১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:২৬

লালমনিরহাট-১ শক্ত অবস্থানে আওয়ামীলীগ, কোন্দলে জর্জরিত বিএনপি,জাতীয় পাটির অবস্থান নড়বড়ে

এম.সহিদুল ইসলাম লালমনিরহাট প্রতিনিধি : এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মনোনয়ন ঘোষনা হয়নি। হয়নি কোন জোট বা মহাজোটের হিসাব-নিকাশ। নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা করতে হয়তো আরোও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। তবে সে অপেক্ষায় বসে নেই একাদ্বশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অনেকেই নেমে পড়েছেন ভোটের মাঠে। বিভিন্ন সামাজিক বা রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে নিজের পক্ষে জনসমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইতোমধ্যে আগামী একাদ্বশ নির্বাচনের জন্য ভোট চাওয়া শুরু হলেও এ ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে বিএনপি। কারণ দলীয় কোন্দলের পাশাপাশি ক্ষমতাসীনদের চাপে প্রকাশ্যে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করতে না পারাটাও এর একটি অন্যতম কারণ বলে মনে করছে দলটি। এছাড়া জেলা বিএনপি অপেক্ষা করছে কেন্দ্রিয় নির্দেশনারও। তবে থেমে নেই তাদের ‘কৌশলী’ ভোট আহবান। অপরদিকে বসে নেই জাতীয়পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষনার পর মাঠে দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে কমবেশি দু’দলেই সম্ভাব্য প্রার্থীরাই আগামী নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের নজরে আসার চেষ্টা করছেন। তবে নির্বাচনকেন্দ্রিক জামায়াতের কোনো কর্মকান্ড এখনও প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও গোপনে তারা কর্মকান্ড করছেন বলে জানা গেছে।
পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলা মিলে লালমনিরহাট-১ আসন গঠিত। এ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। গত সরকারের সময় তিনি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। ওই আসনের আরেক উপজেলা পাটগ্রাম আওয়ামীলীগ দুইভাবে বিভক্ত। এর এক অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় সাংসদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম নাজু এবং অপর অংশের নেতৃত্ব দেন সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল। ২০১৩ সালে কমিটি গঠন নিয়েই মূলত সেখানে সূত্রপাত এই কোন্দলের। এই বিরোধই শেষ পর্যন্ত মোতাহার-বাবুল বিরোধে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে পাটগ্রামের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদের তিনজনকে এক মঞ্চে দেখা গেলেও ভেতরে ভেতরে থাকা তাদের দন্দের বিষয়টি জানেন হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম উপজেলার প্রায় সবাই। কমিটি গঠন নিয়ে শুরু সেই দ্বন্দে নানা কারণে এখন এতটাই প্রকট হয়েছে যে, রুহুল আমিন বাবুল পাটগ্রামের আট ইউনিয়নে দলীয় নেতাকর্মীদের অনেককেই নিজের দিকে ধরে রাখার চেষ্টার পাশাপাশি হাতীবান্ধারও কিছু ‘ক্ষুদ্ধ নেতার’ সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলেছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়েই তিনি এমনটি করছেন বলে জানা গেছে। তবে থেমে নেই মোতাহার হোসেন। পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তিনি। বুড়িমারী-লালমনিরহাট মহাসড়ক ও রেলপথ সংস্কার, পাটগ্রামে ধরলা নদীতে ব্রীজ নির্মাণসহ স্থলবন্দরের ভবন। তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি’র দায়িত্ব পাওয়ার পর একজন সফল সংগঠক হিসাবে দলীয় নেতা-কর্মীদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি দল মত সকলের কাছে একজন গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি হিসাবে নিজের ক্লিন ইমেজ তৈরী করেছেন। তিনি লালমনিরহাট-১ আসন থেকে পরপর তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। পুনরায় নির্বাচিত হয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী গণসংযোগ। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষদের চাঙ্গা করতে ইতোমধ্যে শুরু করেছেন সভা-সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি।
হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপিতে রয়েছে দলীয় কোন্দল। পাটগ্রামে উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও ঘোষনা হয়নি কমিটি। অপরদিকে হাতীবান্ধায় সম্মেলনের আয়োজনই হয়নি এখন পর্যন্ত। হাতীবান্ধায় দলের মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তি থাকলেও পাটগ্রামে বিএনপির সকলেই আপাতত একসাথেই রয়েছেন বলে জানা গেছে। জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপির কমিটি হয় সর্বশেষ ২০১০ সালে। এর পাঁচ বছর পরে গঠিত হয় আহবায়ক কমিটি। কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে আছেন মোশারফ হোসেন ও সদস্য সচিব হিসেবে আছেন আফজাল হোসেন। বর্তমানে হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব আফজাল হোসেনসহ দলের একটি পক্ষ রয়েছেন কেন্দ্রিয় বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধানের সাথে। অপর পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোশারফ হোসেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা এ্যাডভোকেট মাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী উজ্জল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা শাহীন আকন্দর নাম শোনা যাচ্ছে। গণসংযোগ করলেও অনেক নেতা কর্মীর অভিযোগ ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান বহিরাগত। পাশাপাশি এ্যাডভোকেট মাজেদুল ইসলাম পাটোয়ারী উজ্জলকে প্রতিনিয়ত গণ সংযোগে দেখা যাচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, বর্তমান সরকারের আমলে হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম উপজেলায় সবমিলিয়ে ৫০টিরও বেশি মামলা হয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মামলায় জর্জরিত এবং দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সুসংগঠিত নয় সেখানকার বিএনপি। সবমিলিয়ে নানা প্রতীক‚লতার মাঝে একাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে এখন পর্যন্ত খুব একটা প্রকাশ্যে নির্বাচন কেন্দ্রিক সভা-সমাবেশ করতে দেখা যাচ্ছে না তাদের। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক নেতা হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে ‘কৌশলী’ প্রচারণা চালাতে শুরু করেছেন বেশকিছু দিন আগে থেকেই। নির্বাচন ঘিরে নেতাকর্মীদেরও অনেকে যেন নতুন করে ‘প্রাণ’ ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পর থেকে কার্যত লালমনিরহাট জেলা জাতীয়পার্টির দলীয় কর্মকান্ড দুর্বল হতে থাকে। সেই ২০১২ পর্যন্ত বলতে গেলে দলটি জেলা কমিটি শূণ্য হয়ে পড়েছিল। তবে ২০১৩ সালের দিকে নতুন করে জেলা-উপজেলা কমিটি গঠন হতে শুরু করে।
লালমনিরহাট-১ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মেজর(অব.) খালেদ আখতারের নাম এরশাদ ঘোষনা করলেও নির্বাচনী কোনো কর্মকান্ডে তাকে এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। অপরদিকে হাতীবান্ধা উপজেলা জাপার আহবায়ক এমজি মোস্তফাকে ‘কোনো কারণ ছাড়াই’ অব্যাহতি করলে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতা এমজি মোস্তফার নেতাকর্মীদের আওয়ামীলীগে যোগদান করায় লালমনিরহাট-১ আসনে অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছে জাতীয় পার্টি।

প্রকাশ :  অক্টোবর ২৯, ২০১৮ ১২:৪৯ অপরাহ্ণ