১৯শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং | ৭ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:২০

হাটহাজারীতে সোফার নিচ থেকে স্কুল ছাত্রীর গলিত লাশ উদ্ধার

::মো.আলাউদ্দীন,হাটহাজারী::
হাটহাজারীতে নিখোঁজ হওয়া তাসনিম সুলতানা তুহিন (১৩) নামের এক স্কুল ছাত্রীর গলিত লাশ উদ্ধার করেছে মডেল থানা পুলিশ। রবিবার(১৬ সেপ্টেম্বর)রাত ৯টার দিকে পৌরসভার ফটিকা গ্রামের শাহজালাল পাড়ার সালাম ম্যানশনের ৪ তলার একটি বাসার ড্রয়িং রুম থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর পুলিশ তুহিনের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ঘাতক বখাটে শাহনেওয়াজ মুন্না(২৮) পুলিশের হাতে আটক রয়েছে। নিহত তুহিন হাটহাজারী গালর্স হাই স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী এবং ঐ ভবনের মালিক উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের নেয়ামত আলী সারাং বাড়ির আবু তৈয়বের কন্যা। অপরদিকে ঘাতক বখাটে যুবক শাহানেওয়াজ মুন্না পৌরসভার চন্দ্রপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহাজানের পুত্র।

থানা সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যার দিকে পুলিশকে দেয়া ঘাতকের তথ্যের ভিক্তিতে হাটহাজারী সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম, হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাংগীর, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শামিম শেখ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বখাটে যুবক শাহানেওয়াজ মুন্নার বাসার ড্রয়িং রুমের সোপার নিচ থেকে নিখোঁজ তুহিনের প্রায় পঁচন ধরা লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বখাটে শাহানেওয়াজ মুন্নার পরিবার একই ভবনের চতুর্থ তলার ঐ ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিল।

লাশ উদ্ধার করে থানায় আনার পরেই রাত সাড়ে ৯টার দিকে উত্তেজিত জনতা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে হাটহাজারী থানার সামনে ব্যারিকেট দিয়ে এমন নির্মম জঘন্য হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবী করে। এসময় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে হাজার হাজার যাত্রী সাধারণকে চরম দূর্ভোগে পড়তে দেখা গেছে। পরে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাংগীর ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে উত্তেজিত জনতা মহাসড়ক থেকে ব্যারিকেট তুলে নিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এবং নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র হ্জ্ব পালনের জন্য গিয়ে বর্তমানে সৌদি আরবে অবন্থান করছেন নিহত তুহিনের বাবা মা। আগামী বুধবার তারা হজ পালন শেষে দেশে ফিরে আসার কথা। শুক্রবার(১৪ মেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তুহিন ভবনের নিচ তলা নানার বাসা থেকে তাদের বাসা ২য় তলায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার জন্য বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে আশেপাশে অনেক খোঁজাখুজি করেও তাকে পাওয়া না গেলে ওই দিন সন্ধ্যায় নিখোঁজের ঘটনায় স্থানীয় মডেল থানায় ডায়েরিও করা হয়েছিল। তবে ঘাতক বখাটে মুন্নাকে নিহতের পরিবারের সন্দেহ হচ্ছে বলে পুলিশকে জানালে ঐদিন শুক্রবার রাতেই বখাটে মুন্নার বাসায় তল্লাশী চালিয়েও তুহিনের সন্ধান পায়নি পুলিশ। পরে তুহিনের পরিবার ও স্থানীয়রা বখাটে মুন্নাকে আটক করে পুলিশের হাতে তোলে দিলেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে তাকে ছেড়ে দেয়। স্থানীয়রা জানায়, তুহিনকে হত্যা করে বখাটে মুন্না তার বাসার সোফার নিচে লাশ লুকিয়ে রাখে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকা- হয়ে থাকতে পারে। এদিকে নিখোঁজের ২ দিন পর নিহত তুহিনের শরীরে পঁচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে বেকায়দায় পড়ে যায় বখাটে মুন্না। তাই রবিবার বিকালে ধরা খেয়ে গন পিটুনির ভয়ে সে নিজেই মডেল থানায় গিয়ে পুলিশকে ধরা দিয়ে স্বীকারোক্তি দেয়। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যা করে লুকিয়ে রাখা তুহিনের লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। খুনি বখাটে মুন্না ছাত্র রাজনীতি,ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরণের মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলেও সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় কয়েকজন মাঝ বয়সী লোক জানান, ভারতীয় টিভি চ্যানেলের ক্রাইম পেট্টোল, সিআইডি,সাবধান ইন্ডিয়ার মতো বানোয়াট কাহিনী দেখে দেখে আমাদের সমাজে এখন পরকীয়া,চুরি,ডাকাতী,খুনের মতো জঘন্য ঘটনা খুব সহজেই ঘটছে। এসব বন্ধ করতে হবে না হয় সামনে আরো কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হবে আমাদের সবাইকে।

এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা মডেল থানার এসআই জসিম জানান, নিখোঁজ ডায়রী করার পর থেকে তুহিনকে উদ্ধার করতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছি,বেশ কয়েকবার স্কুলেও গেছি আবার ঘাতক মুন্নাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদও করেছি। আজও তদন্তে গিয়ে ফেরার পথে বাজারের মোড়ে ত্রিবেনী মিস্টির দোকানের সামনে থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে হত্যা করে লাশ লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করলে পুলিশ গিয়ে প্লাটিক মোড়ানো অবস্থায় তুহিনের গলিত লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাংগীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, কি কারণে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং  উদ্ধার করা লাশটি ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হত্যাকার্ন্ডে স্বীকার ওই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুুতি চলছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও খুনি বখাটে মুন্নার ফাঁসির দাবীতে নিহতের সহপাঠি সহ স্থানীয়রা উপজেলার সামনে সোমবার ১৭ সেপ্টেম্বর মানবন্ধন কর্মসুচী ও বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বলেও সূত্রে জানা গেছে।

প্রকাশ :  সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮ ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ