১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:৪৬

আপিল শুনানির জন্য সময় গড়ে ৩ মিনিট!

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিলের হিড়িক পড়েছে। গত দুই দিনে মোট ৩১৮টি আপিল করেছেন প্রার্থীরা। আরো কমপক্ষে দেড়শত আপিল জমা পড়তে পারে বলে ধারণা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অর্থাৎ সব মিলিয়ে আপিলের সংখ্যা সাড়ে চারশোর বেশি হতে পারে।

আজ বুধবার তাঁদের আপিল আবেদন করার শেষ সময়। আগামী ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে এসব আপিলের শুনানি হওয়ার কথা। আপিলের শুনানিতে ইসিকে বেশ বিপাকে পড়তে হতে পারে। কোনো প্রার্থীর আপিলের জন্য গড়ে ৩ মিনিটের বেশি সময় ধরে শুনানি করতে পারবে না ইসি। ইসির একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইসির একজন যুগ্ম সচিব  জানান, প্রথম দুদিনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সংখ্যা ৩১৮। আগামীকাল এই সংখ্যা সাড়ে চারশোর বেশি হয়ে যাবে। এখন যদি তিন দিনে সব শুনানি শেষ করতে হয় তবে প্রতিদিন ১৫০ জনের শুনানি করতে হবে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়। মোট আট ঘণ্টায় হয় ৪৮০ মিনিট। এখান থেকে নামাজ, খাওয়া-দাওয়াসহ বিশ্রামের জন্য ৮০ মিনিট বরাদ্দ রাখতেই হবে। ৮০ মিনিট বাদ না দিয়ে সব মিলিয়ে ৩০ মিনিট বাদ দিলে বাকি থাকে ৪৫০ মিনিট। এখন এই ৪৫০ মিনিটের ভেতরে যদি ১৫০টি অবৈধ মনোনয়নপত্রের শুনানি করেন তাহলেও প্রতিটি শুনানির জন্য তিন মিনিটের বেশি সময় কোনো ভাবেই দিতে পারবে না নির্বাচন কমিশন।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘এই তিন মিনিট কিন্তু শুনানিতে অংশ নিতে ঢোকা থেকে বের হওয়া পর্যন্ত। যেতে আর বের হতে যদি এক মিনিটও সময় যায় তবে ওই সম্ভব্য প্রার্থীর জন্য সময় থাকছে দুই মিনিট। এই দুই মিনিটের ভেতরে আসলেই কী সম্ভব প্রার্থীদের অভিযোগ শোনা বা নিষ্পত্তি করা? হয়তো সম্ভব কিন্তু কারো অভিযোগ শোনার সময় হয়তো ইসির হবে না।’

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান  বলেন, ‘সব আপিলের ক্ষেত্রে যে একই রকম সময় লাগবে তা কিন্তু নয়। কারো হয়তো দুই মিনিট সময় লাগবে কারো হয়তো ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগবে। কারো কারো হয়তো শুনানিরও প্রয়োজন হবে না। যখন তখন বাতিল করে দেবে কমিশন। তবে শুনানিতে তারা অংশ নেবে। আর দেখা যাক, কী পরিমাণ সময় লাগবে সেটা শুনানির সময় এলেই বোঝা যাবে।’

সময়ের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম  বলেন, ‘একটু ঝামেলা তো হবেই। তবে এ ছাড়া তো আমাদের পথও নেই। আইনে আছে শুনানির জন্য তিন দিনের কথা। আমরা তো আইনের বাইরে যেতে পারব না। আইনের ভেতরে থেকে আমাকে সব কাজই শেষ করতে হবে। যৌক্তিক আকারে প্রার্থীদের অভিযোগ শুনতে পারব কি পারব না এটা এখন মন্তব্য করা ঠিক হবে না। সময় সব বলে দেবে।’

রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, ‘দেখা যাক সামনে কী হয়। আগে শুনানি শুরু হোক। শুনানি শুরু হওয়ার পর যদি মনে হয় তাহলে আমরা কর্মঘণ্টা বাড়িয়ে দিতে পারি। তিনদিনের ভেতরে কাজ অবশ্যই শেষ করতে হবে। যেভাবেই হোক আমরা ওই তিনদিনের ভেতরে সব শুনানি শেষ করে ফেলব।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জমা দেওয়া তিন হাজার ৬৫ মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৭৮৬টি বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। গত রোববার যাচাই-বাছাই শেষে এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্র অনুযায়ী, সারা দেশের ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে দুই হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। সারা দেশে ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও ৩৫টি আসনে কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। ২৬৫টি আসনে এক বা একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। সর্বোচ্চ বাতিল হয়েছে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে। এখানে ১৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। জমা পড়েছিল ২৩ মনোনয়নপত্র।

প্রকাশ :  ডিসেম্বর ৪, ২০১৮ ৬:৪২ অপরাহ্ণ