১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৪৫

“হাটহাজারীতে স্কুল ছাত্রী হত্যা” ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে খুনির স্বীকারোক্তি

::মো.আলাউদ্দীন::

চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার শাহজালাল পাড়া থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী তাছনিম সুলতানা তুহিন(১৩)কে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশের হাতে আটক মামলার প্রধান আসামি মো.শাহনেওয়াজ মুন্না(২৩)। পুলিশ রোববার বিকালে মুন্নাকে আটক করে সোমবার(১৭ সেপ্টেম্বর)দুপুরের দিকে আদালতে প্রেরন করার পর একই দিন বিকেলের দিকে চট্টগ্রামের মুখ্য বিচারিক হাকিম কামরুন নাহার রুমীর আদালত ১৬৪ ধারায় খুনি মুন্নার দেয়া জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

জবানবন্দিতে মুন্না জানায়, নিহত স্কুল ছাত্রী তুহিনের সাথে বছরের অধিক সময় ধরে মুন্নার সম্পর্ক ছিল। তুহিনের বাবা মা হজ্ব পালনের জন্য গিয়ে বর্তমানে সৌদি আরবে আছেন। ঘটনার দিন শুক্রবার সন্ধায় মুন্নাদের বাসায় বাবা মা না থাকায় তুহিনকে মুন্না বাসায় ডেকে নিয়ে যায় এবং উভয়ের সম্মতিতে তারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। পরে একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে তুহিন চিৎকার করতে চাইলে মুন্না মুখ ও গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তুহিনকে। হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য নিহত তুহিনের নিথর দেহ প্লাষ্টিকের একটি বস্তায় ভরে মুন্নাদের বাসার বক্স সোফা সেটের নিচে লুকিয়ে রাখে সে।

হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর স্বঘোষিত খুনি মুন্নার মডেল থানায় এবং আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং আদালতে জবানবন্দি দেয়ার পর বিচারক মুন্নাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলেও জানান তিনি।
খুনি শাহনেওয়াজ মুন্না পৌরসভার চন্দ্রপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহাজান ও নিগার সুলতানার পুত্র।
প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য,শুক্রবার(১৪ মেপ্টেম্বর)সন্ধ্যায় তুহিন ভবনের নিচ তলার নানার বাসা থেকে নিজ বাসা ২য় তলায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার জন্য বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে আশেপাশে অনেক খোঁজাখুজি করেও তাকে পাওয়া না গেলে ওই দিন সন্ধ্যায় নিখোঁজের ঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানায় একটি ডায়েরি করা হয়। এদিকে তুহিন নিখোঁজের ২ দিন পর রবিবার সন্ধ্যার দিকে পুলিশকে দেয়া ঘাতকের তথ্যের ভিক্তিতে হাটহাজারী সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম, হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাংগীর, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শামিম শেখ,এসআই জসিম উদ্দীন সহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বখাটে যুবক শাহানেওয়াজ মুন্নার বাসার ড্রয়িং রুমের সোপার নিচ থেকে নিখোঁজ তুহিনের প্রায় পঁচন ধরা লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বখাটে শাহানেওয়াজ মুন্নার পরিবার একই ভবনের চতুর্থ তলার ঐ ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিল। লাশ উদ্ধারের পর নিহতের ভাই আকিব জাবেদ বাদী হয়ে তিন জনের নাম উল্লেখ করে মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ আটক খুনি মুন্নাকে আদালতে প্রেরন করলে সেখানে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দেয় সে।
এদিকে উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নে গ্রামের বাড়ীতে অাছরের নামাজের পর জানাযার নামায শেষে পারিবারিক করবস্থানে নিহত তুহিনকে দাফন করা হয়েছে বলেও সূত্রে জানা গেছে।
প্রকাশ :  সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮ ৭:০৫ অপরাহ্ণ