১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৯:১৮

আদালত চত্বরে ধর্ষকের সঙ্গেই তরুণীর বিয়ে!

ধর্ষণের মামলায় জেলে ছিলেন যুবক। ছাড়া পেয়েই তাকে আদালত চত্ত্বরে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গেই বিয়ে দিল আইনজীবী ও পুলিশ। শুক্রবার সকালে বনগাঁ মহকুমা আদালত চত্বরে সকাল সাড়ে ১১টায় বিয়ে হয় ওই তরুণী ও যুবকের। লাল রঙের তাঁতের শাড়ি পরেছিলেন কনে আর পাত্রের পরনে ছিল নীল রঙের টিশার্ট ও জিনস। তাদের ঘিরে রয়েছেন আইনজীবীরা। বিয়ের যাবতীয় আয়োজনও করেছিলেন আইনজীবীরা।

কিন্তু এমন কাজটি কেনই বা করল আইনজীবী ও পুলিশ কর্মকর্তারা?

পুলিশ ও আইনজীবীরা জানান, গোপালনগরের বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল হরিণঘাটার রুস্তমপুর এলাকার বাসিন্দা ওই যুবকের। অভিযোগ, তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করেন পুলিশ কনস্টেবল ওই যুবক।

তরুণীর দাবি, গত বছর তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন যুবকটি। মেয়েটির  পরিবারের লোকজন তাকে বুঝিয়েও রাজি করাতে পারেননি। এরপরেই অক্টোবর মাসে তরুণী বনগাঁ আদালতে প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে গোপালনগর থানার পুলিশ ওই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রুজু করে। ২০ জুলাই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বিচারকের নির্দেশে এতদিন জেল হেফাজতে ছিলেন ওই যুবক। চাকরি হারানোর ভয়ে জেলে থাকাকালীন তিনি ওই তরুণীকে বিয়ে করতে রাজি হয়।

বনগাঁ মহকুমা আদালতের মুখ্য সরকারি আইনজীবী সমীর দাস জানান, ওই যুবক ও তরুণীর পরিবারের লোকজন তাদের কাছে বলেন তারা দু’জনের বিয়ে দিতে চান। সেই মতো বিচারকের কাছে আবেদন করা হয়। বিচারক ওই যুবকের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার ওই যুবক জেল থেকে ছাড়া পান। এ দিন আদালতেই  বিয়ের আয়োজন করা হয়। এ সময় কয়েক’শো মানুষ বিয়ে দেখতে জড়ো হন। অনেকে আবার মোবাইলবন্দি করে যুগলের ছবি। এক আইনজীবী মন্ত্রপাঠ করে দু’জনের বিয়ে দেন।

অশ্রুসিক্ত চোখে তরুণী বলেন, ‘আজ আমি খুব খুশি। ওর উপর অভিমান হয়েছিল। এখন আর নেই। এখন সুখে শান্তিতে সংসার করতে চাই।

ওই মামলার পরবর্তী তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর। ওই দিন আইনজীবীদের তরফে বিচারককে বিয়ের কথা জানিয়ে দেওয়া হবে। স্ত্রীকে নিয়ে উত্তরাখণ্ডে শুক্রবারই রওনা দেন ওই যুবক।

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ