১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:৫৯

সিলেটে পাঠকপ্রিয়তায় শীর্ষে বাংলাদেশ প্রতিদিন

সংক্ষিপ্ত কলেবর, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ, নিরপেক্ষতা আর সব শ্রেণির পাঠকের চাহিদা পূরণ— এসব মিলিয়ে সিলেটে পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন। প্রতিদিন বিকাল গড়ানোর আগেই সিলেটের হকারদের কাছ থেকে পুরোপুরি বিক্রি হয়ে যায় এই দৈনিকটি। সিলেটের সংবাদপত্র বিক্রেতারা বলছেন, বাংলাদেশ প্রতিদিন গণমানুষের পত্রিকা। বর্তমানে মানুষের হাতে সময় কম থাকে। এ জন্য মানুষ সংক্ষিপ্ত পরিসরে সংবাদ পড়তে চায়। তবে তাদের আগ্রহ আবার সব ধরনের সংবাদের প্রতিই থাকে। রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, বিচিত্রতা, আন্তর্জাতিক সব বিষয়ের সংবাদ পেতে চায় মানুষ। আর সংক্ষিপ্ত পরিসরে সব দিকের সব সংবাদ থাকায় পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

সিলেট নগরীর বন্দরবাজারের সংবাদপত্র বিক্রেতা শাহ আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ একটি ভালো মানের পত্রিকা। সিলেটে শীর্ষস্থানে রয়েছে পত্রিকাটি। এই পত্রিকার গেটআপ-মেকআপের প্রশংসা করেন পাঠকরা। সংবাদ সংক্ষিপ্ত হওয়ায়, প্রতিদিন ভালো মানের কলাম থাকায়, রাজনীতিসহ সব বিষয়ের সংবাদের কারণে পত্রিকাটির কাটতি দিন দিন বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিনে’ সব দলের খবর সমান গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়। নিরপেক্ষতা থাকায় পত্রিকাটি মানুষের খুবই প্রিয়।’ শাহ আলম বলেন, ‘অধিকাংশ দিন বিকালের আগেই বাংলাদেশ প্রতিদিন বিক্রি শেষ হয়ে যায়। এজেন্সি ফেরত নিতে চায় না বলে আমরা চাহিদার বেশি পত্রিকা আনতে সাহস করি না।’ সিলেট জেলা সংবাদপত্র হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি হালিম আহমদ বলেন, ‘পত্রিকার হকার হিসেবে বলতে পারি, বাংলাদেশ প্রতিদিন পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে, এ পত্রিকায় সংবাদ নিরপেক্ষ। এখানে সরকারি ও বিরোধী প্রত্যেক দলের সংবাদই থাকে। যে জন্য পাঠকরা খুব বেশি পড়ে। আমি মনে করি, পাঁচ টাকার পত্রিকা হিসেবে এটি পাঠকদের যথেষ্ট চাহিদা মেটাচ্ছে। পত্রিকাটির গেটআপ, মেকআপ ভালো হওয়ায় এবং ভিতরের পাতায় কিছু নিউজের কারণে পাঠকদের মন জয় করে নিয়েছে। সিলেটে বাংলাদেশ প্রতিদিন এক নম্বর স্থানেই আছে। যত দিন যাচ্ছে, বাংলাদেশ প্রতিদিনের চাহিদা আরও বাড়ছে।’ সিলেট মহানগর সংবাদপত্র হকার্স সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন সিলেটে এক নম্বর স্থানে আছে। এটি আকারে ছোট পত্রিকা হলেও জ্ঞানভিত্তিক লেখা থাকে। মানুষ এখন কম সময়ে খবর পড়তে চায়। মানুষ এই পত্রিকা পড়ে সব খবর পাচ্ছে। বড় পত্রিকা তার আর পড়ার প্রয়োজন নেই। গল্প-উপন্যাস যেসব পত্রিকা লিখে, এগুলো খুব কম মানুষ পড়ে। আমি মনে করি, বাংলাদেশ প্রতিদিন সারা দেশেই এক নম্বর স্থানে আছে।’  বাংলাদেশ প্রতিদিন’র অবিক্রীত কপি এজেন্সি ফেরত নিতে চায় না উল্লেখ করে হকার্স নেতা আবদুস সালাম বলেন, ‘যদি অবিক্রীত কপি ফেরত নেওয়া হতো তাহলে হকাররা আরও বেশি করে পত্রিকা নিতে পারত। বাজারে পত্রিকাটির চাহিদা আরও আছে। কিন্তু অবিক্রীত কপি ফেরত না নেওয়ায় হকাররা ভয়ে বাড়তি পত্রিকা নেন না।’ সংবাদপত্র এজেন্ট আলমগীর এন্টারপ্রাইজের পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, ‘যেদিন পত্রিকা সকাল ৬টার মধ্যে সিলেটে এসে পৌঁছায় সেদিন দ্রুত শেষ হয়ে যায়। পাঠকের আস্থা অর্জন করতে পারায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাটতি বাড়ছে। অথচ অন্য অনেক পত্রিকার চাহিদা গেল কয়েক বছরে সিলেটে কমেছে।’ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে সব মানুষের পত্রিকা হিসেবে মনে করেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ। মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে ওঠে বাংলাদেশ প্রতিদিনে চোখ বুলালেই সারা দেশের খবর জেনে নেওয়া যায়। পত্রিকাটির সম্পাদকীয় নীতি, ইস্যুভিত্তিক বিশেষ সংবাদ পরিবেশন, বস্তুনিষ্ঠতা পাঠক হিসেবে আমাকে আকৃষ্ট করে। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রতিদিন পজেটিভ সংবাদগুলোকে যেভাবে গুরুত্ব দেয় তা প্রশংসার দাবি রাখে। তাই অল্প সময়ে পত্রিকাটি মানুষের মনে ঠাঁই করে নিতে পেরেছে।’

প্রকাশ :  নভেম্বর ৩, ২০১৮ ৭:২১ অপরাহ্ণ