১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:০৯

গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

রংপুর থেকে : আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে খুলে গেল তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ‘গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু’। রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রংপুর-লালমনিরহাটবাসীর স্বপ্নের এই সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মহিপুর-কাকিনা পয়েন্টে ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের নবনির্মিত এই সেতুর উত্তরপ্রান্তে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগের ব্যবস্থা করা হয়। সেতুর নিচে বিশাল প্যান্ডেলে হাজার হাজার মানুষ এসেছিল ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে উদ্বোধনী ঘোষণা শুনতে।

এ এলাকার মানুষ বলেন সেতু হওয়াতে মোর ভালোয় হইল। আগোত নৌকাত করি নদী পার হওয়া নাগচে। এ্যালা আর সেই কষ্ট থাকিল না। ঘন ঘন বেটির বাড়িত যাওয়া যাইবে। আগের মতো সময় নষ্ট হবার নায়। এ্যালা সহজে কালিগঞ্জ-হাতিবান্ধা যাওয়া যাইবে। লালমনিরহাটের মানুষও তাড়াতাড়ি রংপুর বেড়ে যাবার পাইবে। ব্যবসা-বাণিজ্য সোগোতে উপকার হইবে।’

রংপুর ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানান শ্রেণি পেশার হাজার হাজার মানুষ এসেছিলেন গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতুর উদ্বোধনী আয়োজনে। তাদের সবাই খুশি দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্নের এই সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন দেখতে পেয়ে।

এই আয়োজনে স্থানীয় সরকার, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি,  মোতাহার হোসেন এমপিসহ রংপুর ও লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ, ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহিপুর-কাকিনা পয়েন্টে তিস্তা নদীর ওপর এই সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। ২০১৪ সালের জুনে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার দফায় কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে এ বছর কাজ শেষ করা হয়। প্রায় ১২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ দশমিক ৫ মিটার চওড়া। সেতুটির এক প্রান্তে রংপুরের গঙ্গাচড়া মহিপুরঘাট ও অন্যপ্রান্তে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ কাকিনা। এই দুই জেলার মানুষের মাঝে এক নিবিড় সেতুবন্ধন গড়ে তুলতেই মহিপুর-কাকিনার সীমান্তে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সেই উদ্যোগ এখন সফল।

এ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের এই সেতুটি চালু হলে এখানকার একমাত্র স্থল বন্দর বুড়িমারীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সড়কটি পরিণত হবে আন্তর্জাতিক মহাসড়কে। রংপুর থেকে বুড়িমারী স্থলবন্দর যেতে দূরত্ব কমে আসবে ৩০ কিলোমিটার। সেতুর উপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন রংপুরের উত্তম হাজিরহাট এলাকা হয়ে চলাচল করবে।

 

প্রকাশ :  সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮ ১:০৩ অপরাহ্ণ