১৯শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং | ৭ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:০৪

জামালপুরে অাধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে গেল ঐতিহ্য গরু গাড়ী

ফারুক মিয়া:

সভ্যতার বিবর্তনে গরুর গাড়ির বাহন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য দিনে দিনে হারিয়ে গেছে। পল্লীর নববধূর কাছে এটা রূপকথার গল্প। ৩০ বছর আগেও জামালপুর জেলার প্রতিটি উপজেলা গ্রামে গঞ্জে গরুর গাড়ির প্রচলন ছিলো। গ্রামাঞ্চল গুলোয় অসংখ্য গরু ও মহিষের গাড়ি ছিল। সে সময় এগুলোর বেশ কদর ছিল। তা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হতো। বেশির ভাগ গৃহস্থলী কাজে, মালামাল ও বউ-ঝিঁ আনা নেয়ার কাজে ব্যবহার হতো। অনেক গাড়িয়াল (চালক) শখ করে নিপুন হাতে বাঁশের বাতা ও নানা রঙের ছিটকাপড় দিয়ে গাড়ির আকর্ষণীয় “ছৈ” তৈরী করতো। আকর্ষনীয় ছৈ তোলা গাড়ি শোয়ারী অর্থাৎ বউ-ঝি আনা-নেয়ার কাজে ব্যবহার হতো। পল্লীর নববধূরা ঘোমটা মাথায় হাঁসি-কান্নায় বাবা ও স্বামীর বাড়ি যাতায়াত করতো। এছাড়া আকর্ষণীয় গাড়ি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বিয়ে নিয়ে ধুলা-বালি ও পাঁকা-কাদা মাড়িয়ে দুর-দুরান্তের পথ অতিক্রম করতো। বিয়ের গাড়ি বহর দেখে এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হতো। বর্তমান সভ্যতায় রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নে যান্ত্রিক যানবাহনের সহজ লভ্যতায় মহিষ ও গরুর গাড়ির ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে। দাদা-দাদী, নানা-নানীর মুখে গাড়ির ঐতিহ্যের কথা এখন নববধূদের কাছে যেন রূপ কথার গল্প। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ সদর ইউনিয়নের গামারিয়া গ্রামের নওশের আলী জানায়, ৩০ বছর আগে তাঁর একটি আকর্ষণীয় “ছৈ” তোলা গরুর গাড়ি ছিল। সভ্যতার বিবর্তনে তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন নাটক কিংবা সিনেমাতে গরুর গাড়ি দেখতে পাওয়া যায়।বাস্তবে গরুর গাড়ির অস্তিত্ব নেই বললে চলে।

প্রকাশ :  ডিসেম্বর ২৯, ২০১৮ ৬:০২ অপরাহ্ণ