১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৭:৩৬

মুক্তিযোদ্ধার নামে নামকরণ করায় রাস্তা কেটে নামফলক ভাঙ্গচুর ! 

স্টাপ রিপোর্টারঃ

হাটহাজারীতে মুক্তিযোদ্ধার নামে রাস্তার নাম করন করায় নাম ফলক ভেঙ্গে রাস্তার ইট উপড়ে ফেলে দিয়ে রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মোহচেনা পাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ঐ এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.আব্দুস সবুরের বাড়ির সামনের অনেক বছরের পুরানো এ রাস্তা কেটে ফেলায় রাস্তা দিয়ে চলাচল করা জনসাধারণকে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে। এ নিয়ে প্রশাসনের কর্তাদের কাছে ধরণা দিয়েও অদৃশ্য কারনে কোন সুরাহা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ঐ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় ক্ষতিগ্রস্তরা রীতিমত উল্টো প্রতিপক্ষের লোকজনের হুমকি-ধমকির সম্মুখিনও হচ্ছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.আব্দুস সবুর জানান, রাস্তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এলাকাবাসী যাতায়াত করে আসছেন। স্থানীয় একাধীক ব্যক্তি জানান,এ রাস্তা দিয়ে সহজেই অল্প সময়ে মদনহাট কিংবা কাটিরহাট আসা যাওয়া করা যায়। কাঁচা এ রাস্তাটিতে ইট বিছানোর জন্য জনসাধারণ প্রশাসন এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার এর নিকট দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি উক্ত কাঁচা সড়কটি ব্রীক সলিন করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পরিমাপ করে দুই লক্ষ টাকা বরাদ্দও দেয়া হয় এবং সে অনুযায়ী ব্রিক সলিনের কাজও সমাপ্ত হয়। কিন্তু সরকারীভাবে ইট বসানোর কয়েক মাস যেতে না যেতেই প্রতিপেক্ষের লোকজন গায়ের জোরে সন্ত্রাসী কায়দায় দল বল নিয়ে রাস্তাটির ইট তোলে রাস্তাটি কেটে ফেলে।
ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মো.আব্দুল, মো. শফিউল আজম, তহিদুল আলমসহ অনেকেই জানান, রাস্তাটি ব্রীক সলিন করার পর নামফলকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.আব্দুস সবুর এর নাম দেওয়ার কারণে আক্রোশমূলক নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে প্রতিপক্ষের লোকজন। গত ১৭ নভেম্বর ধলই ইউনিয়নের শায়ের মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ির সুলতান আহমদের পুত্র আলী আহমদ, আলী আকবরের পুত্র হামিদুল ইসলাম ইমতিয়াজ ও আজিজুল হকের পুত্র বাবরের নেতৃত্বে প্রায় ২শ ফুট দৈর্ঘ্য রাস্তাটির ইট উপড়ে ফেলে এবং রাস্তাটির দুইটি অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। আসলে এ রাস্তাটি কেটে ফেলার মূল কারণ হল রাস্তাটির নামকরণ। প্রতিপক্ষের পছন্দের লোকের নামে যদি রাস্তাটার নামকরণ হয় তবে রাস্তা থাকবে না হয় থাকবে না, প্রতিপক্ষের লোকজন এমনটাই দাবী করেছেন বলেও সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে রাস্তাটি কেটে ফেলার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত হামিদুল ইসলাম ইমতিয়াজ বলেন, নামকরণের জন্য আমরা ওই রাস্তাটি কাটি নাই। আমাদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সঠিক নয়। রাস্তাটি আমাদের জায়গায় পড়েছে। যারা রাস্তাটি নির্মাণ করেছে তারা আমাদের কাছ থেকে কোন প্রকার অনুমতি নেয়নি। এদিকে রাস্তা কেটে দেওয়ার ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া তালুকদারকে অবহিত করলে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত একটি অভিযোগ দিতে বলে এবং উক্ত অভিযোগ পত্রে চেয়ারম্যান নিজেই ইউএনওকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশও করেন বলে তিনি জানান।
এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে উক্ত এলাকায় যে কোনো মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলেও মতামত প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এছাড়া এলাকার সচেতন মহল গ্রামীণ রাস্তা কেটে ফেলার ঘটনাটি সরজমিন পরিদর্শন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও উন্নয়ন কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট জোর দাবি জানান।
প্রকাশ :  ডিসেম্বর ১, ২০১৮ ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ