১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৪০

হাটহাজারীতে স্কুল ছাত্রী হত্যাকারীর ফাঁসির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

::মো.আলাউদ্দীন,হাটহাজারী থেকে:: 

হাটহাজারীতে তাসনিম সুলতানা তুহিন(১৩) নামের এক স্কুল ছাত্রীর হত্যাকারী বখাটে মুন্নার ফাঁসির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার(১৭ সেপ্টেম্বর)বেলা সাড়ে এগারটার দিকে কলেজ গেটে এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে নিহত তুহিনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক,ছাত্র ছাত্রী,পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বিভিন্ন সংগঠন এবং সর্বস্থরের জনগণ অংশ গ্রহন করেন। এসময় তারা হত্যাকারীর ফাঁসি এবং বাকী আসামীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃস্টান্ত মুলক শাস্থির জোর দাবী জানান। এদিকে নিখোঁজ হওয়া স্কুল ছাত্রী তাসনিম সুলতানা তুহিনের(১৩)গলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার(১৭ সেপ্টেম্বর) নিহতের বড় ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আকিব জাবেদ বাদী হয়ে তিন জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে, যার নাম্বার ২৫।মামলার আসামীরা হল স্বঘোষিত খুনি বখাটে যুবক শাহানেওয়াজ মুন্না,তার মা নিগার সুলতানা এবং বাবা পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহাজান। বর্তমানে খুনি মুন্না পুলিশের হাতে আটক থাকলেও ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে বাকী আসামীরা।

উল্লেখ্য,শুক্রবার(১৪ মেপ্টেম্বর)সন্ধ্যায় তুহিন ভবনের নিচ তলার নানার বাসা থেকে নিজ বাসা ২য় তলায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার জন্য বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে আশেপাশে অনেক খোঁজাখুজি করেও তাকে পাওয়া না গেলে ওই দিন সন্ধ্যায় নিখোঁজের ঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানায় একটি ডায়েরি করা হয়। এদিকে তুহিন নিখোঁজের ২ দিন পর রবিবার সন্ধ্যার দিকে পুলিশকে দেয়া ঘাতকের তথ্যের ভিক্তিতে হাটহাজারী সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম, হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাংগীর, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শামিম শেখ,এসআই জসিম উদ্দীন সহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বখাটে যুবক শাহানেওয়াজ মুন্নার বাসার ড্রয়িং রুমের সোপার নিচ থেকে নিখোঁজ তুহিনের প্রায় পঁচন ধরা লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বখাটে শাহানেওয়াজ মুন্নার পরিবার একই ভবনের চতুর্থ তলার ঐ ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিল।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এবং নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র হ্জ্ব পালনের জন্য গিয়ে বর্তমানে সৌদি আরবে অবন্থান করছেন নিহত তুহিনের বাবা মা। আগামী বুধবার তারা হজ পালন শেষে দেশে ফিরে আসার কথা। তবে ঘাতক বখাটে মুন্নাকে নিহতের পরিবারের সন্দেহ হচ্ছে বলে পুলিশকে জানালে ঐদিন শুক্রবার রাতেই বখাটে মুন্নার বাসায় তল্লাশী চালিয়েও তুহিনের সন্ধান পায়নি পুলিশ। পরে তুহিনের পরিবার ও স্থানীয়রা বখাটে মুন্নাকে আটক করে পুলিশের হাতে তোলে দিলেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে তাকে ছেড়ে দেয়। স্থানীয়রা জানায়, তুহিনকে হত্যা করে বখাটে মুন্না তার বাসার সোপার নিচে লাশ লুকিয়ে রেখে সম্পূর্ন ফিল্মী স্টাইলে নিজেও সবার সাথে নিখোঁজ তুহিনকে খোঁজতে থাকে।এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকা- বলেই স্থানীয়দের দাবী। স্থানীয়রা আরো জানান, নিখোঁজের ২ দিন পর হত্যাকান্ডের স্বীকার তুহিনের শরীরে পঁচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে বাসা ছেড়ে খুনি মুন্নার বাবা,মা কৌশলে সরে পড়ে এবং বেকায়দায় পড়ে যায় বখাটে মুন্না। তাই রবিবার বিকালে ধরা খেয়ে গন পিটুনির ভয়ে সে নিজেই মডেল থানায় গিয়ে পুলিশকে ধরা দিয়ে স্বীকারোক্তি দেয়। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যা করে লুকিয়ে রাখা তুহিনের লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। খুনি বখাটে মুন্না ছাত্র রাজনীতি,ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরণের মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলেও সূত্রে জানা গেছে। ঐ এলাকার বেশ কয়েকজন মুরুব্বী ক্ষোভ প্রকা করে বলেন, ভারতীয় টিভি চ্যানেলের ক্রাইম পেট্রোল,সিআইডি,সাবধান ইন্ডিয়ার মতো বানোয়াট কাহিনী দেখে দেখে পরকীয়া,হত্যা,চিটিংবাজী,বাটপারি সহ বিভিন্ন রকম কর্মকান্ড শিখছে এসব চ্যানেলের দর্শকরা। তারা এসব টিভি চ্যানেল বন্ধেরও দাবী জানান।

এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা মডেল থানার এসআই জসিম উদ্দীন জানান, নিখোঁজ ডায়রী করার পর থেকে তুহিনকে উদ্ধার করতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছি,বেশ কয়েকবার স্কুলেও গেছি আবার ঘাতক মুন্নাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদও করেছি। আজও তদন্তে গিয়ে ফেরার পথে বাজারের মোড়ে ত্রিবেনী মিস্টির দোকানের সামনে থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে হত্যা করে লাশ লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করলে পুলিশ গিয়ে প্লাটিক মোড়ানো অবস্থায় তুহিনের গলিত লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাংগীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, কি কারণে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং  উদ্ধার করা লাশটি ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। আটক মুন্নাকে কোর্টে চালান দেয়া হয়েছে এবং ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে তাছাড়া মাললার পলাতক আসামীদের আটক করতে পুলিশের অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে উত্তেজিত জনতা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে হাটহাজারী থানার সামনে ব্যারিকেট দিয়ে এমন নির্মম জঘন্য হত্যাকা-ের সুষ্ঠু বিচার দাবী করে। এসময় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে হাজার হাজার যাত্রী সাধারণকে চরম দূর্ভোগে পড়তে দেখা গেছে। পরে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাংগীর ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকা-ের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে উত্তেজিত জনতা মহাসড়ক থেকে ব্যারিকেট তুলে নিলে সড়কে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

প্রকাশ :  সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ