১৯শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং | ৭ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:১৬

ড. কামালের ওপর হামলা, বিচার চেয়ে ইসিকে চিঠি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

আজ শনিবার দুপুরে এ দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) একটি চিঠি পাঠায় জোটটি। চিঠিটি নিয়ে যায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় তাঁরা ইসি সচিব হেলালুদ্দিন আহমদের কাছে শাস্তির দাবি জানান।

ইসি সচিবের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আলাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলার বিষয়ে ইসি সচিব বলেছেন, উনারা নাকি অবহিতই না। এটা খুব আশ্চর্য লাগে আমাদের কাছে। খুব কষ্ট লাগে। এটা আমাদের কাছে খুব বিস্ময়কর লাগে। এটা কীভাবে সম্ভব?

নির্বাচন কমিশন সচিব বলেছেন, উনারা জানতেন না এবং টিভিতেও দেখতে পারেননি। পরবর্তীতে উনারা ঘটনাটি শুনেছেন অফিস আওয়ারের পরে। উনারা কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেননি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আলাল বলেন, ‘সব জায়গায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ। এই তিন বাহিনীর মোকাবিলা করা আমাদের কাজ নয়। আমাদের কাজ হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়া। এই তিন বাহিনীকে মোকাবিলা করতে তো আমরা পারব না। তারা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এগুলো করছে।

গতকাল সারা দেশে বিভিন্ন আসনে যে হামলা ও সহিংসতা হয়েছে, সে বিষয়গুলো আমরা ইসিকে জানিয়েছি। আক্রমণ বন্ধ করতে ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে অনুরোধ করছি।’

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘যে পুলিশের দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়ে আক্রমণ থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি, সে পুলিশদের বিরুদ্ধে আমরা যত অভিযোগ করেছি, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে একজন পুলিশকেও বদলি বা ক্লোজ করা হয়নি। এ কথাগুলো আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি। আমরা বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে ফিরে যাচ্ছি। কিন্তু তারা তো এই সুযোগে দ্বিগুণ উৎসাহে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে আওয়ামীদের সঙ্গে নিয়ে।’

আলাল আরো বলেন, ‘বড় কিছুই চাইনি নির্বাচন কমিশনের কাছে। তাদের ক্লোজ করার জন্য বলেছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কয়েকদিন আগে বললেন, নির্বাচনের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। আমরা তো জীবন নিয়েই বাঁচতে পারছি না।

ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ যদি প্রচণ্ডভাবে সরকারের প্রতি অনুগত থাকে, সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নিজেরা সাবোটাজ করে, প্রতিপক্ষের ওপর চাপিয়ে দেয়। এখন সেটা নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত স্পর্শ করেছে কি না, সেটা তো একটা প্রশ্ন থেকে যায়। না হলে একই সুরে কথা তো আমরা আশা করি না। এত মারপিটের পরও আমরা মাঠে আছি। আমরা ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকব।’

এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনারা জেনেছেন আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় ঐকফ্রন্টের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎ করার জন্য চিঠি দিয়েছি। কেননা, নির্বাচন কমিশন আমাদের বক্তব্য শুনেন। কিন্তু প্রতিকার তো পাই না। তাই সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে আমরা উনার কাছেও বলব। তাও কাজ না হলে জনগণের কাছে বিচারের দাবি ছেড়ে দেব।’

এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল শুক্রবার মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বের হওয়ার সময় ড. কামাল হোসেনের গাড়িবহরে হামলা করা হয়।

গণফোরামের প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক দাবি করে বলেন, ‘এ হামলায় নেতৃত্ব দেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহীম, মিরপুরের শাহআলী থানা ছাত্রলীগ সভাপতি জাকির হোসেনসহ শাহআলী থানা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।’

পরে গণফোরামের গণমাধ্যম শাখার সদস্য লতিফুল বারী হামিম দাবি করেন, ‘ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবসহ গণফোরামের নেতারা ছিলেন। তাঁরা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বের হওয়ার সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসলামুল হকের সমর্থকরা গাড়িবহরে হামলা চালায়। কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলায় আ স ম আবদুর রবের গাড়ির চালক আহত হয়েছেন।’

প্রকাশ :  ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮ ১:৪৭ অপরাহ্ণ