদীতে নেমে গেছে কয়েকশ’ বিঘা আবাদি জমি এবং অনেক গাছপালা। প্রতি মুহূর্তে কাটছে আবাস হারানোর আতঙ্কে।

এদিকে জেলার গোদাগাড়ীতে পদ্মার পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়াতে উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের আমিন পাড়া গ্রামের ৫০ টি বাড়ি ঘর বিলীন আরও বাড়িঘর আংশিক ভাঙ্গনের ফলে বিলন হতে বসেছে। এতে করে ওই গ্রামের বসবাসকারী লোকজন ভাঙ্গনের আতঙ্কে দিন রাত যাপন করছে। গরু, ছাগল, হাস-মুরগীসহ অন্যান্য গবাদি পশু সরাতে পারলেও অন্যত্র খোলা আকাশের নিচে বসবাস করায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তারা।

অপরদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে হুমকির মুখে রয়েছে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েক হাজার বাড়ি-ঘর। যেকোনো সময় তলিয়ে যেতে পারে এসব প্রতিষ্ঠানসহ বাড়ি-ঘর।

রাজশাহী পাউবোর গেজ রিডার এনামুল হক বলেন, ‘প্রতিদিনই পদ্মার পানি চার-পাঁচ সেন্টিমিটার করে বাড়তে থাকলেও গত দুইদিন পানি বাড়া বন্ধ ছিলো কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় আবারও পানি বাড়ছে।’

‘সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পদ্মায় পানির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ৬০ মিটার। এর আগে শুক্রবার দুপুর ১২টায় রাজশাহী নগরীর বড়কুঠি পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৩০ মিটার। গত বৃহস্পতিবার ভোরে ছিল ১৭ দশমিক ২৬ মিটার। সন্ধ্যা ৬টায় ছিল ১৭ দশমিক ২২ মিটার।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। এখন প্রতিদিন পানি বাড়ছে। এভাবে বাড়তে থাকলে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এবার ভরা বর্ষায় পদ্মার বুকে অধিকাংশ স্থানে চর দেখা গেলেও বর্ষা শেষে উজানের পানিতে এখন পদ্মা যেন ভরা যৌবন ফিরে পেয়েছে।’

‘ভারতীয় অংশে মহানন্দা নদীতে পানি বিপদসীমার মাত্র এক মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে আগামী ৭-৮ দিনের মধ্যে ভারতের মহানন্দা বিপদসীমা অতিক্রম করবে। তখন বাংলাদেশের পদ্মায়ও পানি আরও বাড়বে। এমনি বিপদসীমা অতিক্রম করে বন্যাও দেখা দিতে পারে।’

প্রকাশ :  সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮ ৫:০৮ পূর্বাহ্ণ