১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:২১

লাকসাম জংশন প্লাটফর্মের অবৈধ দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা, কোন কিছুই জানেনা বিদ্যুৎ ইনচার্জ।

এম এ কাদের অপু, কুমিল্লা দ: জেলা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত লাকসাম রেলওয়ে জংশন। বৃটিশ সরকার থেকে এই জংশনকে কত লাকসাম, কত বাত্তি বলে চিনতেন সাধারন জানতা।
৩১-১০-২০১৮ইং রোজ বুধবার সন্ধ্যা থেকে লাকসাম জংশনের ১ ও ২ নং প্লাটফর্মের প্রায় অনেক দোকানই দেখা যায় বিদ্যুৎ বিহীন। বিদ্যুৎহীন এই দোকান গুলো অবৈধ বলেও জানান ষ্টেশনের কিছু কর্মকর্তা। যে প্লাটফর্মে পা রাখলেই কিছু টিকেট কালোবাজারী ও অবৈধ দোকানদারদের ধাপটে প্লাটফর্মে উঠায়ই মোশকিল হয়ে যায় কিছু কিছু সময়। আবার এই দোকানদার রা শিশুদের দিয়ে কাজ করিয়ে ঠিক ভাবে দেয়না তাদের ন্যায্য পাওনা। শিশুশ্রম অবৈধ বলে বাংলাদেশ সরকার ঘোষনা করলেও কে শোনে কার কথা?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার জানান, আমরা প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিল দিযে আসছি অথচ আমাদের মিটার ও খোলে নিয়ে গেলো কি অন্যায়ের কারনে তা আমরা নিজেরাও জানিনা।

প্লাটফর্ম থেকে যে দোকান গুলো থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হলো তাদের মধ্যে উল্লেখ্য সিরাজ মিয়া রেলওয়ে ক্যাটারার্স, আর এন ষ্টোর, বাহার মিয়ার দোন, বইঘর, বারেক ষ্টোর, ২নং প্লাটফর্মে বিকাশ দোকান, গ্রামীন ও বাংলালিংক দোকান, রেলওয়ে কপিশপ, মা ফাষ্টফুড সহ আরো অনেক দোকানই দেখা যায় সাটার লাগিয়ে দোকান বন্ধ করে রেখেছেন।

প্রশ্ন হলো? এই দোকানগুলো যদি অবৈধ দোকান হয়ে থাকে তাহলে এই দোকান গুলোতে বৈদ্যুতিক মিটার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলো তা কিন্তু প্রশ্নই রয়ে গেলো??

নবনিযুক্ত ষ্টেশন মাষ্টার হাছান তালুকদারের ব্যবহারিত মুঠোফোনে কয়েকবার কল করার পরেও কোন উত্তর না পাওয়াতে প্রশ্ন আরেকটা বাহির হলো যে, একজন ষ্টেশন মাষ্টার যদি ফোন রিসিভ না করেন তাহলে ষ্টেশনে যে কোন দুর্ঘটনার জন্য তিনি কি ভাবে পদক্ষেপ নিবেন তা ওনি নিজেই জানেন বলে মনে হয়। ব্যক্তিগত সমস্যার কারনেও হয়তো ফোন রিসিভ করেন নাই।

লাকসাম রেলওয়ে বিদ্যুৎ ইনচার্জ হারুনুর রশিদ কে এই অবৈধ সংযোগ ব্যপারে এবং বিদ্যুৎবিহীন দোকান গুলোর কথা বলতে চাইলে জবাবে বলা হয় ওনি নাকিএই ব্যাপাওে কিছুই জানেন না। একজন বিদ্যুৎ ইনচার্জ হারুন তাহলে কি ওনি রেলওয়ের কোন খবরই রাখেন না?

একজন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে বলেন এই দোকান ও বিদ্যুতের ব্যাপারে যেনো কোন সাংবাদিক কোন প্রকার লেখালেখি না করে সেই ব্যাপারে লাকসাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি তাবারক উল্লাহ কায়েসের কথা বলেও একপ্রকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হলে, কথা প্রসঙ্গে আবার অন্য কথায় চলে যায়। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, লাইনম্যানরা সামান্য চা খাওয়ার টাকা নিয়ে এসব অবৈধ লাইন দিচ্ছে, প্রশ্ন তাহলে কি বাংলাদেশ রেলওয়ে ডিপার্টমেন্ট এসব লাইনম্যানদের কোন বেতন দিচ্ছেনা?

লাকসাম প্রেসক্লাবের সভাপতি তাবারক উল্লাহ কায়েস জানান, আমাকে কেউ এই ধরনের কোন কথা বলে নাই এবং এই ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। আমাকে কেউ কোন ভাবেই অবগত করে নাই।

বাংলাদেশ শ্রমিকলীগ লাকসাম শাখার সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ পলাশ জানান, এই ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। তবে প্লাটপর্মে অবৈধ ভাবে যারা দোকান দেয় অর্থাৎ যে দোকানের কোন লাইসেন্স নাই সেই দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে বা দোকানদারদের কাছে হয়তো মাসিকবিল বাকী থাকার কারনেও লাইন গুলো কেটে মিটার নিয়ে গেছে।

বাহার নামক দোকানদার জানান, আমার দোকানে লাইন আছে কিন্তু একটু সমস্যার কারনে লাইন বন্ধ আছে। কি সমস্যা তা জানতে চাইলে বাথরুমে যাওয়ার নাম বলে এইদিক সেইদিক যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে বল্লো, দোকানের পিছন দিক দিয়ে মিটার লাগানো আছে, অথচ দেখা গেলো আসলে কোকানের পিছনে মিটার লাগানোর চিহ্ন থাকলেও মিটার নাই। মিটার না থাকার কারন জানতে চাইলে কোন কথারই উত্তর তিনি দিলেন না। এই সেই বাহার যে ৫/৬ জন পথশিশু দিয়ে বিভিন্ন ট্রেনে ট্রেনে ছোট বাচ্ছাদের দিয়ে জুস, পানি থেকে শুরু করে খাবার পন্য বিক্রি করার পাঠিয়ে টাকা ইনকাম করে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে। অনেক ধাপটের সাথেই দোকানদারী করেন এই বাহার। তার এই ধাপটের কারন কি তা জানার অপেক্ষায় থাকা ছাড়া আর নেই কোন গতি।

লাকসাম পৌরসভা ২ নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আবু হানিফ মজুমদার জানান, প্লাটফর্মে দোকান গুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া আছে বলে আমার জানা নাই। এই ব্যাপারে আমার কোন প্রকার আপত্তি বা কিছুই বলার নাই।

লাকসাম পৌরসভা ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব খলিলুর রহমানের ব্যবহারিত নাম্বারটি বন্ধ থাকায় তাকে পাওয়া না গেলেও ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ডা: মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, এই ব্যাপারে কেউ কোন কিছু জানায় নাই বিধায় আমি কিছুই বলতে পারছিন না।

বাংলাদেশ সরকারের রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব এমপি জানান, আমার কাছে যত তাড়াতাড়ি লিখিত অভিযোগ দিতে পারো আমাকে দাও, আমি লিখিত অভিযোগের পরিপেক্ষিতে ব্যবস্থা নিবো। তিনি আরোও বলেন, শেখ হাসিনা সরকার কখনো দুর্নীতিকে স্বাগত জানায় নাই নির্মূল করা ছাড়া। আর তাই এই সরকার থাকাকালীন দেশে কোন প্রকার অবৈধ কাজ করতে দেওয়া হবেনা।

প্রকাশ :  নভেম্বর ১, ২০১৮ ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ