১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:৩৫

শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি,এটা মিথ্যা প্রচারণা’ এমন বক্তব্য শহীদদের প্রতি অবজ্ঞার শামিল – বাবুনগরী

মো.আলাউদ্দীনঃ
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদরাসা বোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘শোকরানা মাহফিলে’-প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন ”২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি, এটা মিথ্যা প্রচারণা” বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন,এমন একটা ঘটনাকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা নিঃসন্দেহে চরম অমানবিক, মজলুম নবীপ্রেমিক জনতার সাথে উপহাস আর শহীদদের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সোমবার ৫ নভেম্বর রাতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি’ মর্মে তার প্রদত্ত বক্তব্যে বাংলাদেশের আলেমসমাজ ও তাওহিদী জনতা চরমভাবে ক্ষুদ্ধ, ব্যথিত ও মর্মাহত। অনস্বীকার্য বাস্তবতা হলো, দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব মিডিয়ার বদৌলতে ২০১৩ সালের ০৫ মে সন্ধ্যায় ও দিবাগত রাতে তৎকালীন সরকারের প্রশাসন কর্তৃক শাপলা চত্বরে মহান আল্লাহ ও প্রিয় নবী সা. এর বিরুদ্ধে কটুক্তিকারীদের শাস্তির দাবিতে অবস্থানরত শান্তি প্রিয় আলেম সমাজ,তাওহিদী জনতার ও জিকিরকারীদের উপর নির্মম ও নিষ্ঠুর হামলা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছে। যাতে অনেক মুসলমান শাহাদাত বরণ করেন এবং হাজার হাজার নবীপ্রেমিক জনতা আহত হন, পঙ্গুগুত্ব বরণ করেছেন। সেই দিন আমিসহ অনেকেই গ্রেফতার হন। পরবর্তীতে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হন আরও অনেক আলেম, মাদরাসাছাত্র ও সাধারণ মানুষ। ঐদিন শাপলা চত্বরে অবস্থানরত লাখ লাখ তাওহিদী জনতা, দেশী-বিদেশী মিডিয়াকর্মী ও ঢাকাবাসী এ হামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। শুধু তাই নয়, সন্ধ্যা আগ থেকেই আইনশৃংখলা বাহিনী ও উগ্রবাদিদের বর্বরোচিত আক্রমনে অবরোধকারী তাওহিদী জনতার গুলিবিদ্ধ লাশ নানাদিক থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আসতে থাকে। যার ভিডিও ফুটেজ প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী হিসেবে রয়েছে। প্রায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় এ খবর খোলামেলা প্রকাশিত হয়েছিল। সামরিক সচিব মেজর মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের এমন বক্তব্যে বাংলাদেশের আলেমসমাজ ও তাওহিদী জনতা চরমভাবে ক্ষুদ্ধ, ব্যথিত ও মর্মাহত। শুকরানা মাহফিলে এমন আলোচনার আদৌ কোন প্রয়োজনই ছিলো না। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুখ থেকে এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেশবাসী আশা করেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়াও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আরো জানান,দুঃখের বিষয় হলো শুকরানা মাহফিলের মঞ্চে উপস্থিত আলেম উলামা শাপলা চত্তরে ঘটনার পর যারা অনেক হতাহত হয়েছে বলে শিকার করেছিল তারাও সামরিক সচিবের এমন বক্তব্যের পর কোন প্রতিবাদ করলো না। এটা বড়ো আশ্চর্যের বিষয়ও বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রকাশ :  নভেম্বর ৫, ২০১৮ ৪:৫৮ অপরাহ্ণ