১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ২:৩৯

কালীগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার জমি ভাড়ায় নিয়ে মালিকানা দাবি

এম সহিদুল ইসলাম লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

একজন মুক্তিযোদ্ধার সরলতার সুযোগে জমি ভাড়া নিয়ে মালিকানা দাবি করে দখল করে রেখেছে ভাড়াটিয়া দোকান মালিক। জমির ভুয়া কাগজ করে মামলায় হয়রানি করে আসছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে। বেশ কয়কবার গ্রাম্য সলিশসহ বিভিন্ন বৈঠক করেও ব্যার্থ হয়েছেন ওই এলাকার চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যরা।

জেলা সহকারী জজ’র নির্দেশক্রমে কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামাল মোহাম্মদ রাশেদ সরজমিন তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

ওই প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে ‘প্রতিপক্ষ ব্যবসা করার নিমিত্তে তর্কিত সম্পত্তি ভাড়া হিসেবে নিয়ে সেখানে দোকান ঘর নির্মাণ করে। পরে একটি ভিত্তিহীন দলিল তৈরি করে চক্রটি নিজেরাই মালিকানা দাবি করে প্রকৃত মালিক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি বেদখল দিয়েছে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের কাজীরহাট গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জহির উদ্দিন এর ৮ শতক জমি ভাড়া নিয়ে মালিকনা দাবী করে ভাড়া দেওয়া বন্ধ করেছে একই এলাকার মৃত সহির উদ্দিনের ছেলে চানমিয়া ও মোসলেম উদ্দিনের ছেলে ইমান আলী।

জানাযায়, উপজেলার বানীনগর মৌজার মৃত আবদুল শেখ তার নিজ নামীয় ৪৬ শতক জমি তার ৪ ছেলে মৃত মোহাম্মদ আলীকে ১০ শতক, মৃত হাবিবুর রহমানকে ১২ শতক, মোঃ ফজর আলীকে ১০ শতক এবং মোঃ জহির উদ্দিন (মুক্তিযোদ্ধা)কে ১৪ শতক জমি দলিলমূলে দানপত্র করেন। পরে ভাই মুক্তিযোদ্ধা তার ভাই ফজর আলীর অংশ ১০ শতক জমি দলিলমূলে ক্রয় করেন। যা পরে ১৯৯০ সালে বি,আর,এস রেকর্ডে ২৩ শতাংশ রেকর্ডভুক্ত হয়।

জমিখানি কাজিরহাট বাজার সংলগ্ন হওয়ায় চানমিয়া ও ইমান আলী ভাড়া নিয়ে সেখানে দু’জনে দু’টি চায়ের দোকান দেয়। কয়েক বছর ভাড়া দেয়। জমি ফেরত চাইলে টালবাহানা করে ভারাটিয়া মালিক। পরে ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় এলাকাবাসীকে নিয়ে ২০১০ সালের ১০ই জুন একটি সালিশের মাধ্যমে ওই জমি থেকে চানমিয়া ও ইমান আলীকে তাদের দোকান ঘর সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাতে তারা রাজি হয়ে লিখিত অঙ্গীকার করেন।

এরই মধ্যে গোপনে নিঃস্বত্ববান ভাই ফজর আলীর কাছ থেকে কথিত চানমিয়া ও ইমান আলী ৪ শতাংশ করে দু’জনে ৮ শতাংশ জমি পৃথক দুটি দলিল তৈরি করে উল্লিখিত জমির মালিকানা দাবি করে বসেন এবং ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দেন।

সেই অঙ্গীকার মতে জমির দখল ছাড়েনি, তখন জহির উদ্দিন বাধ্য হয়ে গত ২০১৩ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর তারিখে বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালত, কালীগঞ্জ, লালমনিরহাটে জমি উদ্ধারের জন্য একটি ‘অন্য-৯২/১৩’ মামলা রুজু করেন। কথিত চানমিয়া ও ইমান আলী আদালতের বিচারকার্য বিলম্বিত করার জন্য গত ১১-১০-২০১৮ তারিখে মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন (গং)দের নামে একই আদালতে পাল্টা ‘অন্য-১৪২/১৮’ মামলা করেছে।

এ ব্যাপারে কাকিনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, স্থানীয় এলাকাবাসীসহ পার্শ্ববর্তী তুষভান্ডার ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান আবু তালেব আলবানী, কাকিনা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান হেলালসহ সালিশে কথিত চানমিয়া ও ইমান আলী জমির অবৈধ দখল ছেড়ে দেয়ার অঙ্গীকার করেও দখল ছাড়েনি। আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ করা ছাড়া বিকল্প কোন পন্থা নেই বলে তিনি জানান।

 

প্রকাশ :  ডিসেম্বর ৩, ২০১৮ ১০:০২ পূর্বাহ্ণ