২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং | ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:১৭

ডাকসু নির্বাচন ১১ মার্চ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ মার্চ। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।  

আজ বুধবার এক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মাহমুদ আলমের পাঠানো সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের গঠনতন্ত্রের ৮(ই) ধারা অনুযায়ী ডাকসুর সভাপতি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান আজ ২৩ জানুয়ারি ২০১৯ বুধবার নির্বাচনের এই তারিখ ও সময় নির্ধারণ করেন।’

সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, এর আগে আজ বুধবার বিকেল সাড় ৩টায় এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় উপাচার্য অফিস সংলগ্ন লাউঞ্জে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ এবং ডাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাশেষে উপাচার্য ডাকসু নির্বাচনের এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেবেন কোটা আন্দোলনকারীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।’ ওই ব্যানারেই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা। আর ওই ব্যানারকে সামনে রেখেই ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেবে তারা।

সংগঠনটির আহ্বায়ক হাসান আল মামুন এনটিভি অনলাইনকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

এর আগে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং সমর্থন দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ডাকসু নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদেরকেই সমর্থন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন হাসান আল মামুন।

গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারি চাকরিতে প্রবেশে কোটা পদ্ধতির সংস্কার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ। কোটা সংস্কার এবং প্রজ্ঞাপনের দাবিতে টানা আট মাসের বেশি আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছে সংগঠনটি। এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে কয়েকবার। এতে আহত হন কয়েকশত শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা বিভিন্ন সময় হামলার শিকারও হন তারা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ আন্দোলনের ফলে দীর্ঘ ৪৬ বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে সরকার।

ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত বিভিন্ন কমিটি ও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের এই সংগঠনটি। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিতেরও দাবি জানান।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনগুলোতে নির্বাচনের কেন্দ্র করারও দাবি জানান তারা।

কোটা আন্দোলনের নেতারা বলছেন, ডাকসুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেসব কমিটি গঠন করেছে তার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট দলের নেতাকর্মীরাই দায়িত্বে রয়েছেন। এর ফলে এসব কমিটির সদস্যরা তাদের নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের নেতাদের পক্ষ নেবেন এটাই স্বাভাবিক। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য শিক্ষকদের নিয়ে কমিটি গঠন করার দাবি জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ ও আচারণবিধি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং আচরণবিধি কমিটির অধিকাংশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দলের সাবেক এবং বর্তমান নেতা।

এ বিষয়ে সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক নুরুল হক নূর বলেন, ‘এসব কমিটিতে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা সবাই সরকারি দল আওয়ামী লীগপন্থী নেতাকর্মী। ফলে নির্বাচনে তারা ছাত্রলীগের পক্ষ নেবে বলে আমরা ধারণা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো কয়েকশত শিক্ষক আছেন যারা নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য। আমরা তাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

অন্যদিকে কোটা পদ্ধতি বন্ধের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁরা কোনো অনুষ্ঠান করতে চাইলে মারধর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন পরিষদের নেতারা। এমন পরিস্থিতি চললে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কঠিন হবে বলে মনে করেন তারা। এ বিষয়ে পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘সহাবস্থানের বিষয়ে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্যান্য সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে। আমরাও একই অভিযোগ করছি। কিন্তু সবকিছু নির্ভর করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপের ওপর।’

ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে ক্রিয়াশীল সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে পরিবেশ পরিষদের মতবিনিময় সভা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের না ডাকার বিষয়ে পরিষদের নেতারা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনকে ডেকেছে। আমরা যেহেতু রাজনীতির বাইরে হয়তো সেজন্যে আমাদের ডাকা হয়নি, আমরা যোগাযোগ করব।’

এ বিষয়ে ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘তারা নির্বাচনে অংশ নিতেই পারে। তাদের কোনো বিষয়ে মতামত দেওয়ার প্রয়োজন হলে তবে তারা লিখিতভাবে জানাবে।’

নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি

ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য গত সপ্তাহে রাজধানীর একটি হোটেলে আলোচনায় বসেন ছাত্র অধিকার আন্দোলন পরিষদের নেতারা। আলোচনায় নীতিগতভাবে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। পরিষদের নেতারা জানান, তাদের ৭১ বিশিষ্ট কমিটির মধ্যে ৪০ জন ঢাবির শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ৩৬ জন নেতা সক্রিয় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ঢাবির ছাত্রত্ব রয়েছে ১৮ জনের। তারা সবাই নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রস্তুতির বিষয়ে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান ও নুরুল হক নূর বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। তারপর তাদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত নিয়মিত যোগাযোগ করি। তাদের মতামত নিয়েই আমরা ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিবেশ তৈরি হলে ডাকসু নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করব।’

এ বিষয়ে পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল অনেক ছাত্রসংগঠন আছে। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়াবে এ রকম কোনো সংগঠন বর্তমান সময়ে নেই। যতগুলো ছাত্র সংগঠন আছে সবাই তাদের দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া নিয়ে তারা কখনোই আগ্রহী নন।’

তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যই তাদের সংগঠন ডাকসু নির্বাচন করবে বলে জানান তিনি। আর এই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের মধ্য দিয়ে তাদের যৌক্তিক দাবি পূরণের আন্দোলন বেগবান হবে বলে জানালেন হাসান আল মামুন।


প্রকাশ :  জানুয়ারি ২৩, ২০১৯ ৭:১৭ অপরাহ্ণ