১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৭:১২

আলেম উলামা ও মাদরাসা ছাত্রদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মো.আলাউদ্দীনঃ
চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ওলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতার  উদ্যোগে বিগত ১লা ডিসেম্বর টঙ্গি বিশ্ব ইজতেমার মাঠে তাবলীগের সাথী, আলেম উলামা ও মাদরাসা ছাত্রদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ৪ ডিসেম্বর বাদ জোহর চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ফিরোজশাহ কলোনী মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও দারুল উলুম হাটহাজারীর মুঈনে মুহতামিম আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী।
প্রধান অতিথির ভাষণে আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, তাবলীগ একটি সুশৃংখল ও শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় জামায়াত। এখানে আল্লাহর পথে আসার, নবীজী সা. এর সুন্নাত মুতাবেক চলার তালিম দেয়া হয়। সন্ত্রাস মারামারির কোন সম্পর্ক তাবলিগে নেই। যারা বিশ্ব ইজতেমার মাঠ দখলে নিতে সেখানে অবস্থানরত তাবলীগের সাথী, উলামায়ে কেরাম ও মাদরাসা ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়ে শহীদ করেছে এবং আহত করেছে, এরা দেশি বিদেশী কোন অপশক্তির এজেন্ট। আলেম ও ছাত্রদের যারা রক্ত ঝরিয়েছে এদেরকে গ্রেফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। শহীদের রক্তের বদলা নিতে হবে। টঙ্গির ময়দানে নিরীহ মুসল্লীদের উপর নৃশংসভাবে হামলাকারীরা ইহুদীর দোসর। তা না হলে এভাবে নিরীহ মুসল্লী, আলেম ওলামা ও ছাত্রদের উপর পৈশাচিকভাবে হামলা কোন মুসলমান করতে পারেনা।
আল্লামা বাবুনগরী বলেন, সেদিন প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক ছিল। তারা যথাযথভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করলে সেদিন কোন মানুষ নিহত ও আহত হতো না। এ ঘটনার দায় প্রশাসন কোনভাবে এড়াতে পারেনা। প্রশাসনকে এর জবাব দিতে হবে।তিনি বলেন, এটা পরিকল্পিতভাবে হামলা। এ হামলার উস্কানিদাতা ওয়াসিফুল ইসলাম, শাহাবুদ্দীন ও ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাবলিগের কাজ চলবে আলেমসমাজের ফায়সালা মতে। কোন ব্যক্তির কথায় তাবলিগ চলতে পারেনা। মাওলানা ইলিয়াস রহ. দেওবন্দের মুরুব্বিদের পরামর্শ মতে কাজ চালিয়েছেন, তাই ফিতনা তৈরী হয়নি। ভারতের বিতর্কিত মাওলানা সাদ দেওবন্দের পরামর্শ মানছে না বলেই তাবলিগে ফাসাদ সৃষ্টি হয়েছে। মাওলানা সাদ বাতিল আকিদা পোষণ করেন। হক্কানী আলেমরা কোন বাতিলকে এদেশে বরদাশত করবেনা। তাবলীগের সাথীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ব্যক্তির এতায়াত নয়, রাসূল সা. এর সুন্নাতের অনুসরন করে আলেম ওলামাদের পরামর্শ মতে চলুন। আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্ব ইজতেমা নির্ধরিত সময়ে অুষ্ঠিত হবে। আপনারা অতীতের মতো সার্বিক সহযোগিতা করবেন। এতে দেশের এবং আপনাদের সুনাম হবে।উক্ত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, দারুল উলুম হাটহাজারীর মুহাদ্দিস ও তাবলীগের মুরুব্বি মাওলানা মুফতি জসিম উদ্দিন, মোজাহের উলুম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা লোকমান হাকীম, হাটহাজারী মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা ফোরকান আহমদ, নাজিরহাট মাদরাসার মুফতি হাবিবুর রহমান, শোলকবহর মাদরাসার মাওলানা লোকমান, লালখান বাজার মাদরাসার মুফতি হারুন ইজহার, হেফাজতের মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, নানুপুরের মুফতি শওকত, দারুল মাআরিফের মুফতি মাসুম, হালিশহর মাদরাসার মুফতি হাসান মুরাদাবাদী, শাহওয়ালি উল্লাহ মাদরাসার মাওলানা সফিউল্লাহ, তাবলীগের সাথী মাওলানা সাইফুল হক, মুফতি মুসতাফিজুর রহমান, মুফতি মহিউদ্দিন, মাওলানা মাসুদ প্রমূখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন, মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার যদি মুসল্লি হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় না আনে তা হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওয়াসা মোড়ে গিয়ে শেষ হয় এবং মিছিল শেষে সিএমপি কমিশনারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

প্রকাশ :  ডিসেম্বর ৪, ২০১৮ ২:১৯ অপরাহ্ণ