১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:৩০

পুনরায় ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত

 

মোহাম্মদ মাকসুদুল হাসান ভূঁইয়া রাহুলঃ
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রকাশিত ফল বাতিল ঘোষণা করে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন শুধুমাত্র তারাই এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ডিনস কমিটির মিটিংয়ে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। মিটিং শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন শুধুমাত্র তারাই এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৮ হাজার ৪৬৩ জন। এবছর ‘ঘ’ ইউনিটে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯৫ হাজার ৩৪১ জন।

এদিকে গত ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। দেখা যায়, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের ৭২ টি প্রশ্নই মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এঘটনার পর পরীক্ষাটি বাতিল চেয়ে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা পরীক্ষা বাতিল ও পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে ক্যাম্পাসে মিছিল ও মানববন্ধন করেন। পরীক্ষা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিটও করা হয়। এমনকি আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী অনশন কর্মসূচিও পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে।

আজ মঙ্গলবার ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ও পরীক্ষার বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে চার দফা দাবিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে প্রশাসনিক ভবন পর্যন্ত মৌন পদযাত্রা ও উপাচার্য বরাবর স্মারক লিপি জমা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ঘ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে পুনরায় নেয়া অথবা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিশেষ ভর্তি পরীক্ষা নেয়া; ডিজিটাল জালিয়াতি, প্রশ্নফাঁস বা অসদুপায় অবলম্বনকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেয়া; সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে জালিয়াতি, প্রশ্নফাঁস বা অসদুপায়ের মাধ্যমে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া এবং আধুনিক, যুগোপযোগী ও মানসম্মত ভর্তি পরীক্ষার স্বার্থে পলিসি ডিবেটের আয়োজন করা।

এদিকে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গত ১৩ অক্টোবর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ভর্তি পরীক্ষার আগে প্রশ্নফাঁস হয়েছিল বলে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর অধিকতর তদন্তের স্বার্থে নতুন করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

প্রকাশ :  অক্টোবর ২৩, ২০১৮ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ