১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৩৯

প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে পত্রিকা সম্পাদক বরবার অভিযোগের জবাব (জেলা প্রতিনিধি)

আনিচুর রহমান, ফরিদপুর থেকে ঃ
গত ০৯/০৮/২০১৮ ইং তারিখে এলজিইডি কর্মচারী সাইয়েদ ইমামুল হাসানের নামে “অন্ধ প্রতিবন্ধীদের সেবার নামে এলজিইডি কর্মচারীর লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ” শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হলে সাইয়েদ ইমামুল হাসান সম্পাদক বরবার সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত এই মর্মে অভিযোগ দাখিল করেন।
উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রতিনিধি বরাবার নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে জবাব চাওয়া হলে জেলা প্রতিনিধি সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকতার অপব্যবহার হয়নি এই মর্মে জবাব প্রদান করেন।
বরাবর,

সম্পাদক দৈনিক সরেজমিন বার্তা,ঢাকা।
প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে

বিষয়: গত ০৯/০৮/২০১৮ ইং তারিখে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা সংক্রান্ত অভিযোগের জবাব প্রসঙ্গে।
জনাব, সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি মো: আনিচুর রহমান ‘দৈনিক সরেজমিন বার্তার’ ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি। দীর্ঘদিন ধরে আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছি। গত ২০/০৪/ ২০১৮ ইং তারিখ একজন অন্ধ হাফেজ রেজাউল করিমের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি জানতে পারি সাইয়েদ ইমামুল হাসানের সমাজ সেবার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ প্রসঙ্গ। আমি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করলে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন ফরিদপুর কর্তৃক প্রকাশিত আর্থিক অনিয়মের তদন্ত রিপোর্টসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হই। এ ব্যাপারে সাইয়েদ ইমামুল হাসানের সাথে গত ২১/০৬/২০১৮ ইং তারিখ দুপুর ২.৩৫ মিনিটে ও ২৬/০৬/২০১৮ ইং তারিখে সন্ধ্যা ৬.৪৯ মিনিটে মোবাইল নম্বর: ০১৯২৭-৩০০৩৮০ তে সংবাদের সত্যতার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন যে, আগামী ০১/০৭/২০১৮ ইং তারিখে তিনি ফরিদপুর কোর্টে তার বিরুদ্ধে অর্থ আতœসাতের মামলার হাজিরা দিতে আসবেন এবং তখন তিনি আমার সাথে দেখা করে সমস্ত তথ্য প্রদান করবেন, যা দ্বারা প্রমাণিত হবে তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। হাজিরার দিন দুপুর ১২.৪১ মিনিটে মোবাইল নম্বর ০১৭৯৯-৮৯৮৩৩৯ হতে ফোন দিয়ে তথ্য প্রদানের পরিবর্তে আমাকে বিষয়টি সম্পূর্ণ চেপে যাওয়ার হুমকী প্রদান করেন অন্যথায় আমার বিরুদ্ধে মামলা করাসহ বিভিন্ন প্রকার ক্ষয়ক্ষতির ভয় প্রদর্শন করেন।
এমতাব¯’ায়, আমি তার হুমকী ধামকির অডিও রেকর্ডসহ সমাজসেবা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও ¯’ানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে সাক্ষাৎ করলে তাদের কাছ থেকেও বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তিনি অন্ধ হাফেজের অভিযোগ এড়াতে সুকৌশলে তার সাথে অন্ধ মাদ্রাসার সম্প”ক্ততা নেই, এই মর্মে বিভিন্ন জায়গায় জবানবন্দি প্রদান করে থাকেন। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার কেয়ারটেকার জনাব তনু মিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করা হলে তিনি জানান এই মাদ্রাসা সাইয়েই ইমামুল হাসানের, কিš’ সার্বক্ষণিক তদারকি করি আমি যা ভিডিও সাক্ষাৎকার দ্বারা প্রমাণিত। পরবর্তীতে ১৪/০৬/২০১৮ ইং তারিখে সমাজসেবা কার্যালয়-৬, মোহাম্মদপুর, ঢাকা হতে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনের গঠিত অভিযোগনামা-৪ এর তদন্ত পর্যালোচনা হতে জানতে পারি সাইয়েদ ইমামুল হাসান সাধারণ সম্পাদক ও তার স্ত্রী কোষাধ্যক্ষ অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী মিলে সং¯’ার ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনা করা হয়, যা নিবন্ধন আইন বা প্রথার সম্পূর্ণ বিপরীত। বিভিন্ন অভিযোগ এড়াতে তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে, গেরদার অন্ধ মাদ্রাসাটি ইমাম ফাউন্ডেশন নিয়ন্ত্রণাধীন কোন প্রতিষ্ঠান নয়, কিন্তু’ খন্দকার কাউসারকে ০১/০৯/২০১৮ ইং তারিখে বিকাল ৪.৩৫ ,মিনিটে মোবাইল নং ০১৭১৬-৮৪২০৯৪ হতে ফোন দেয়া হলে তিনি জানান মাদ্রাসটি ইমাম ফাউন্ডেশনের অধীনে তথা সাইয়েদ ইমামুল হাসান দ্বারা পরিচালিত । তবে আমি কিছুদিন পূর্বে মাদ্রাসার কমিটির সভাপতির পদ হতে পদত্যাগ করেছি। যা রেকর্ড দ্বারা প্রমাণিত । সম্প্রতি শেখ তনু মিয়াকে মোবাইল ফোনে মাদ্রাসার সাথে সাইয়েদ ইমামুল হাসানের সম্পৃত্ততার কথা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান ইমামুল হাসানের সাথে মাদ্রাসার কোন সম্পৃত্ততা নাই। যদিও কিছুদিন পূর্বের তনু মিয়ার ভিডিও ফুটেজ দ্বারা প্রমাণিত মাদ্রাসা সাইয়েদ ইমামুল হাসান দ্বারা পরিচালিত। পুনরায় বর্তমান কমিটি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন বর্তমান সভাপতি খন্দকার কাউসার। কিš’ তৎক্ষণাৎ খন্দকার কাউসারের পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তিনি থতমত খেয়ে বলেন যে, হ্যাঁ তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং নতুন একটি কমিটি গঠিত হয়েছে, যার সভাপতি হচ্ছেন সাইয়েদ ইমামুল হাসান এর ভাতিজা ‘তাহজিব আহসান সাদ।’ মোবাইল নম্বর : ০১৭৮৭-১৭৪৩০১ তে সাদকে ফোন দেয়া হলে তিনি মোবাইল ফোনে তথ্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন যদিও প্রায় দুই মাস পূর্বে তার ফোনের রেকর্ড পর্যালোচনা থেকে দেখা যায় এই অন্ধ মাদ্রাসার যাবতীয় পষ্ঠাপোষকতা দায়িত্ব, তার চাচা সাইয়েদ ইমামুল হাসানের। কোন আর্থিক অনিয়মের দায়-দায়িত্ব আমাদের না। সাইয়েদ ইমামুল হাসান সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে-
* আর্থিক অনিয়ম, সে এবং তার স্ত্রী কর্তৃক ফাউন্ডেশনের একাউন্ট পরিচালনা, আয়-ব্যয়ের অডিট না দেয়া, স্বাধীনতা বিরোধী চেতনা সম্পন্ন লোকদের সাথে কার্যক্রম পরিচালনা যা সমাজ সেবা কার্যালয়-৬ মোহাম্মদপুর, ঢাকা হতে প্রকাশিত।
* গেরদা বি.এম. কলেজ, (গেরদা, সদর, ফরিদপুর ) কামটির সভাপতি হতে ২০১১ সালে বহিস্কৃত যা জেলা প্রশাসন কর্তৃক স্মারক নং-০৫.৪৭০.০৩১.০০.০০.০০৩.২০১০.২৩৫ দ্বারা প্রমাণিত।
* শেখ তনু মিয়া ও খন্দকার কাউসার এর অডিও ভিডিও রেকর্ড দ্বারা প্রমাণিত যে, মাদ্রাসাটি সাইয়েদ ইমামুল হাসান তথা ইমাম ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত। এছাড়া গেরদা বি.এম.কলেজের শিক্ষক/কর্মচারীর বিভিন্ন সাংবাদিকদের দেওয়া সাক্ষাতকার দ্বারা একই তথ্য প্রমাণিত। ¯’ানীয় আওয়ামী লীগ এর জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারাও একই তথ্য প্রদান করেন।
* অন্ধ হাফেজ রেজাউল করিমের ১ নং আমলী আদালত, ফরিদপুর এর মোকাদ্দমা দ:বি:৪০৬/৪২০ ধারা সি.আর. ২২১/১৮ ও ফৌঃকাঃবিঃ ১০৭/১১৭ (সি) ধারা কোতয়ালী পিটিশন ১৩৮/১৮ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, অন্ধমাদ্রাসাটি সাইয়েদ ইমামুল হাসান দ্বারা পরিচালিত।
* সাইয়েদ ইমামুল হাসানের সহযোগী মোহাম্মদ তাজউদ্দিন এর মোবাইল নম্বর ০১৭১১-৩৪১০০৩ হতে হাফেজ রেজাউল করিমের ০১৭৪০-৭১৬০০৪ নম্বরের মোবাইল রেকর্ড পর্যালোচনায় স্পস্টত প্রতীয়মান হয় যে, অন্ধ হাফেজের শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব করেন তাজউদ্দিন ও নিয়োগ প্রদান করেন সাইয়েদ ইমামুল হাসান। এছাড়া তাজউদ্দিন আরও বলেন “তোমাকে কিছু টাকা দিয়ে আমরা যা ইনকাম করতে পারি তাতে তোমার সমস্যা কি ?”
* এছাড়া নাম না প্রাকাশে অনি”ছুক বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আমাদেরকে জানান যে, তিনি মাদ্রাসা মেরামত ও ছাত্রদের সেবার নামে বিভিন্ন সময় আমাদের নিকট হতে অর্থ সংগ্রহ করেন যদিও অন্ধ মাদ্রাসায় ছাত্রের সংখ্যা ৪/৫ জনের বেশি কখনই ছিল না।
এতকিছুর পরেও তিনি কিভাবে মতামত ব্যক্ত করেন যে, সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি নিরাপরাধ হলে তার তথ্য প্রমাণ পেশ করার পরিবর্তে মামলা মোকাদ্দমার ভয়সহ বিভিন্ন মারফত হতে হুমকী ধামকী প্রদানে লিপ্ত হতেন না।
এছাড়া মাননীয় সম্পাদক প্রয়োজন মনে করলে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় সাইয়েদ ইমামুল হাসান বিশিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের নিকট হতে গেরদা অন্ধ মাদ্রাসার নামে যে অসংখ্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন তার প্রমাণ পরবর্তীতে পেশ করা যাবে।
অতএব, জনাবের নিকট আবেদন অন্ধদের কল্যাণার্থে এবং সরকারের প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষার কর্মসূচী চলমান রাখার স্বার্থে এবং আমার সাংবাদিকতা পেশার দায়িত্ববোধ থেকে আমি এ সংবাদ প্রচারে উদ্বুদ্ধ হই। এ ব্যাপারে আপনার পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় করণীয় সংশোধন ও সাইয়েদ ইমামুল হাসানের ক্ষোভ থেকে বাঁচার উপায়সহ বিভিন্ন দিক নির্দেশনা পেতে জনাবের মর্জি হয়।

নিবেদক
তারিখ
১৬/০৯/২০১৮

মো: আনিচুর রহমান
দৈনিক সরেজমিনবর্তা
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশ :  সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮ ৩:২৪ পূর্বাহ্ণ